বজ্রপাত রোধে ৫৫টি তাল ও সুপারি গাছ রোপণ
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের তাৎপর্যকে সামনে রেখে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বজ্রপাতজনিত ঝুঁকি হ্রাসে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির উদ্যোগে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে ৫৫টি তাল ও সুপারি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয়েছে ‘থান্ডার সেফ বাংলাদেশ’ প্রকল্পের। স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতীকীভাবে ৫৫টি চারা রোপণ করা হয়। আয়োজকদের মতে, এটি শুধু বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়; বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলনের সূচনা। বাংলাদেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বিশেষ করে হাওর ও খোলা মাঠপ্রধান অঞ্চলে। গবেষণায় দেখা গেছে, তালগাছসহ উঁচু বৃক্ষ বজ্রপাতের শক্তি ধারণ করে প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এসব গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আরও পড়ুনমাগুরায় হারিয়ে যাচ্ছে দেশি জাতের খেজুর বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন জানায়, ‘থান্ডার সেফ বাংলাদেশ’ প্রকল্
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের তাৎপর্যকে সামনে রেখে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বজ্রপাতজনিত ঝুঁকি হ্রাসে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির উদ্যোগে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে ৫৫টি তাল ও সুপারি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয়েছে ‘থান্ডার সেফ বাংলাদেশ’ প্রকল্পের।
স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতীকীভাবে ৫৫টি চারা রোপণ করা হয়। আয়োজকদের মতে, এটি শুধু বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়; বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলনের সূচনা।
বাংলাদেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বিশেষ করে হাওর ও খোলা মাঠপ্রধান অঞ্চলে। গবেষণায় দেখা গেছে, তালগাছসহ উঁচু বৃক্ষ বজ্রপাতের শক্তি ধারণ করে প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এসব গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন জানায়, ‘থান্ডার সেফ বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় বর্ষা মৌসুমের পর সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে ৫ হাজার তাল, নারিকেল ও সুপারি গাছ রোপণ করা হবে। স্থানীয় জনগণ, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আছে।
বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাসফিকুল হাসান টনি বলেন, ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আমরা শুধু গাছ লাগাচ্ছি না, আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি স্থাপন করছি। থান্ডার সেফ বাংলাদেশ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলাকে একসঙ্গে যুক্ত করেছি। তাল, নারিকেল ও সুপারি গাছ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, এগুলো গ্রামীণ জনপদে বজ্রপাতের ক্ষতি কমাতেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ৫৫টি চারা রোপণ আমাদের প্রতীকী অঙ্গীকার। আগামী দিনে এই সংখ্যা হাজারে পৌঁছাবে। আমরা চাই দেশের প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সবুজ সুরক্ষা বলয় গড়ে উঠুক, যাতে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মানুষের জীবনও সুরক্ষিত থাকে। থান্ডার সেফ বাংলাদেশ হবে পরিবেশ, নিরাপত্তা ও জনসচেতনতার সমন্বিত একটি জাতীয় উদ্যোগের মডেল।’
স্থানীয় বাসিন্দারা এ কর্মসূচিকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতের ভয়াবহতা কমাতে এবং পরিবেশকে আরও সবুজ করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শুরু হওয়া ‘থান্ডার সেফ বাংলাদেশ’ প্রকল্প শুধু একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়; এটি প্রকৃতিকে রক্ষা করে মানুষকে সুরক্ষিত রাখার নতুন প্রত্যয়ের নাম। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ৫৫টি চারার মাধ্যমে যে যাত্রা শুরু হলো; তা ভবিষ্যতে একটি বৃহৎ সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথ তৈরি করবে।
এসইউ
What's Your Reaction?