বাবার অসুস্থতার কথা বলে ৭ বছরের শিশুকে অপহরণ, চাচাসহ গ্রেপ্তার ৩
মা, তোকে ওরা মেরেছিল?— থানা প্রাঙ্গণে উদ্ধার হওয়া সাত বছরের শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে বুকে জড়িয়ে ধরে এভাবেই আবেগঘন কণ্ঠে প্রশ্ন করছিলেন তার বাবা দেলোয়ার হোসেন। টানা দুই দিনের উৎকণ্ঠা, নির্ঘুম রাত আর কান্নার অবসান ঘটিয়ে মেয়েকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের অনেকের চোখও অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা সাত বছরের শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন অপহরণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাতে উপজেলার সরফভাটা এলাকার ইত্যাদি মোড়ের একটি দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. ফয়সাল (৩২), সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. রাকিব (২২) এবং অটোরিকশাচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)। বুধবার (২৩ জুলাই) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করেছে পুলিশ। তবে তদন্তে সবচেয়ে চা
মা, তোকে ওরা মেরেছিল?— থানা প্রাঙ্গণে উদ্ধার হওয়া সাত বছরের শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে বুকে জড়িয়ে ধরে এভাবেই আবেগঘন কণ্ঠে প্রশ্ন করছিলেন তার বাবা দেলোয়ার হোসেন। টানা দুই দিনের উৎকণ্ঠা, নির্ঘুম রাত আর কান্নার অবসান ঘটিয়ে মেয়েকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের অনেকের চোখও অশ্রুসজল হয়ে ওঠে।
চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা সাত বছরের শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন অপহরণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাতে উপজেলার সরফভাটা এলাকার ইত্যাদি মোড়ের একটি দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে।
গ্রেপ্তাররা হলেন মো. ফয়সাল (৩২), সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. রাকিব (২২) এবং অটোরিকশাচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)। বুধবার (২৩ জুলাই) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করেছে পুলিশ।
তবে তদন্তে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী আর কেউ নন, শিশুটির বাবার আপন মামাতো ভাই ফয়সাল।
পুলিশ জানায়, গত ২০ জুলাই সকালে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা এলাকার ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসকিন প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। ক্লাস শেষে অন্য শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরলেও সে আর ফেরেনি।
পরে তার এক সহপাঠী জানায়, স্কুলের সামনে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে ছিল। সেখান থেকে বলা হয়, তাসকিনের বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে দ্রুত বাবার কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। বাবার অসুস্থতার কথা শুনে সরল বিশ্বাসে শিশুটি অটোরিকশায় উঠে পড়ে।
মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর তাসকিনের বাবা দেলোয়ার হোসেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা করেন। এরপরই জেলা পুলিশ ও ডিবি যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম বলেন, প্রথমদিকে তদন্তে কোনো প্রত্যক্ষ সূত্র ছিল না। এলাকায় কোনো প্রত্যক্ষদর্শী কিংবা সিএনজি শনাক্ত করার মতো তথ্যও পাওয়া যায়নি। পরে বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও চালকের মুখের আংশিক ছবি শনাক্ত করা হয়। স্থানীয় চালকদের সহযোগিতায় রাকিবকে আটক করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে পুরো ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে ফয়সাল নিজের মালিকানাধীন সিএনজি ও অটোরিকশার চালকদের নিয়ে এই অপহরণের পরিকল্পনা করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, অপহরণের পর শিশুটিকে সরফভাটার একটি ভাড়া বাসায় আটকে রাখা হয়। নিজের স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে ফয়সাল নিজেই অপহৃত শিশুর পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজিতে অংশ নেন। এমনকি থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং শিশুটির মায়ের সঙ্গে স্থানীয় একটি মাজারে দোয়া করতেও যান, যাতে কেউ তাকে সন্দেহ না করে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় ফয়সাল মুক্তিপণ দাবি করার সাহস পাননি। এতে তারা আশঙ্কা করেছিলেন, প্রমাণ গোপন করতে শিশুটির কোনো ক্ষতি করা হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ডিবি ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের যৌথ দল সরফভাটার ইত্যাদি মোড় এলাকার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাসকিনকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। একই সঙ্গে ফয়সাল ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসপি মাসুদ আলম বলেন, শিশুটিকে জীবিত ও সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
রক্তের সম্পর্কের একজন নিকটাত্মীয়ের এমন বিশ্বাসঘাতকতায় রাঙ্গুনিয়াজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশের দ্রুত ও সফল অভিযানে শিশুটি নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
What's Your Reaction?