বিনিয়োগকারীর দাবি ‘চিরস্থায়ী’, টাকা থাকবে ‘নিরাপদ’

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অদাবিকৃত লভ্যাংশ, অবণ্টিত শেয়ার ও আইপিও সংক্রান্ত অর্থ সুরক্ষায় বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। একটি কেন্দ্রীয় তহবিলে অর্থ জমা রাখার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের দাবি চিরস্থায়ীভাবে বহাল রাখার বিধান করা হচ্ছে যেন যে কোনো সময় তা ফেরত পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে তহবিলে জমা টাকা নিরাপদ রাখতে শেয়ারবাজার বা ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পথ বন্ধ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’-এর নীতিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরইমধ্যে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সেখানে এসব বিধান রাখা হয়েছে। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অদাবিকৃত বা অবণ্টিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের অর্থ। এটাকে ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া উচিত না। কিন্তু আগের কমিশন স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছিল এবং ফান্ডের টাকা দিয়ে একটি মিউচুয়ার ফান্ড এনেছিল। এর মাধ্যমে আসলে অর্থ তছরুপ করা হয়েছে। এখন যদি এই তহবিলের অর্থ শেয়ারবাজারসহ যে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগে

বিনিয়োগকারীর দাবি ‘চিরস্থায়ী’, টাকা থাকবে ‘নিরাপদ’

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অদাবিকৃত লভ্যাংশ, অবণ্টিত শেয়ার ও আইপিও সংক্রান্ত অর্থ সুরক্ষায় বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। একটি কেন্দ্রীয় তহবিলে অর্থ জমা রাখার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের দাবি চিরস্থায়ীভাবে বহাল রাখার বিধান করা হচ্ছে যেন যে কোনো সময় তা ফেরত পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।

একই সঙ্গে তহবিলে জমা টাকা নিরাপদ রাখতে শেয়ারবাজার বা ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পথ বন্ধ করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’-এর নীতিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরইমধ্যে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সেখানে এসব বিধান রাখা হয়েছে।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অদাবিকৃত বা অবণ্টিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের অর্থ। এটাকে ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া উচিত না। কিন্তু আগের কমিশন স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছিল এবং ফান্ডের টাকা দিয়ে একটি মিউচুয়ার ফান্ড এনেছিল। এর মাধ্যমে আসলে অর্থ তছরুপ করা হয়েছে। এখন যদি এই তহবিলের অর্থ শেয়ারবাজারসহ যে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পথ বন্ধ করা হয়, তাহলে সেটা ভালো হবে।

এর আগে, ২০২১ সালে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড গঠন করা হয়। এই তহবিলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির অবিতরণকৃত, অনিষ্পত্তিকৃত নগদ লভ্যাংশ এবং বোনাস শেয়ার জমা হচ্ছে। বর্তমানে তহবিলে নগদ ১ হাজার কোটি টাকা এবং ১ হাজার কোটি টাকার মতো বোনাস শেয়ার জমা হয়েছে। তহবিল থেকে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বিনিয়োগকারীকে তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৩৫০ কোটি টাকার (নগদ ও শেয়ার মিলিয়ে) মতো পরিশোধ করা হয়েছে।

তবে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তহবিলের কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা এসেছে। সে সময় তহবিলের পরিচালনা পর্ষদে যারা ছিলেন, তাদের কেউ কেউ পলাতক অথবা জেলে। এছাড়া, এই তহবিলের অর্থ তছরুপের অভিযোগও আছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তহবিলে জমা হওয়া বিনিয়োগকারীদের অর্থ নিরাপদ রাখতে নীতিমালায় পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে তৈরি করা খসড়া অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির কাছে তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে পড়ে থাকা নগদ ও স্টক লভ্যাংশ, বোনাস ও রাইট শেয়ার, এমনকি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অবণ্টিত অর্থও এই তহবিলে স্থানান্তর করা হবে। একইসঙ্গে তালিকাচ্যুত কোম্পানির অবণ্টিত অর্থও এই তহবিলের আওতায় আনা হবে।

অধ্যাদেশের খসড়া অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীর প্রাপ্য অর্থ বা শেয়ারের ওপর তার অধিকার কখনোই বিলুপ্ত হবে না। অর্থাৎ, বিনিয়োগকারী বা তার বৈধ উত্তরাধিকারী যে কোনো সময় যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করে দাবি করলে তহবিল থেকে তা ফেরত পাবেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বিনিয়োগকারীর অর্থ হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি দূর হবে।

আরও পড়ুন
ক্রেতা সংকটে শেয়ারবাজার, নিঃস্ব হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা
অস্থিরতার বৃত্তে শেয়ারবাজার, আস্থা ফেরানোই অন্যতম দাবি

তিন বছর ধরে অদাবিকৃত বা অবণ্টিত অবস্থায় থাকা সব ধরনের লভ্যাংশ ও শেয়ার সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় তহবিলে জমা দিতে হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। নগদ অর্থ তহবিলের ব্যাংক হিসাবে এবং শেয়ার তহবিলের ডিপোজিটরি অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া, সরকার বা অন্য কোনো অনুমোদিত উৎস থেকে পাওয়া অনুদানও এই তহবিলে যুক্ত করা যাবে।

দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে খসড়া অধ্যাদেশে। এ বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো বিনিয়োগকারী দাবি করলে সংশ্লিষ্ট ইস্যুয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তা যাচাই করে তহবিলে সুপারিশ পাঠাবে। এরপর তহবিল কর্তৃপক্ষ যাচাই শেষে আরও ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অর্থ বা শেয়ার পরিশোধ করবে।

খসড়া অনুযায়ী, ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ (সিএমএসএফ) নামে একটি তহবিল গঠন করা হবে, যা একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। এর নিজস্ব কার্যালয় থাকবে ঢাকায় এবং প্রয়োজনে দেশের অন্যান্য স্থানে শাখা খোলা যাবে। তহবিল নিজ নামে সম্পদ অর্জন, সংরক্ষণ ও হস্তান্তর করতে পারবে এবং আইনগত কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতাও পাবে।

তহবিলে কী কী জমা হবে

খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে অবণ্টিত বা অদাবিকৃত অবস্থায় থাকা নগদ ও স্টক লভ্যাংশ, বোনাস ও রাইট শেয়ার, আইপিও ও কিউআইও সাবস্ক্রিপশন অর্থ, তালিকাচ্যুত কোম্পানির অবণ্টিত অর্থ এই তহবিলে জমা হবে। এছাড়া, সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা অন্য কোনো উৎস থেকে পাওয়া অনুদানও এই তহবিলে রাখা যাবে।

সংবিধিবদ্ধ তহবিল হিসেবে পরিচালনা

নতুন এই তহবিল একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে। তহবিল পরিচালনায় একটি বোর্ড অব গভর্নরস থাকবে। এতে চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান। এছাড়া, কমিশনের প্রতিনিধি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ইনস্টিটিউট, তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংগঠন এবং স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে থাকবেন। তহবিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর বিধান

অধ্যাদেশে তহবিলের হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষায় স্বচ্ছতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস) অনুসরণ করে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত এবং নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর্থিক বছর শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের অদাবিকৃত ও অনিষ্পন্ন অর্থ, শেয়ার এবং অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া অর্থ বা সম্পদ পৃথকভাবে আর্থিক বিবরণীতে উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি, একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করে সব অদাবিকৃত অর্থ ও শেয়ারের তথ্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, অধ্যাদেশের খসড়টি চূড়ান্তের পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশের অর্থ নিরাপদ রাখতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ না করার বিধান রাখা হচ্ছে। এই অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে ব্যাংকে জমা থাকবে। জমা অর্থের ওপর ব্যাংক থেকে যে মুনাফা পাওয়া যাবে, তা বিভিন্ন বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যয়ের একটা সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে, তহবিলের মূল অর্থ কোনো ক্ষেত্রে ব্যয় করা যাবে না। এটা বৈধ বিনিয়োগকারী দাবি করলে যেন ফেরত দেওয়া যায়, সেই বিধান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন
চাপে শেয়ারবাজার, অনিশ্চয়তায় আটকে বিনিয়োগকারীরা
চালু হতে পারে সম্পদ কর, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমানোর আশ্বাস

তিনি বলেন, প্রথমে তহবিলে জমা হওয়া অর্থ সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে, পরবর্তিতে এখানে একটু সংশোধনী আনা হয়েছে। ব্যাংকে জমা অর্থের ওপর থেকে যে মুনাফা পাওয়া যাবে, সেটার ওপর কর আরোপের বিধান রাখা হচ্ছে। কারণ এটি মুনাফার অংশ।

এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক সদস্য বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড গঠনের উদ্যোগটি ভালো ছিল। কিন্তু, কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে তহবিলের অর্থ অনিরাপদ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে তহবিলের অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত ছিল মারাত্মক ভুল। কারণ, তহবিলের অর্থ বিনিয়োগকারীদের। এটা কোনোভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করা উচিত না। আর, শেয়ারবাজার কোনোভাবেই ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্র না। এছাড়া, তহবিলের অর্থ দিয়ে একটি মিউচুয়াল ফান্ড আনা হয়েছে, এটিও সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মাধ্যমে আসলে একটি চক্র তহবিল থেকে টাকা সরিয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, এখন যদি এই তহবিলের অর্থ নিরাপদ রাখতে শেয়ারবাজারসহ সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের পথ বন্ধ করা হয়, তাহলে সেটি বেশ ভালো উদ্যোগ হবে। তবে, এই উদ্যোগ সফল করতে হলে কার্যকর বাস্তবায়ন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। নাহলে কাগুজে কাঠামো থাকলেও বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।

ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের বর্তমান হেড অব অপারেশন (অতিরিক্ত পরিচালক) মো. ওয়াসি আজম জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে তহবিলে নগদ টাকা ও শেয়ার মিলিয়ে ২ হাজার কোটি টাকার মতো জমা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বিনিয়োগকারী এরইমধ্যে তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তহবিল থেকে টাকা পেয়েছেন। তাদের পরিশোধ করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, আমরা যতটুকু জানি ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছে। শিগগির এটি চূড়ান্ত করা হবে বলে আমরা আশা করছি। এটা চূড়ান্ত করা হলে তহবিলের অর্থ অধিক নিরাপদ থাকবে। কারণ, তখন শেয়ারবাজারে বা ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে না। আমরা এরইমধ্যে তহবিলের সব অর্থ দুটি সরকারি ব্যাংকে স্থানান্তর করে ফেলেছি।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এটা বিনিয়োগকারীদের অর্থ। যেখানে শতভাগ গ্যারান্টি থাকবে না, সেখানে এই অর্থ রাখা যাবে না। আমরা প্রথম থেকেই এটা বলে আসছি। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের নামে গত কমিশনে এই তহবিলের অর্থ তছরুপ হয়েছে। এই জন্য আমরা প্রস্তাব করেছি এটার নতুন কাঠামো করা হোক, নতুন বোর্ড করা হোক, যারা টাকা সংগ্রহ করে ঝুঁকিমুক্ত খাতে রাখবে।

আরও পড়ুন
শেয়ারবাজারের সম্ভাবনা নিহিত সঠিক নেতৃত্বে, চ্যালেঞ্জ রাজনীতি
শেয়ারবাজার পুনর্গঠন করতে দুষ্টচক্র থেকে বের হতে হবে: আমীর খসরু

তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাব তহবিলের টাকা ট্রেজারি বন্ডে বা ভালো ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে থাকবে। কোনোভাবেই এই অর্থ শেয়ারবাজারে আসবে না। সেই সঙ্গে যত বছর পরেই বিনিয়োগকারী ফেরত আসুক, তার চাহিদামাত্র টাকা ফেরত দিতে হবে। আমরা আশা করি নতুন কমিশন এলে এটা চূড়ান্ত করবে।

ডিএসইর পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও জাগো নিউজকে বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড অধ্যাদেশের খসড়ায় কী আছে, সেটা আমি এখনো দেখিনি। তবে আমার ব্যক্তিগত অভিমত- এ ধরনের তহবিল করা উচিত না। বরং এটা কোম্পানিকে প্রেশার দেওয়া উচিত, যেন তারা ঠিকমতো লভ্যাংশের অর্থ বিনিয়োগকারীদের বিতরণ করে, যেন বিনিয়োগকারীরা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

তিনি বলেন, এটা মানুষের টাকা। এর আগে, এখান থেকে কিছু টাকা আইসিবিকে দেওয়া হয়েছে। আবার একটা মিউচুয়াল ফান্ড গঠন করা হয়েছে। আমি মনে করি- এই টাকা এফডিআর করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। কোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা যাবে না। এমন বিনিয়োগ ক্ষেত্র কি আছে? আসলে, আমি মনে করি নেই।

এমএএস/এএমএ/এমএমএআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow