বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, নিহত ১

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুরে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে গুরুতর আহত কৃষক দল নেতা তরু মুন্সি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার সকালে মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীরা মিটিং করে। মিটিং শেষে তাদের ওই বাড়িতে ইফতারের কথা ছিল। বেলা ১১টার দিকে জামায়াতের নারী কর্মীদের মিটিং এর খবর পেয়ে কৃষক দল নেতা তরু মুন্সি, তার ছেলে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলীসহ বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মিটিং বন্ধ করতে বলেন। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে কৃষক দল নেতা তরু মুন্সি, তার ছেলে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত কৃষক দল নেতা তরু মুন্সিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়

বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, নিহত ১

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুরে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে গুরুতর আহত কৃষক দল নেতা তরু মুন্সি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শুক্রবার সকালে মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীরা মিটিং করে। মিটিং শেষে তাদের ওই বাড়িতে ইফতারের কথা ছিল। বেলা ১১টার দিকে জামায়াতের নারী কর্মীদের মিটিং এর খবর পেয়ে কৃষক দল নেতা তরু মুন্সি, তার ছেলে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলীসহ বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মিটিং বন্ধ করতে বলেন।

এ নিয়ে তাদের সঙ্গে জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে কৃষক দল নেতা তরু মুন্সি, তার ছেলে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত কৃষক দল নেতা তরু মুন্সিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি ওই ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের মৃত মুনসুর আলী মুন্সি ছেলে।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা শহরসহ সদরের গান্না ইউনিয়নে থমথমে পরিবেশ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, সংঘর্ষের পর জামায়াতের কর্মীরা গান্না ইউনিয়ন বিএনপির অফিস ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে, দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে গান্না বাজারে জামায়াতের কর্মীদের দোকান পাট ও পার্শ্ববর্তী বাড়িঘরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা পাল্টা অভিযোগ করেছেন।

জেলা বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক সাকিব আহমেদ বাপ্পী বলেন, কৃষক দল নেতা তরু মুন্সি মাথায় গুরুতর জখম নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা গেছেন। এ ঘটনার পর নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিম প্রোগ্রামে কোনো কারণ ছাড়াই হামলা চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দলীয়ভাবে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।

জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, জামায়াতের নারী কর্মীরা বিএনপি পরিবারের নারীদের জোরপূর্বক ডেকে মিটিং করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মী তাদের যেতে বাধ্য করার ব্যাপারে জামায়াতের নারী কর্মীদের কাছে জানতে গেলে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। ওই সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা জামায়াতের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপির নিরীহ কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত একজন মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ টিম মোতায়েন রয়েছে। ওই এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সংঘর্ষে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow