বকেয়া পাওনার দাবিতে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের মানববন্ধন
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে গ্রামীণফোন লিমিটেডের সাবেক শ্রমিক কর্মচারীরা বকেয়া ন্যায্য পাওনা এবং ৫% ডব্লিউপিপিএফ (ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন অ্যান্ড প্রফিট ফান্ড) আদায়ের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানববন্ধন করেছেন। চালক, অফিস সহকারী, টেকনিশিয়ান, মেকানিক, লোডার, কুক, সাপোর্ট অফিসারসহ প্রায় বারোশত শ্রমিক কর্মচারী এই মানববন্ধনে অংশ নেন।বক্তারা অভিযোগ করেন, গ্রামীণফোন লিমিটেড প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিজস্ব নিয়োগ প্রক্রিয়া মোতাবেক এই শ্রমিকদের নিয়োগ দিলেও বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী নিয়োগপত্র প্রদান করেনি। তাদের দাবি, শ্রমিকদের আইনি পাওনা থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এমনটা করা হয়েছে। অফিস আইডি কার্ড দেওয়া হলেও তাতে যোগদানের তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। ন্যায্য শ্রম অধিকার থেকে বঞ্চিত করার হীন উদ্দেশ্যে বেআইনি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের বেতন-ভাতা গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এই আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের আড়ালে কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা প্রতি বছর কয়েকশত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। প্রতি বছর ১১% হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার কথা থাকলেও গ্রামীণফোন ল
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে গ্রামীণফোন লিমিটেডের সাবেক শ্রমিক কর্মচারীরা বকেয়া ন্যায্য পাওনা এবং ৫% ডব্লিউপিপিএফ (ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন অ্যান্ড প্রফিট ফান্ড) আদায়ের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানববন্ধন করেছেন। চালক, অফিস সহকারী, টেকনিশিয়ান, মেকানিক, লোডার, কুক, সাপোর্ট অফিসারসহ প্রায় বারোশত শ্রমিক কর্মচারী এই মানববন্ধনে অংশ নেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গ্রামীণফোন লিমিটেড প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিজস্ব নিয়োগ প্রক্রিয়া মোতাবেক এই শ্রমিকদের নিয়োগ দিলেও বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী নিয়োগপত্র প্রদান করেনি। তাদের দাবি, শ্রমিকদের আইনি পাওনা থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এমনটা করা হয়েছে। অফিস আইডি কার্ড দেওয়া হলেও তাতে যোগদানের তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। ন্যায্য শ্রম অধিকার থেকে বঞ্চিত করার হীন উদ্দেশ্যে বেআইনি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের বেতন-ভাতা গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এই আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের আড়ালে কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা প্রতি বছর কয়েকশত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। প্রতি বছর ১১% হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার কথা থাকলেও গ্রামীণফোন লি. কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের প্রতি উদাসীন ছিল।
শ্রমিকরা আরও জানান, গ্রামীণফোন একটি বহুজাতিক কোম্পানি হওয়া সত্ত্বেও কথায় কথায় ছাঁটাই, সাময়িক বরখাস্ত, ১৫ দিনের বেতন কর্তন এবং শাস্তি হিসেবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সিকিউরিটি কন্ট্রোল রুমের সামনে বসিয়ে রাখার মতো অমানবিক নির্যাতন করা হতো। এমনকি ওয়াশরুম ব্যবহারের জন্যও কোম্পানির প্রতিনিধির অনুমতির প্রয়োজন হতো। ইনক্রিমেন্ট ২০% দেওয়ার কথা বলে বেতন মাত্র ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।
এই অমানবিক পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে শ্রমিকরা ঢাকা শ্রম আদালতে প্রায় ৪৬৫টি মামলা দায়ের করেন (যার নম্বর ৩৪৩/২০০৮ইং)। তখন গ্রামীণফোন লি. ম্যানেজমেন্ট গুলশানের নিলয় ম্যানশনে শ্রমিকদের সঙ্গে একটি মিটিংয়ের আয়োজন করে। মিটিংয়ে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ বারোশত শ্রমিকের অবশিষ্টদের মামলা না করার আশ্বাস দেয় এবং বলে যে, শ্রম আদালতে দায়ের করা মামলাগুলোর যেই সিদ্ধান্ত আসবে, সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবাইকে সকল সুবিধাদি প্রদান করা হবে।
পরবর্তীতে ২০১১ সালের ৩০/০৩/২০১১ইং তারিখে শ্রম আদালত শ্রমিকদের পক্ষে রায় প্রদান করে (মামলা নম্বর ৩৪০/২০০৮ইং)। কিন্তু গ্রামীণফোন লি. তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ায় এবং এখন পর্যন্ত শ্রমিকরা তাদের বকেয়া পাওনার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
গ্রামীণফোন লি. কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত না করায় শ্রমিক কর্মচারীরা ঢাকা শ্রম আদালতে ১৩২ ধারায় পাওনা আদায়ের জন্য নতুন করে মামলা দায়ের করেছেন (যার নম্বর ৪৯০/২০২৩, ৫৫৩/২০২৫, ৫৫৪/২০২৫)।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, গ্রামীণফোনের শ্রমিক কর্মচারীরা সম্পূর্ণ পাওনা বুঝে না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমতাবস্থায় বকেয়া পাওনা আদায়ের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং সংশ্লিষ্টদের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের তাদের লেখনীর মাধ্যমে গ্রামীণফোন লি. থেকে ন্যায্য পাওনা আদায়ের পথ সুগম করতে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।
What's Your Reaction?