বরখাস্তের পরও স্কুল পরিচালনা করছেন প্রধান শিক্ষক

আদালতের নির্দেশে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও সেই আদেশ উপেক্ষা করে নিয়মিত বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম।  এ ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পরোক্ষ সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পাবনা সদর উপজেলার দড়িভাউডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একটি ফৌজদারি মামলায় গত ৩ জুন জামিন নামঞ্জুর হলে মো. জহুরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ৯ জুন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর স্বাক্ষরিত আদেশে তাকে ৩ জুন থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী, সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর কিংবা দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি কেবল বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাওয়ার যোগ্য। এদিকে মঙ্গলবার (৩০ জুন) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা

বরখাস্তের পরও স্কুল পরিচালনা করছেন প্রধান শিক্ষক

আদালতের নির্দেশে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও সেই আদেশ উপেক্ষা করে নিয়মিত বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম। 

এ ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পরোক্ষ সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পাবনা সদর উপজেলার দড়িভাউডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একটি ফৌজদারি মামলায় গত ৩ জুন জামিন নামঞ্জুর হলে মো. জহুরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ৯ জুন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর স্বাক্ষরিত আদেশে তাকে ৩ জুন থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী, সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর কিংবা দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি কেবল বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাওয়ার যোগ্য।

এদিকে মঙ্গলবার (৩০ জুন) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুনসুর আলম লিখিত অভিযোগ দিয়ে দাবি করেন, বরখাস্তের পরও জহুরুল ইসলাম বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং এতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা সহযোগিতা করছেন।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বরখাস্তের পর অভিযুক্ত শিক্ষককে সব প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অনুমতি নিয়েই তিনি বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন বলে তিনি জেনেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাফিয়া আক্তার অপু বলেন, ‘তাকে তো বেতন দেওয়া হচ্ছে না। বিদ্যালয়ে গিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করলে সমস্যা কোথায়?’ তবে সরকারি চাকরি আইন এ ধরনের অনুমতির সুযোগ দেয় কি না—এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর বলেন, ‘যে শিক্ষককে কাজের অনুপযুক্ত বিবেচনা করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তাকে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়ার কোনো বিধান নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow