বরিশালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে মানববন্ধন, র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
বরিশালে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন, র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান কোস্ট ফাউন্ডেশন, জিআইজেড-এর কারিগরি সহযোগিতায় 'ন্যায় বিচারে প্রবেশাধিকার' প্রকল্পের আয়োজনে নগরীর টাউন হলের সামনে মানববন্ধন শেষে একটি র্যালি শহীদ মিনারে পৌঁছায়। এরপর কোস্ট বরিশাল সেন্টারে একটি আলোচনা ও করণীয় বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় উপস্থিত ছিলেন বিডিএস, সেইন্ট বাংলাদেশ, আইসিডিএ, বাকেরগঞ্জ ফোরাম, ব্লাস্ট, বিডি-সিএসও, সিডিপি-বরিশাল, বাসাস, পল্লী ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, প্রেয়সী বাংলা, ম্যাপস, দ্যা হাঙ্গার প্রোজেক্ট-এর কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রেস্টরোটিভ জাস্টিস, কমিউনিটি প্যারালিগ্যাল, জনসংগঠন, ছাত্র প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দ ও যুগ্ম পরিচালক ইকবাল উদ্দিন। সভাটি সঞ্চালনা করেন মো. জহিরুল ইসলাম। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল: "সকল নারী ও কন্যা শিশুর জন্য অধিকার, ন্যায়বিচার ও কার্যকর পদক্ষেপ।"সভায় বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় 'সকল নারী ও কন্যাশিশুর জন্য অধিকা
বরিশালে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন, র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান কোস্ট ফাউন্ডেশন, জিআইজেড-এর কারিগরি সহযোগিতায় 'ন্যায় বিচারে প্রবেশাধিকার' প্রকল্পের আয়োজনে নগরীর টাউন হলের সামনে মানববন্ধন শেষে একটি র্যালি শহীদ মিনারে পৌঁছায়। এরপর কোস্ট বরিশাল সেন্টারে একটি আলোচনা ও করণীয় বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিডিএস, সেইন্ট বাংলাদেশ, আইসিডিএ, বাকেরগঞ্জ ফোরাম, ব্লাস্ট, বিডি-সিএসও, সিডিপি-বরিশাল, বাসাস, পল্লী ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, প্রেয়সী বাংলা, ম্যাপস, দ্যা হাঙ্গার প্রোজেক্ট-এর কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রেস্টরোটিভ জাস্টিস, কমিউনিটি প্যারালিগ্যাল, জনসংগঠন, ছাত্র প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দ ও যুগ্ম পরিচালক ইকবাল উদ্দিন। সভাটি সঞ্চালনা করেন মো. জহিরুল ইসলাম। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল: "সকল নারী ও কন্যা শিশুর জন্য অধিকার, ন্যায়বিচার ও কার্যকর পদক্ষেপ।"
সভায় বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় 'সকল নারী ও কন্যাশিশুর জন্য অধিকার, ন্যায়বিচার ও কার্যকর পদক্ষেপ' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে নারীর ক্ষমতায়ন, প্রযুক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ এবং টেকসই উন্নয়নে নারীর নেতৃত্ব বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়। বর্তমান বিশ্বে নারী শুধু পরিবার পরিচালনায় নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনা, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিজ্ঞান, প্রশাসন ও ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাই সময় এসেছে নারীকে গুরুত্ব দেওয়া ও তাদের অধিকার নিশ্চিত করা।
তারা আরও বলেন, নারী দিবসের গুরুত্ব বহুমাত্রিক। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নারীরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নানা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। এই দিবস নারী-পুরুষ সমতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এবং সমাজকে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক করার আহ্বান জানায়। এটি নারীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারী দিবস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের দেশে নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং স্থানীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তবুও বাল্যবিবাহ, সহিংসতা ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের মতো সমস্যা এখনো বিদ্যমান। তাই নারী দিবস কেবল আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়, বরং বাস্তব পরিবর্তনের অঙ্গীকার গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।
যুগ্ম পরিচালক ইকবাল উদ্দিন বলেন, নারীদের অধিকার রক্ষায় তাদের পৈতৃক সম্পত্তি সঠিকভাবে ভোগ করার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হওয়া থেকে শিশু ও নারীদের রক্ষা করতে হবে, তাই মেয়ে শিশুদের যে কারো জিম্মায় দেওয়া যাবে না। তারা যাতে কোনো প্রকার যৌন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং শিশুদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, কোস্ট ফাউন্ডেশন আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন করে থাকে। নারীদের পরিবর্তনে নারীদেরই এগিয়ে আসতে হবে। পারিবারিক সহিংসতা বন্ধে সচেতন হতে হবে এবং নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। নারীদের অগ্রগতির জন্য সামগ্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি এবং কোস্ট ফাউন্ডেশন সবসময় এই বিষয়ে উদার।
সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদ ও বরিশালের এনজিও নেটওয়ার্ক-এর সাধারণ সম্পাদক শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, নারী দিবসে নারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। নারীদের নিরাপত্তা বিধানে আমাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যায়কারীরা সংখ্যায় বেশি না, তাই আমাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সভা শেষে ন্যায় বিচারে নারীর প্রবেশাধিকারে ভূমিকা পালন করার জন্য রেস্টরেটিভ জাস্টিস ও জনসংগঠনের ৪ জনকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। তারা হলেন, আলাউদ্দিন, মনোয়ারা বেগম, সীমা বেগম ও ইসমতআরা বেগম।
What's Your Reaction?