বরিশালে একযোগে ৪ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, কর্মচারী বরখাস্ত
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালসহ একযোগে চারটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি ঘুরে ঘুরে হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, চিকিৎসা-সেবা এবং খাবারের মান যাচাই করেন। এসময় হাসপাতালগুলোতে অব্যবস্থাপনা, দালাল চক্রের উপস্থিতি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে যথাসময় কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও মিথ্যা বলায় এক কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সোমবার (১১ মে) সকাল থেকে দিনভর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ও নির্মাণাধীন ক্যানসার এবং হৃদ্রোগ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। প্রথমে তিনি বরিশাল সদর হাসপাতালে টিকিট কাউন্টার পরিদর্শন করেন। সেখানে দায়িত্বে থাকা এক কর্মীকে অনুপস্থিত পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি চিকিৎসকদের হাজিরা খাতা পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শন শেষে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমি বরিশাল সম্পর্কে অনেক কি
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালসহ একযোগে চারটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি ঘুরে ঘুরে হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, চিকিৎসা-সেবা এবং খাবারের মান যাচাই করেন।
এসময় হাসপাতালগুলোতে অব্যবস্থাপনা, দালাল চক্রের উপস্থিতি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে যথাসময় কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও মিথ্যা বলায় এক কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সোমবার (১১ মে) সকাল থেকে দিনভর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ও নির্মাণাধীন ক্যানসার এবং হৃদ্রোগ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
প্রথমে তিনি বরিশাল সদর হাসপাতালে টিকিট কাউন্টার পরিদর্শন করেন। সেখানে দায়িত্বে থাকা এক কর্মীকে অনুপস্থিত পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি চিকিৎসকদের হাজিরা খাতা পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শন শেষে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমি বরিশাল সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছিলাম। তাই পরিস্থিতি সরাসরি দেখতে এসেছি। পরিদর্শনকালে জেনারেল হাসপাতালে একজন কর্মীকে অনুপস্থিত পেয়ে তার চাকরি বন্ধ করে দিয়েছি। আমি এমনটা করতাম না, কিন্তু সে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছিল। উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও সে বলেছিল যে, সে এসেছে। মিথ্যা বলার কারণেই আমি তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছি।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল পরিদর্শনকালে কয়েকটি জায়গায় বহির্বিভাগে চিকিৎসকরা দেরিতে আসেন। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়টি হলো, স্থানীয় ক্লিনিকগুলোর সঙ্গে যুক্ত কিছু দালাল এখানে এসে রোগীদের হাসপাতাল থেকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যায়। আমি এই দালালদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার জন্য গোয়েন্দা নজরদারির নির্দেশ দিয়েছি। প্রয়োজনে এখানে সক্রিয় সকল দালালকে গ্রেপ্তার করা হবে।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশকে বড় সমস্যা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আরেকটি বড় সমস্যা হলো হাসপাতালের ভেতরে বিপুল পরিমাণ আবর্জনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। আমি কর্তৃপক্ষকে আগামীকালের (১২ মে) মধ্যে হাসপাতাল পরিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছি।
জনবল ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ কর্মী নিয়োগ দিতে যাচ্ছি। বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসন আমাদের জন্য অর্থ বা সম্পদ কিছুই রেখে যায়নি। ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল, কিন্তু কোনো জনবল ছিল না। কোনো চিকিৎসকও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এই সমস্যাগুলো রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। আমরা এগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।’
হাম পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, যেসব শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে উঠতে প্রায় চার সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর হামের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা যাচ্ছে। সাধারণত চার বছর পরপর হামের টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও ২০২০ সালের পর সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। এর ফলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় হামের কোনো ভ্যাকসিন মজুত ছিল না। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এখন রোগীর সংখ্যাও কিছুটা কমতে শুরু করেছে। আমাদের কাছে এখন দুই বছরের টিকা মজুত রয়েছে। সমস্ত টিকা আমাদের হাতে রয়েছে। ১ কোটি ২০ লক্ষ টিকা আজকেও আসছে।
মন্ত্রী বলেন, ১১ হাজার মানুষের পেছনে একজন ডাক্তার। বিগত সরকার ডাক্তার নেয়নি। অপরিকল্পিত প্ল্যান দিয়ে টাকা লুটপাট করেছে। আমরা এখন স্পেশাল বিসিএসের মাধ্যমে ডাক্তার নিচ্ছি। এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী আমরা নিচ্ছি। মানুষের কাছে যাতে জবাবদিহি না করতে হয় সেজন্য প্রত্যেকটি ঘরে আমরা সেবা পৌঁছে দিতে চাই।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বরিশাল শিশু হাসপাতাল চালুর জন্য কী কী প্রয়োজন তার নোট নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বসে তাকে অবহিত করে শিশু হাসপাতালটি খুব দ্রুত প্রধানমন্ত্রীকে এনে উদ্বোধন করব। এছাড়া ক্যানসার হাসপাতালের ভবনটি পরিদর্শন করে দেখেছি, এ ভবনের কাজ শেষ করতে আরও ছয় মাস লাগবে। বিগত সরকার লুটপাট করে গেছে, কোনো টাকা নেই। বাজেটের পর আমরা এই মাসের ভেতরে সরঞ্জাম কিনে ফেলব। আশা করছি, আগস্টের মধ্যে শিশু হাসপাতালটি চালু করব।
ইউনিসেফ কান্ট্রি চিফের দেওয়া বক্তব্য উল্লেখ করে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তার বক্তব্যে বলেছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এবার বাংলাদেশ সরকার যে তড়িত গতিতে এতগুলো টিকা সংগ্রহ করে হাম মোকাবিলা করতে পেরেছে, এটার ক্রেডিট গভর্নমেন্টের।
দিনভর হাসপাতাল পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
What's Your Reaction?