বিএনপি জুলাই সনদ নিজেদের মতো করে বাস্তবায়ন করতে চায় : মিয়া গোলাম পারওয়ার
বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিততে তার পক্ষে সালাউদ্দিন সাহেব ঘোষণা দিয়েছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন জায়গায় এমন কথা বলেছেন। কিন্তু ওনারা গণভোট অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে বলছেন না কেন? কারণ বিএনপি জুলাই সনদ জুলাইয়ের স্পিরিট নয়, নিজেদের মতো করে বাস্তবায়ন করতে চান।’ রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যে আয়োজিত ‘গণভোটের রায় জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন,‘বিএনপি জুলাই সনদে যে ১০টি বিষয়ে নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছেন সেগুলোই স্বৈরাচার উৎপাদনের হাতিয়ার। এসব নোট অফ ডিসেন্ট ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে হ্যা ভোট দিয়ে খারিজ করে দিয়েছে।’ বল সরকারের কোর্টে উল্লেখ করে ম
বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিততে তার পক্ষে সালাউদ্দিন সাহেব ঘোষণা দিয়েছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন জায়গায় এমন কথা বলেছেন। কিন্তু ওনারা গণভোট অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে বলছেন না কেন? কারণ বিএনপি জুলাই সনদ জুলাইয়ের স্পিরিট নয়, নিজেদের মতো করে বাস্তবায়ন করতে চান।’
রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যে আয়োজিত ‘গণভোটের রায় জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন,‘বিএনপি জুলাই সনদে যে ১০টি বিষয়ে নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছেন সেগুলোই স্বৈরাচার উৎপাদনের হাতিয়ার। এসব নোট অফ ডিসেন্ট ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে হ্যা ভোট দিয়ে খারিজ করে দিয়েছে।’
বল সরকারের কোর্টে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘বল এখন জামায়াতের কোর্টে নেই। বল আপনাদের কোর্টে। আপনারা যদি ভুল করেন তাহলে আপনাদের বারেই ঢুকে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করুন, পাঁচ কোটি মানুষের গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে দেশে নতুন সংকট তৈরি করবেন না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন, তা না হলে যারা অতীতে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ বেছে নিয়েছিল, তাদের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অ্যাডেভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘গণভোট জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থান নেওয়া কোনভাবেই কাম্য নয়। এতে সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংকট তৈরি হয়।’
তিনি বলেন, ‘সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী গণভোট জনগণের সার্বভৌমত্বের বাস্তব প্রয়োগ। অতীতে ১৯৮৫, ১৯৯৬ ও ১/১১ এর সংকট এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করে জনগণের সরাসরি রায় অগ্রাহ্য করা ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না। যুক্তরাজ্য, গ্রিস, কলম্বিয়ার নজিরও তাই বলে।’
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এই ধরনের সেমিনার আয়োজনের কথা ছিল না। তবুও করতে হচ্ছে। আমাদের এখন নতুন বন্দোবস্তের বাংলাদেশের কথা বলার পরিবর্তে জুলাই সনদ নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। আমরা শহীদ আহতদের ভুলে গণভোটে রায়কে পদদলিত করেছি।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে ক্ষমতার ভারসাম্য হবে। কিন্তু তারা (বিএনপি) এটা চায় না। তারা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে চায়। বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে কীভাবে মৃত্যুর কোলে নিয়ে গেছে, তারা এটা বেমালুম ভুলে গেছে।’
তাদের যদি জিজ্ঞেস করা হয় এই নির্বাচন কোন সংবিধানের আলোকে হয়েছে, তারা উত্তর দিতে পারে না। এই সংবিধান অনুযায়ী সব অফিসে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টানাতে হবে। তারা তো ছবি না টানিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করছেন। তারা সংবিধানের কথা বলে পদে পদে সংবিধান লঙ্ঘন করে চলেছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে আবারও ছাত্র-জনতা মাঠে নেমে আসবে।
সরোয়ার তুষার বলেন, নির্বাচনের আগে যে ঐক্যমত কমিশন গঠিত হয়েছিল, তা কার্যত ‘সালাউদ্দিন কমিশনে’ পরিণত হয়েছিল। বর্তমান সংসদও একই ধারায় ‘সালাউদ্দিন পার্লামেন্টে’ রূপ নিয়েছে। তারা জাতীয় সংসদকে একটি ‘অন্তহীন প্রতারণার কারখানাতে পরিণত করেছেন।
চট্টগ্রামের ভোটারদের উদ্দেশ্য করে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপনারা কয়টি ভোট দিয়েছেন? তিনি বলেন, সেখানে দুটি ব্যালটে ভোট দেওয়ার কথা ছিল, একটির মাধ্যমে সংসদ গঠিত হয়েছে এবং অন্য ব্যালটের মাধ্যমে ‘সংস্কার পরিষদ’ গঠন করার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা রক্ষা করা হয়নি। এর মাধ্যমে জনগণের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি ‘লন্ডন কনস্পিরেসি’ বা লন্ডন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে প্রভাবিত করছে। বিএনপি শুধু গুপ্ত গুপ্ত বলে। কিন্তু তাদের মাঝেও গুপ্ত আছে। তিনি হলেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনিসহ কয়েকজন প্রধান উপদেষ্টাকে লন্ডন নিয়ে গিয়ে ১২ তারিখ ভোটের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এমপি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।
What's Your Reaction?