বন্দরের ইজারার প্রক্রিয়া বন্ধে সরকারকে সুস্পষ্ট ঘোষণার দাবি

বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে প্রতীকী গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি। শনিবার (১৮ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে সকাল ১১টা থেকে গণঅনশন শুরু হয়। অনশন কর্মসূচি থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে জানিয়ে আগামী ২২ জুলাই সন্ধ্যায় চেরাগী পাহাড় মোড় থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত মশাল মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। বিকেল ৩টায় কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন অংশগ্রহণকারীদের শরবত পান করিয়ে প্রতীকী গণঅনশন ভঙ্গ করান। এ সময় কবি আবুল মোমেন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কেবল একটি বন্দর নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। দেশের আমদানি-রপ্তানির সিংহভাগ এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই এই বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত সংবেদনশীল। চট্টগ্রাম বন্দরকে জাতীয় গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে এই প্রবীণ সাংবাদিক আরও বলেন, এই বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করতে হলে নিজস্ব জনবল, প্রযু

বন্দরের ইজারার প্রক্রিয়া বন্ধে সরকারকে সুস্পষ্ট ঘোষণার দাবি

বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে প্রতীকী গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি। শনিবার (১৮ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে সকাল ১১টা থেকে গণঅনশন শুরু হয়।

অনশন কর্মসূচি থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে জানিয়ে আগামী ২২ জুলাই সন্ধ্যায় চেরাগী পাহাড় মোড় থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত মশাল মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। বিকেল ৩টায় কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন অংশগ্রহণকারীদের শরবত পান করিয়ে প্রতীকী গণঅনশন ভঙ্গ করান।

এ সময় কবি আবুল মোমেন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কেবল একটি বন্দর নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। দেশের আমদানি-রপ্তানির সিংহভাগ এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই এই বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত সংবেদনশীল।

চট্টগ্রাম বন্দরকে জাতীয় গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে এই প্রবীণ সাংবাদিক আরও বলেন, এই বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করতে হলে নিজস্ব জনবল, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না; বরং ভবিষ্যতে জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। জনগণের শান্তিপূর্ণ এই প্রতিবাদের প্রতি সরকারকে সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে এনসিটি ও সিসিটি ইজারার প্রক্রিয়া বন্ধের সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনার সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, দক্ষ জনবল, অভিজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দীর্ঘদিনের পরিচালনাগত অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সরকার যদি জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে এগোয়, তবে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে। জাতীয় সম্পদ রক্ষার সংগ্রামে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকা এবং দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। এই বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের মতামত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

বন্দর রক্ষা কমিটির এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয় দাবি করে বক্তারা বলেন, এটি দেশের স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন। চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান প্রবেশদ্বার এবং জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। দেশের জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে লাভজনক টার্মিনাল ইজারা দেওয়া হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সিবিএর সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি কমরেড অশোক সাহা, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow