বান্দরবানে ৮৪ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

1 day ago 4

বান্দরবানের রোয়াংছড়ির ছাইঙ্গ্যা এলাকায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের (পিআইও) ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আর এ অনিয়মের তদারকি না করে সহযোগিতা করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের কর্মকর্তা।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ছাইঙ্গ্যা ইউপির তেঁতুলিয়া ও পাইক্ষ্যং পাড়ার দুটি সড়ক মিলে এক হাজার মিটার গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ করছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় রোয়াংছড়ি। যা বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করিম এন্টারপ্রাইজ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজটি তদারকি না করে পরোক্ষভাবে নিম্নমানের কাজ করতে টিকাদারকে সহযোগিতা করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিল্টন দস্তিদার।

স্থানীয়রা আরও জানান, সড়ক দুটি নির্মাণে বক্স কেটে ৬ ইঞ্চি সেন্ট ফিলিংয়ের পর কম্পেকশন করে তার ওপর দুই ধাপে ভালো মানের ইট বসানোর কথা। কিন্তু সেখানে বক্স করার পরিবর্তে কোনো রকম সড়ক দুটির মাটি সমান করে তেঁতুলিয়া পাড়া সড়কে নদীর বালু দেওয়া হলেও কম্পেকশন করা হয়নি। আর পাইক্ষ্যংপাড়া সড়কে বালুর স্তর না দিয়েই বসানো হচ্ছে ইট।

বসানো ইটগুলোও নিম্নমানের বলে দাবি পাড়াবাসীর। ফলে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে আশংকা প্রকাশ করছেন তারা।

সরজমিনে দেখা যায়, তেঁতুলিয়া পাড়া সড়কটিতে এরইমধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকিটা শেষ করতে কাজ করে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। সেখানে যে বালুর স্তরটি করা হয়েছে তা কম্পেকশন না করায় পা দিলেই দেবে যাচ্ছে। এছাড়া ইটের প্রথম স্তরটিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ভাঙ্গা ইট।

বান্দরবানের রোয়াংছড়ির ছাইঙ্গ্যা এলাকায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের (পিআইও) ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে জানতে চাইলে নির্মাণ শ্রমিক ওমর ফারুক জানান, টিকাদার কবির যেভাবে বলেছেন সেভাবে কাজ করছেন তারা।

শ্রমিক ওমর আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টিকাদার মো. কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছেন বলে দাবি করেন।

এছাড়া ইউপি সদস্য মো. মোরশেদ জানান, তার ওয়ার্ডে সড়ক দুটি নির্মাণে অনিয়ম করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা তাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা কর্মকর্তাকে জানাবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিল্টন দস্তিদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্ভবত করিম এন্টারপ্রাইজ। তিনি বাইরে থাকায় প্রকল্প ব্যয়টি এই মুহূর্তে বলতে পারছেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এইভাবে জানতে চাওয়াটা প্রতিবেদকের উচিত হয়নি।’ এই বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।

রোয়াংছড়ি উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আজ সকালে তিনি ওই দুটি উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেছেন। সেখানে নিম্নমানের ইট ব্যাবহার করায় কাজ দুটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে এসেছেন।

কাজের মান ভালো না করলে এসব কাজ নতুন করে করাতে বাধ্য করবেন বলে জানান তিনি।

নয়ন চক্রবর্তী/জেডএইচ/জেআইএম

Read Entire Article