বাজেটে কর স্থিতিশীলতা ও নিয়ন্ত্রণ শিথিলের বার্তা দেওয়া হয়েছে: বিডা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দীর্ঘমেয়াদি কর স্থিতিশীলতা, নিয়ন্ত্রণ শিথিল ও কৌশলগত খাতভিত্তিক প্রণোদনার মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। সংস্থাটির দাবি, তাদের ১৭টি খাতভিত্তিক ও নীতিগত সুপারিশের মধ্যে ১৪টি এবং ১৯টি নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ প্রস্তাবের মধ্যে ১২টি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিনিয়োগ ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে জাতীয় বাজেটে নেওয়া বিনিয়োগ-সংক্রান্ত পদক্ষেপ তুলে ধরে বিডা। এতে বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিডা। ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আহসান হাবিব। স্বাগত বক্তব্য দেন বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি। বিডা ও এনবিআরের কর্মকর্তারা যৌথভাবে বাজেটের বি
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দীর্ঘমেয়াদি কর স্থিতিশীলতা, নিয়ন্ত্রণ শিথিল ও কৌশলগত খাতভিত্তিক প্রণোদনার মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।
সংস্থাটির দাবি, তাদের ১৭টি খাতভিত্তিক ও নীতিগত সুপারিশের মধ্যে ১৪টি এবং ১৯টি নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ প্রস্তাবের মধ্যে ১২টি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিনিয়োগ ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে জাতীয় বাজেটে নেওয়া বিনিয়োগ-সংক্রান্ত পদক্ষেপ তুলে ধরে বিডা। এতে বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিডা।
ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আহসান হাবিব। স্বাগত বক্তব্য দেন বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি।
বিডা ও এনবিআরের কর্মকর্তারা যৌথভাবে বাজেটের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন। তারা জানান, এবারের বাজেটে তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে- নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, দীর্ঘমেয়াদি কর স্থিতিশীলতা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা।
উপস্থাপনায় বলা হয়, সিঙ্গেল উইন্ডোর মাধ্যমে ব্যবসায়িক অনুমোদনে ১৪ দিনের সেবা নিশ্চয়তা, নির্ধারিত সময়সীমা পার হলে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন, বন্ড লাইসেন্সের মেয়াদ তিন বছর করা ও বন্ড সুবিধার পরিধি সম্প্রসারণের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর ব্যবস্থার আওতায় দ্রুত শুল্ক ছাড়ের সুযোগ বাড়ানো এবং বেসরকারি পরীক্ষাগারের পরীক্ষার প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য করার বিধান রাখা হয়েছে।
কর প্রশাসন সহজ করতে মুনাফা প্রত্যাবাসনের সময়সীমা নির্ধারণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই প্রত্যাবাসনের সীমা বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলক ইলেকট্রনিক ভ্যাট ফাইলিং, স্বয়ংক্রিয় বিআইএন ইস্যু ও রিফান্ড এবং নিরীক্ষা এক বছরের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে প্রয়োজনীয় অগ্রিম জমার পরিমাণও কমানো হয়েছে।
এছাড়া শুল্কমুক্ত আমদানিকৃত কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত বাতিল করা হয়েছে। মোটরসাইকেল, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বৈচিত্র্যময় পাটপণ্য, হস্তশিল্প ও পুনর্ব্যবহৃত বস্ত্রসহ আরও ১০টি খাতকে বন্ড লাইসেন্স ছাড়াই ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিডার তথ্যমতে, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতার অংশ হিসেবে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত ব্যক্তিগত আয়করের সীমা ও করস্তর আগাম নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স, জাহাজ নির্মাণ, সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক যানবাহন, সৌরবিদ্যুৎ ও স্টার্টআপ খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর ও ভ্যাট সুবিধা রাখা হয়েছে। দেশীয় তেলবীজ থেকে ভোজ্যতেল উৎপাদনে ১০ বছরের কর অবকাশও ঘোষণা করা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস এবং মূল্যবান ধাতু খাতেও বিভিন্ন লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচিত যন্ত্রপাতি ও শিল্প উপকরণে কম বা শূন্য শুল্ক, স্টার্টআপ অর্থায়নে সহায়তা, রপ্তানিমুখী উৎপাদনে প্রণোদনা এবং অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোতে শতভাগ বিদেশি মালিকানার সুযোগ উল্লেখযোগ্য।
ব্রিফিংয়ে আশিক চৌধুরী বলেন, এই বাজেট নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এটি দেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পখাতকে গুরুত্ব দিয়েছে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকার, এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে ঘোষিত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে কাজ করবে। একই সঙ্গে অবশিষ্ট সুপারিশগুলো নিয়েও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
এসএম/একিউএফ
What's Your Reaction?
