বাংলাদেশের ব্যাটাররা স্লো নয়, টেস্ট উপযোগী ব্যাটিংই করেছে

টেস্ট ক্রিকেট হচ্ছে সময়ের ‘পরীক্ষা’। মানে যখন যেমন দরকার, তা করার নামই টেস্ট। এ কারণেই টেস্ট ক্রিকেট মানেই শুধু ধৈর্য ধরে উইকেট আঁকড়ে পড়ে থাকা এবং স্লথ ব্যাটিং করা নয়। কখনো কখনো টেস্ট ক্রিকেটেও হাত খুলে খেলার প্রয়োজন হয়। হাত খুলে বেপরোয়া না হলেও সময়ের প্রয়োজন মেটাতে রানচাকা সচল রাখা জরুরি হয়ে পড়ে। ঢাকা টেস্ট যারা খুব মন দিয়ে দেখছেন, খেয়াল করছেন, তারা সবাই মনে করছেন বাংলাদেশের উভয় ইনিংসেই আর একটু দ্রুত রান করায় মনোযোগী হওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে মুমিনুল হক আর মুশফিকুর রহিম প্রথম ইনিংসে যে স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছেন, তার চেয়ে অনায়াসে আরও দ্রুত রান তুলতে পারতেন। বলে রাখা ভালো, মুমিনুল প্রথম ইনিংসে ৯১ রান করতে খেলেছেন ২০০ বল। স্ট্রাইক রেট ছিল ৪৫.০০। আর মুশফিকুর রহিমের ৭১ রান করতে খেলতে হয়েছে ১৭৯ বল। স্ট্রাইক রেট মুমিনুলের চেয়েও অনেক কম (৩৯.৬৬)। তবুও সেটা নিয়ে তেমন কথা ওঠেনি। কিন্তু এবার দ্বিতীয় ইনিংসে যখন বাংলাদেশের একটু দ্রুত রান তোলা জরুরি হয়ে উঠেছে, তখনও মুমিনুল খেললেন দুলকি চালে। দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি করা মুমিনুলের ব্যাট থেকে যে ৫৬ রানের ইনিংস বেরিয়ে এসেছে, সেটার স্ট্রাইক রেটও প্রথম ইনি

বাংলাদেশের ব্যাটাররা স্লো নয়, টেস্ট উপযোগী ব্যাটিংই করেছে

টেস্ট ক্রিকেট হচ্ছে সময়ের ‘পরীক্ষা’। মানে যখন যেমন দরকার, তা করার নামই টেস্ট।

এ কারণেই টেস্ট ক্রিকেট মানেই শুধু ধৈর্য ধরে উইকেট আঁকড়ে পড়ে থাকা এবং স্লথ ব্যাটিং করা নয়। কখনো কখনো টেস্ট ক্রিকেটেও হাত খুলে খেলার প্রয়োজন হয়। হাত খুলে বেপরোয়া না হলেও সময়ের প্রয়োজন মেটাতে রানচাকা সচল রাখা জরুরি হয়ে পড়ে।

ঢাকা টেস্ট যারা খুব মন দিয়ে দেখছেন, খেয়াল করছেন, তারা সবাই মনে করছেন বাংলাদেশের উভয় ইনিংসেই আর একটু দ্রুত রান করায় মনোযোগী হওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে মুমিনুল হক আর মুশফিকুর রহিম প্রথম ইনিংসে যে স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছেন, তার চেয়ে অনায়াসে আরও দ্রুত রান তুলতে পারতেন।

বলে রাখা ভালো, মুমিনুল প্রথম ইনিংসে ৯১ রান করতে খেলেছেন ২০০ বল। স্ট্রাইক রেট ছিল ৪৫.০০। আর মুশফিকুর রহিমের ৭১ রান করতে খেলতে হয়েছে ১৭৯ বল। স্ট্রাইক রেট মুমিনুলের চেয়েও অনেক কম (৩৯.৬৬)।

তবুও সেটা নিয়ে তেমন কথা ওঠেনি। কিন্তু এবার দ্বিতীয় ইনিংসে যখন বাংলাদেশের একটু দ্রুত রান তোলা জরুরি হয়ে উঠেছে, তখনও মুমিনুল খেললেন দুলকি চালে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি করা মুমিনুলের ব্যাট থেকে যে ৫৬ রানের ইনিংস বেরিয়ে এসেছে, সেটার স্ট্রাইক রেটও প্রথম ইনিংসেরই মতো (১২০ বলে ৪৬.৬৬ স্ট্রাইক রেটে ৫৬)। নাজমুল হোসেন শান্তও যে খুব দ্রুত, মানে সময়ের প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্যে ব্যাট চালিয়েছেন এমন নয়। শান্তর ৫৮ রানের হার না মানা ইনিংসটি খেলতে লেগেছে ১০৫ বল (৫৫.২৩ স্ট্রাইক রেটে)।

দুজন উইলোবাজ ওই স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করায় বাংলাদেশের রান তোলার গতি গেছে কমে। আর তাই টাইগারদের টার্গেট পূরণ করাটাও কঠিন হয়ে গেছে।

ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল জানিয়ে দিলেন, তাদের (টিম বাংলাদেশের) টার্গেট হলো শেষদিন সকালে হাত খুলে ঘণ্টাখানেক সময়ে আরও ৮০ থেকে ১০০ রানের মতো করে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে নামানো। তাতেই পাকিস্তানিদের সামনে টার্গেট দাঁড়াবে ২৬০ প্লাস এবং সেটা করতে হবে ৭০ এর বেশি ওভারে।

খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, বাংলাদেশ কেন শেষদিন সকালে হাত খুলে ব্যাট করার ঝুঁকি নিতে যাচ্ছে? কেন আজ চতুর্থ দিন দ্বিতীয় ইনিংসে আর একটু হাত খুলে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করা হলো না? এটা কি সীমাবদ্ধতা বা ঘাটতি নয়?

টাইগার ব্যাটিং কোচ আশরাফুল অবশ্য এই প্রশ্নের জবাবে খানিক রক্ষণাত্মক। তার ব্যাখ্যা, ‘আসলে টেস্ট ক্রিকেটে যেমন ব্যাটিং প্রয়োজন, আমাদের ব্যাটাররা তেমন ব্যাটিং করেছে।’ তার মতে উইকেটও নাকি ততটা ব্যাটিং-সহায়ক ছিল না। আশরাফুলের কথা, ‘বৃষ্টির ওপর তো আর আমাদের হাত নেই।’

এআরবি/আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow