ফ্ল্যাট শেয়ারিংয়ের নামে ‘রনি মাহমুদ’ সিন্ডিকেটের মহাপ্রতারণা
ঢাকায় ফ্ল্যাট শেয়ারিংয়ের নামে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। ফেসবুকে ‘আরএমডি বিল্ডার্স’ নামে একটি পেজ ব্যবহার করে ছাত্রলীগের রাজনীতি করা ‘রনি মাহমুদ’ সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মধ্যবিত্ত মানুষের স্বল্প টাকায় ঢাকার বুকে ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্নকে পুঁজি করে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ফেসবুকের নিউজফিডে প্রায়ই দেখা যায় আকর্ষণীয় সব বহুতল ভবনের ছবি ও ভিডিও। কোথাও নির্মাণকাজ চলছে, আবার কোথাও কাজ শেষ হওয়া ভবনের ঝকঝকে দৃশ্য। এসব পোস্টে দেওয়া থাকে লোভনীয় অফার ‘অল্প টাকায় ঢাকার বুকে নিজের ফ্ল্যাট’।
তদন্তে জানা গেছে, এসব প্রচারণার আড়ালে রয়েছে একটি সুসংগঠিত প্রতারণা চক্র, যার মূল হোতা হিসেবে রনি মাহমুদের নাম উঠে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা শহরের বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট কোম্পানির নির্মাণাধীন কিংবা সমাপ্ত প্রকল্পের সামনে গিয়ে এই চক্রের সদস্যরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। পরে সেগুলো নিজেদের ফেসবুক পেজে আপলোড করে দাবি করা হয় যে এগুলো তাদের নিজস্ব প্রকল্প। এভাবে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের একটি বড় ডেভেল
ঢাকায় ফ্ল্যাট শেয়ারিংয়ের নামে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। ফেসবুকে ‘আরএমডি বিল্ডার্স’ নামে একটি পেজ ব্যবহার করে ছাত্রলীগের রাজনীতি করা ‘রনি মাহমুদ’ সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মধ্যবিত্ত মানুষের স্বল্প টাকায় ঢাকার বুকে ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্নকে পুঁজি করে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ফেসবুকের নিউজফিডে প্রায়ই দেখা যায় আকর্ষণীয় সব বহুতল ভবনের ছবি ও ভিডিও। কোথাও নির্মাণকাজ চলছে, আবার কোথাও কাজ শেষ হওয়া ভবনের ঝকঝকে দৃশ্য। এসব পোস্টে দেওয়া থাকে লোভনীয় অফার ‘অল্প টাকায় ঢাকার বুকে নিজের ফ্ল্যাট’।
তদন্তে জানা গেছে, এসব প্রচারণার আড়ালে রয়েছে একটি সুসংগঠিত প্রতারণা চক্র, যার মূল হোতা হিসেবে রনি মাহমুদের নাম উঠে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা শহরের বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট কোম্পানির নির্মাণাধীন কিংবা সমাপ্ত প্রকল্পের সামনে গিয়ে এই চক্রের সদস্যরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। পরে সেগুলো নিজেদের ফেসবুক পেজে আপলোড করে দাবি করা হয় যে এগুলো তাদের নিজস্ব প্রকল্প। এভাবে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের একটি বড় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরা হয়। এরপর তারা পুরো ফ্ল্যাট কেনার সামর্থ্য নেই এমন মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতাদের টার্গেট করে ‘ফ্ল্যাট শেয়ারিং’ বা ‘জমির মালিকানায় অংশীদারিত্ব’ বিক্রির প্রলোভন দেখায়।
অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদের পুরো বিল্ডিংয়ের মালিক বা ডেভেলপার হিসেবে পরিচয় দেয়, যদিও বাস্তবে ওই প্রকল্পে তাদের কোনো আইনগত মালিকানা থাকে না। কখনো কখনো অন্য কোনো কোম্পানির প্রকল্পে সীমিত কমিশনভিত্তিক এজেন্ট হিসেবে যুক্ত থাকলেও গ্রাহকদের কাছে তা গোপন রাখা হয়। এভাবে বুকিং মানি ও কিস্তির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার পর শুরু হয় নানা ধরনের টালবাহানা।
পরে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে তাদের কোনো বৈধ মালিকানা বা কর্তৃত্বই নেই। ফলে প্রতারিত ক্রেতারা আইনি জটিলতায় পড়ে যান এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের পক্ষে টাকা ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রনি মাহমুদ ও তার সহযোগীরা রাজনৈতিক প্রভাব ও বিভিন্ন সংগঠনের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে থাকে। কেউ টাকা ফেরত চাইলে বা প্রকল্পের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের ৭ তারিখে ফেসবুকে দেওয়া একটি বিজ্ঞাপন দেখে ‘আরএমডি বিল্ডার্স’-এর একটি প্রকল্প পরিদর্শনে যান সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী। তাকে রাজধানীর বসুন্ধরা আই এক্সটেনশন এলাকায় একটি প্লট দেখানো হয় এবং প্রকল্পটি নিয়ে নানা ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়।
পরদিন বুকিং মানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাইফুল ইসলাম রনি মাহমুদকে একাধিকবার ফোন করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে তিনি সেই অফিসে গিয়ে খোঁজ নেন, যেখানে আগের দিন তাকে ডেকে নিয়ে কথা বলা হয়েছিল। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সেটি আসলে আরএমডি বিল্ডার্সের অফিস নয়; বরং সেটি রাইয়ান বিল্ডার্সের অফিস।
এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, সেদিন যদি রনি মাহমুদ তার ফোন ধরতেন, তাহলে তিনি সকালে গিয়ে বুকিং মানি দিয়ে আসতেন। তবে পরে নিজে খোঁজখবর নিয়ে যখন জানতে পারেন যে তারা একটি প্রতারক চক্র, তখন আর কোনো অর্থ লেনদেন করেননি।
তিনি আরও জানান, ওই অফিসে গিয়ে তার মতো আরও সাত থেকে আটজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে তার কথা হয়। তাদের অনেকেই রনি মাহমুদকে টাকা দেওয়ার পর আর তা ফেরত পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।
সাইফুল ইসলামের দাবি, পরে রনি মাহমুদ তাকে ফোন করলে তিনি জমির বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান। তখন রনি তাকে কয়েকটি অস্পষ্ট পিডিএফ ফাইল পাঠান, যেগুলো যাচাই করে তিনি বুঝতে পারেন সেগুলো মূলত জাল কাগজপত্র।
এ বিষয়ে জানতে রনি মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালবেলাকে বলেন, যারা আমার বিরুদ্ধে তথ্য দিয়েছে তারাও আমার সঙ্গে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতো। আমার বিরুদ্ধে আসা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।