বিচার না পেয়ে সিলেট থেকে পায়ে হেঁটে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারে বৃদ্ধ ফুকন মিয়া

জমি দখল, মিথ্যা মামলায় কারাভোগ, জোরপূর্বক চেক নিয়ে ফেরত না দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচারের আশায় সিলেট থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বৃদ্ধ ফুকন মিয়া। স্থানীয়ভাবে কোনো প্রতিকার না পেয়ে জীবনের শেষ ভরসা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের অভিযোগ তুলে ধরতেই এই দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সিলেট থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি এলাকায় পৌঁছালে দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেন ফুকন মিয়া। তিনি বলেন, অনেক জায়গায় গিয়েছি, অনেকের কাছে বিচার চেয়েছি। কিন্তু কোথাও কোনো প্রতিকার পাইনি। তাই শেষ আশ্রয় হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছি। তিনি আমার কথা শুনে ন্যায়বিচার করবেন, এই বিশ্বাস নিয়েই পায়ে হেঁটে ঢাকা যাচ্ছি। লিখিত অভিযোগে ফুকন মিয়া জানান, তিনি সিলেট জেলার শাহপরান থানার ইসলামপুর ডাকঘরের মিরাপাড়া নয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার দাবি, চাচাতো ভাই জিয়াউর রহমান সুমন ও রকিব মিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে তার ৪৪ ডিসিমেল জমি, আল-মোবারক জামে মসজিদের জমি এ

বিচার না পেয়ে সিলেট থেকে পায়ে হেঁটে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারে বৃদ্ধ ফুকন মিয়া

জমি দখল, মিথ্যা মামলায় কারাভোগ, জোরপূর্বক চেক নিয়ে ফেরত না দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচারের আশায় সিলেট থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বৃদ্ধ ফুকন মিয়া। স্থানীয়ভাবে কোনো প্রতিকার না পেয়ে জীবনের শেষ ভরসা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের অভিযোগ তুলে ধরতেই এই দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সিলেট থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি এলাকায় পৌঁছালে দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেন ফুকন মিয়া।

তিনি বলেন, অনেক জায়গায় গিয়েছি, অনেকের কাছে বিচার চেয়েছি। কিন্তু কোথাও কোনো প্রতিকার পাইনি। তাই শেষ আশ্রয় হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছি। তিনি আমার কথা শুনে ন্যায়বিচার করবেন, এই বিশ্বাস নিয়েই পায়ে হেঁটে ঢাকা যাচ্ছি।

লিখিত অভিযোগে ফুকন মিয়া জানান, তিনি সিলেট জেলার শাহপরান থানার ইসলামপুর ডাকঘরের মিরাপাড়া নয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার দাবি, চাচাতো ভাই জিয়াউর রহমান সুমন ও রকিব মিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে তার ৪৪ ডিসিমেল জমি, আল-মোবারক জামে মসজিদের জমি এবং তার বসতভিটা জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে তাকে একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই মামলায় তিনি টানা ২৫ মাস কারাভোগ করেছেন। এছাড়া তার কাছ থেকে জোরপূর্বক সাড়ে ৩ লাখ টাকার একটি চেক নেওয়া হলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ফুকন মিয়ার ভাষ্য, এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তিনি ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যানের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তার দাবি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে অভিযুক্তরা তাকে আবারও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ফুকন মিয়া বলেন, আমি কোনো প্রতিশোধ চাই না, শুধু ন্যায়বিচার চাই। আমার জমি, আমার বাড়ি এবং আমার সম্মান ফিরিয়ে দিতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয়ভাবে সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি সিলেট থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন। পথে বিভিন্ন স্থানে মানুষ তার খোঁজখবর নিচ্ছেন। তার এই ব্যতিক্রমী পদযাত্রা স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

তবে ফুকন মিয়ার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow