ফিনল্যান্ডে বাংলাদেশের শিক্ষা সমকালীন ভাবনা নিয়ে বিডিপিএফের আলোচনা

চলতি বৈশাখে ‘বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে সমকালীন ভাবনা’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল উন্মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ইন ফিনল্যান্ড (বিডিপিএফ)।  শনিবার (১৮ এপ্রিল) ফিনল্যান্ড সময় দুপুর ১২টা এবং বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার শুরুতে বিডিপিএফের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাই (সদস্য প্রোগ্রাম) এবং অধ্যাপক ড. জি এম আতিকুর রহমান (সদস্য সচিব)।  অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন বিডিপিএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুরে মওলা।  ‘বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে সমকালীন ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনায় বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শনের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। সমকালীন শিক্ষা নিয়ে সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘আধুনিক বর্তমান জগতে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার মতো শিক্ষার পাশাপাশি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার মাধ্যমে ইউনিফাইড শিক্ষাব্

ফিনল্যান্ডে বাংলাদেশের শিক্ষা সমকালীন ভাবনা নিয়ে বিডিপিএফের আলোচনা
চলতি বৈশাখে ‘বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে সমকালীন ভাবনা’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল উন্মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ইন ফিনল্যান্ড (বিডিপিএফ)।  শনিবার (১৮ এপ্রিল) ফিনল্যান্ড সময় দুপুর ১২টা এবং বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার শুরুতে বিডিপিএফের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাই (সদস্য প্রোগ্রাম) এবং অধ্যাপক ড. জি এম আতিকুর রহমান (সদস্য সচিব)।  অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন বিডিপিএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুরে মওলা।  ‘বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে সমকালীন ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনায় বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শনের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। সমকালীন শিক্ষা নিয়ে সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘আধুনিক বর্তমান জগতে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার মতো শিক্ষার পাশাপাশি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার মাধ্যমে ইউনিফাইড শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা অতি জরুরি। যে শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে, সেখানে আত্মা ও চিন্তার মেলবন্ধন প্রয়োজন।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা হবে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া।’  আলোচনায় অধ্যাপক ডক্টর মো. আব্দুল হাইয়ের প্রশ্ন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বিত শিক্ষা পদ্ধতি আছে কি এবং বিডিপিএফের নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ ড. মো. সানাউল হকের প্রশ্ন, বর্তমান উচ্চ শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যায়ে নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যেক শিক্ষকের অবশ্যই উচ্চতর ডিগ্রি থাকা উচিত?  জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বিত পদ্ধতি ব্যবহার করা নিয়ে আলোচনা খুব স্বীকৃত। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে আমি বিশ্বাস করি এবং উচ্চপর্যায়ে শিক্ষকদের ডক্টরাল ডিগ্রি থাকা উচিত।’ এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সিদ্ধান্ত নেবেন এবং সার্কুলার অর্থনীতি পাঠ্যসূচিতে সংযুক্ত করা নিয়ে আলোচনার কথা বলেন তিনি।  এ ছাড়া বিডিপিএফের নির্বাহী কমিটির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান সদস্য অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান ফারুকের প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেন, ‘বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে এসডিজির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে অবশ্যই বাংলাদেশ সরকার ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে Joint Research and Student Exchange Program-এর কথা ভাবছেন এবং প্রয়োজনে বিডিপিএফের সহযোগিতা কামনা করেন।’ বাংলাদেশে আলোচনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিজ্ঞানী, শিক্ষক, গবেষক, সমাজকর্মী, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।  উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন, অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান, অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ড. নূরুল আলম, অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান, গবেষক ড. কামরুল হোসেন, ফারুক, অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান সরকার, গবেষক ড. সুনিল কুণ্ডু, ইউআইটিএসের অধ্যাপক ড. ইশতিয়ার আরিফ, অধ্যাপক ড. কায়সার আলি, ড. শের- ই- খোদা, অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান, গবেষক ড. জুলিয়াস ফ্রান্সিস গোমেজ, গবেষক ড. এ কে এম সাইফুল্লাহ, গবেষক ড. সানাউল হক, গবেষক ড. শাকের আহমেদ, গবেষক ড. মীর সালাম, ড. মো. ফেরদৌস লিটন খাঁন, ড. শাহরিয়ার মাহমুদ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক যথাক্রমে ড. মো. আবুল হাশেম এবং ড. আহমদ খায়রুল হাসান, গবেষক লাবনি খাতুন, অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মান্নান, সফ্‌টওয়্যার প্রকৌশলী নূরুল হুদা রবিন, ওন্টোপ্রেনার মো. নাহিদুল ইসলাম ও এহসানুল হক, সাংবাদিক মনোয়ারা বেগম মনি, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিজেভি স্ট্রটবার্গ এবং উদ্যোক্তা ও গবেষক মো. আব্দুর রহমান (রাজু)।  বক্তারা প্রাণবন্তু আলোচনায় সম্মিলিতভাবে মত দেন, শিক্ষা একটি রাষ্ট্রের অঙ্গ নয় বরং একটি ভিত্তিস্বরূপ। তাই শিক্ষার সঠিক সংস্কারের সঙ্গে এবং নতুন সার্কুলার অর্থনীতির পাঠদান ও এক্সপার্টদের সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় কাজে লাগানো ছাড়া জাতিকে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow