বিমার খরচ পাঁচগুণ বাড়িয়ে বিদায় নিলেন আসলাম আলম
দেশে ব্যবসা করা বিমা কোম্পানিগুলোর ব্যয় পাঁচগুণ বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপকক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান পদ থেকে বিদায় নিলেন ড. এম আসলাম আলম। নিবন্ধন নবায়ন ফি বাড়ানোর মাধ্যমে এই ব্যয় বাড়ানো হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের একদম শেষ সময়ে এই ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসে। বিমা কোম্পানির নিবন্ধন ব্যয় বাড়ায় মূল ভুক্তভোগী হবেন সাধারণ গ্রাহকরা। দেশের জীবন (লাইফ) ও সাধারণ (নন-লাইফ) বিমা কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন নবায়ন ফি পাঁচগুণ বাড়ানো সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয় গত ৪ ফেব্রুয়ারি। এর প্রায় এক মাস পর ‘ব্যক্তিগত অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে সোমবার (২ মার্চ) আইডিআরএ চেয়ারম্যান অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আইডিআরএ সূত্র জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে তার দায়িত্বের ইতি ঘটলো। ড. আসলাম আলম ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। সাবেক সিনিয়র সচিব হিসেবে তিনি তিন বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন, তার মেয়াদ শেষ হও
দেশে ব্যবসা করা বিমা কোম্পানিগুলোর ব্যয় পাঁচগুণ বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপকক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান পদ থেকে বিদায় নিলেন ড. এম আসলাম আলম। নিবন্ধন নবায়ন ফি বাড়ানোর মাধ্যমে এই ব্যয় বাড়ানো হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের একদম শেষ সময়ে এই ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসে। বিমা কোম্পানির নিবন্ধন ব্যয় বাড়ায় মূল ভুক্তভোগী হবেন সাধারণ গ্রাহকরা।
দেশের জীবন (লাইফ) ও সাধারণ (নন-লাইফ) বিমা কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন নবায়ন ফি পাঁচগুণ বাড়ানো সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয় গত ৪ ফেব্রুয়ারি। এর প্রায় এক মাস পর ‘ব্যক্তিগত অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে সোমবার (২ মার্চ) আইডিআরএ চেয়ারম্যান অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
আইডিআরএ সূত্র জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে তার দায়িত্বের ইতি ঘটলো।
ড. আসলাম আলম ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। সাবেক সিনিয়র সচিব হিসেবে তিনি তিন বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়লেন তিনি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, আসলাম আলম পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে তার পদত্যাগ কার্যকর করতে ফাইল তৈরি করে অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে পদত্যাগ কার্যকর হবে।
এদিকে সম্প্রতি আইডিআরএ’র সুপারিশে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ‘বিমা ব্যবসার নিবন্ধন ফি বিধিমালা-২০১২’ সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করেছে। গেজেট অনুযায়ী, ২০২৬, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে নিবন্ধন নবায়ন ফি হবে প্রতি হাজার টাকা গ্রস প্রিমিয়াম আয়ের বিপরীতে ২ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ কোনো কোম্পানি এক কোটি টাকা প্রিমিয়াম আয় করলে পরবর্তী বছরের নিবন্ধন নবায়নের জন্য তাকে ২৫ হাজার টাকা ফি দিতে হবে।
আরও পড়ুন
পদত্যাগ করেছেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান আসলাম আলম
সোনালী ব্যাংক ও সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ
এরপর ২০২৯, ২০৩০ ও ২০৩১ সালে হার বাড়িয়ে প্রতি হাজারে ৪ টাকা এবং ২০৩২ সাল ও তার পরবর্তী সময়ের জন্য ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এই হার ছিল প্রতি হাজারে ১ টাকা।
বর্তমান হার ০.১ শতাংশ থেকে চূড়ান্ত ধাপে ০.৫ শতাংশে উন্নীত হবে। অর্থাৎ প্রতি হাজারে অতিরিক্ত ৪ টাকা বা ০.৪ শতাংশ বাড়তি ব্যয় বহন করতে হবে বিমা কোম্পানিগুলোকে। প্রথম ধাপেই (২.৫০ টাকা) কোম্পানিগুলোকে প্রতি হাজারে ১.৫০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে।
বাড়তি ব্যয়ের যুক্তি
নিবন্ধন ফি বাড়ানোর প্রস্তাবে আইডিআরএ জানায়, ভবিষ্যতে সংস্থাটির ব্যয় অন্তত চারগুণ বাড়তে পারে। বর্তমানে প্রতি হাজার টাকা গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১ টাকা নেওয়া হলেও তা দিয়ে বাড়তি প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
ফি বৃদ্ধির পক্ষে যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- দুয়ার সার্ভিস লিমিটেড পরিচালিত আইআইএমএস প্ল্যাটফর্মের বিল পরিশোধ, জনবল বৃদ্ধি ও পেনশন-গ্র্যাচুইটি প্রদান, নিজস্ব ভবন নির্মাণ ও শাখা অফিস স্থাপন এবং বিমা খাতে পেশাদারত্ব উন্নয়নে বিসিআইআই, বিআইআইএম ও ‘একচ্যুয়ারিয়াল সোসাইটি অব বাংলাদেশ’-এর মতো প্রতিষ্ঠানের বিকাশে সহায়তা।
আইডিআরএ’র আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সংস্থাটির মোট আয় ছিল ২৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এসেছে নিবন্ধন ও নবায়ন ফি থেকে। বাকি অর্থ এসেছে রিভিউ ফি, শাখা রেজিস্ট্রেশন ফি, এজেন্সি লাইসেন্স ফি, জরিমানা, এফডিআর সুদ ও অন্যান্য উৎস থেকে।
একই অর্থবছরে মোট ব্যয় হয় ১১ কোটি ২ লাখ টাকা। আয়কর বাবদ ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা প্রভিশন বাদ দেওয়ার পর উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ১১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সংস্থাটির মোট তহবিল ছিল ১০৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
এমন সময়ে ফি বাড়ানো হলো, যখন দেশের বিমা খাতে গ্রাহক আস্থা সংকট, দাবি পরিশোধে বিলম্ব ও বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ফলে বাজার সম্প্রসারণ ও গ্রাহক সুরক্ষা জোরদারের চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত খাতটির জন্য মিশ্র বার্তা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে একটি বিমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাগো নিউজকে বলেন, বিমা কোম্পানির নিবন্ধন ব্যয় বাড়ানোর কারণে মূলত গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বিমা গ্রাহকদের লভ্যাংশের পরিমাণ কমে যাবে।
তিনি বলেন, এমনিতেই কিছু কোম্পানি গ্রাহকদের দাবির টাকা ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে বিমার প্রতি মানুষের চরম আস্থা সংকট রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যয় বাড়ানোর ফলে বিমার প্রতি গ্রাহকের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।
আরেকটি বিমা কোম্পানির সিইও বলেন, নিবন্ধন নবায়ন ফি কোম্পানির নিজস্ব ব্যয় হলেও বাড়তি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের ওপরই পড়বে। অপারেশনাল ব্যয় বাড়লে প্রিমিয়াম কাঠামো, কমিশন, প্রশাসনিক ব্যয় বা সেবার মানে পরিবর্তন আসবে।
তিনি বলেন, এখন তো উনি (আসলাম আলম) চলে যাচ্ছেন। কিন্তু যাওয়ার আগে কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে গেলেন। বিমা খাতের ওপর এমনিতেই আস্থা সংকট। এখন লভ্যাংশ কমে গেলে, গ্রাহকের আস্থা আরও কমে যাবে। তাই নতুন সরকারের নিবন্ধন নবায়ন ফি বাড়ানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
এমএএস/ইএ
What's Your Reaction?