বিএনপির এক এমপির ২ ছেলেসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

রাজধানীর গুলশানে এক শিল্পপতির ফ্ল্যাট দখলের সময় তার স্ত্রী-সন্তানদের মারধর, ভাঙচুর, লুটপাট ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলে সামির কাদের চৌধুরী এবং শাকির কাদের চৌধুরীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।  বুধবার (১ এপ্রিল) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত এই আদেশ দেন। পরোয়ানাভুক্ত অপর দুই আসামিরা হলেন— মনিরা এরশাদ ও আশিকুর রহমান আশিক। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী তিনিও এই মামলার আসামি। বাদী পক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলাটিতে আজকে ধার্য তারিখ পর্যন্ত আসামিরা জামিনে ছিলেন। তবে আজকে এই আসামিরা আদালতে উপস্থিত না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। বাদীপক্ষ থেকে আমরা এর বিরোধিতা করি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।  গত বছরের ১০ ডিসেম্বর গুলশান থানায় ফারজানা আন্না ইসলাম বাদী হয়ে মামলাট

বিএনপির এক এমপির ২ ছেলেসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

রাজধানীর গুলশানে এক শিল্পপতির ফ্ল্যাট দখলের সময় তার স্ত্রী-সন্তানদের মারধর, ভাঙচুর, লুটপাট ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলে সামির কাদের চৌধুরী এবং শাকির কাদের চৌধুরীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

বুধবার (১ এপ্রিল) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত এই আদেশ দেন। পরোয়ানাভুক্ত অপর দুই আসামিরা হলেন— মনিরা এরশাদ ও আশিকুর রহমান আশিক। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী তিনিও এই মামলার আসামি।

বাদী পক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলাটিতে আজকে ধার্য তারিখ পর্যন্ত আসামিরা জামিনে ছিলেন। তবে আজকে এই আসামিরা আদালতে উপস্থিত না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। বাদীপক্ষ থেকে আমরা এর বিরোধিতা করি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। 

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর গুলশান থানায় ফারজানা আন্না ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা দীর্ঘদিন যাবত বাদীর আবাসিক বাড়ির ২য় ও ৩য় তলার ফ্ল্যাট জোর করে দখলের চেষ্টা করে আসছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর বেলা অনুমান সাড়ে ১১টায় আসামিরা অন্য আসামিদের নেতৃত্ব দিয়ে বাদীর ৬তলা বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে বেআইনিভাবে অনধিকার প্রবেশ করেন। এ সময় তারা বাদীর অফিস রুমের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে চেয়ার, টেবিল, ফ্যাক্স মেশিন, প্রিন্টার, রাউটার ও অফিসের অন্যান্য পাঁচ লাখ টাকার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মিনি পিকআপে উঠিয়ে চুরি করে নিয়ে যায় এবং আরও দুই লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। পরদিন বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোর ঠিক করতে গেলে আসামিরা লোহার রড, লোহার পাইপ, কাঠের লাঠি, লোহার হাতুড়ি ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অনধিকার প্রবেশ করে বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য প্রাণনাশের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। 

অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিদের এরকম আচরণ করতে নিষেধ করলে বাদীকে এলোপাতাড়িভাবে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। আসামিরা বাদীর চুলে ধরে টানাহেঁচড়া করে এবং এলোপাতাড়ি লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ ও গুরুতর জখম করে। আসামিদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বাদীর ছেলে এগিয়ে এলে আসামিরা তাদের হাতে থাকা কাঠের লাঠি, লোহার রড, লোহার পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে তাদের পিঠে, কোমরে, মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা ও রক্তাক্ত জখম করে।

বাদীর ডাক-চিৎকার শুনে আশপাশ থেকে এগিয়ে এলে আসামিরা তাদের আঘাত করেন৷ পরবর্তীতে বাদী ছেলে ফেব ইসলাম সরকারি জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে গুলশান থানা পুলিশের কাছে সহযোগিতা চাইলে তারা এগিয়ে আসে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনদের সহযোগিতায় বাদী ও তার ছেলেসহ অন্যদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের ব্যবস্থা করেন। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow