বগুড়ায় ডিবি হেফাজতে আসামির আত্মহত্যা

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর চালককে হত্যা মামলার এক আসামি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশের দাবি, রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে মো. আসাদ (৩০) হাজতখানার বাথরুমে যান। সিসিটিভি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাইরে আসছেন না। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে দেখতে পান, তিনি নিজের পরনের লুঙ্গি গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নিহত আসামি মো. আসাদ (৩০) সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা মধ্য উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এই এলাকার মতি মুন্সির ছেলে। আরও পড়ুন ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণ মামলায় তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন গত ২৯ জুন সকালে সারিয়াকান্দি উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের কৈ-খালি বিলের পাশ থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আব্দুল মান্নান মোল্লার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আব্দুল মান্নান গাবতলী উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের গেদা মুন্নার ছেলে। এ ঘটনায় সারিয়াকান্দি থানায় ১ জুলাই মামলা (নং-১) দায়ের করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৯৪/৩০২/২০১/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুলাই দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে বগুড়া রেলওয়ে

বগুড়ায় ডিবি হেফাজতে আসামির আত্মহত্যা

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর চালককে হত্যা মামলার এক আসামি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশের দাবি, রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে মো. আসাদ (৩০) হাজতখানার বাথরুমে যান। সিসিটিভি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাইরে আসছেন না। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে দেখতে পান, তিনি নিজের পরনের লুঙ্গি গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত আসামি মো. আসাদ (৩০) সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা মধ্য উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এই এলাকার মতি মুন্সির ছেলে।

গত ২৯ জুন সকালে সারিয়াকান্দি উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের কৈ-খালি বিলের পাশ থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আব্দুল মান্নান মোল্লার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আব্দুল মান্নান গাবতলী উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের গেদা মুন্নার ছেলে।
এ ঘটনায় সারিয়াকান্দি থানায় ১ জুলাই মামলা (নং-১) দায়ের করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৯৪/৩০২/২০১/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুলাই দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে মো. আসাদকে আটক করা হয়। পরে তাকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনি ছাড়াও আরও দুজন জড়িত রয়েছেন।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামিদের গ্রেফতারে ডিবির একটি দল তাকে সঙ্গে নিয়ে নওগাঁ জেলায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান শেষে রাতে তাকে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে ফিরে আসে পুলিশ। রাতে খাবার খেয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন।

পুলিশের দাবি, রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে আসাদ হাজতখানার বাথরুমে যান। সিসিটিভি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাইরে আসছেন না। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে দেখতে পান, তিনি নিজের পরনের লুঙ্গি গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বর্তমানে মরদেহ মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে রাখা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আরএমও রাশেদুল ইসলাম রনি আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের এখানে আসার পর দেখতে পেয়েছি তার গলায় একটি চিহ্ন ছিল। তাছাড়া শরীরের অন্য কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাতে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, সারিয়াকান্দি থানায় সিএনজি ছিনতাই ও চালক হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ডিবি হেফাজতে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করেছেন। সকালে বাথরুমে ঢুকে তিনি নিজের লুঙ্গি দিয়ে ভেন্টিলেটরের রডের সঙ্গে ফাঁস লাগানোর চেষ্টা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন বৌবাজার এলাকা থেকে তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি একটি সিএনজি ভাড়া করে সারিয়াকান্দি যায়। সেখানে চালককে হত্যা করে তারা সিএনজিটি ছিনতাই করে। এই ঘটনার মূল আসামি আসাদকে গতকাল মধ্যরাতে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেন। আজ আদালতে তার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার কথা ছিল।

এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত আছে এবং মামলার বাকি দুই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এফএ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow