বিরোধীদের ওপর চলছে মোদী সরকারের দমনপীড়ন, তীব্র হচ্ছে সংকট
বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে পরিচিত ভারত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে সরকারি তদন্তকারী সংস্থা, প্রশাসন ও আইনকে ব্যবহার করছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার, দলবদল, ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক এবং ভিন্নমত দমনের অভিযোগ। সব মিলিয়ে ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচকদের অভিযোগ, সরকারের বিরোধিতা করলেই অনেককে ‘দেশবিরোধী’ বা অপরাধী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে সরকার ও বিজেপির বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান। দুর্নীতি, অপরাধ ও নিরাপত্তার মতো বিষয়ে তদন্ত হলে সেটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলা ঠিক নয়। সোনম ওয়াংচুকের অনশন ঘিরে উত্তেজনা এই বিতর্কের সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন। শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছিলেন। অনশনের ২১তম দিনে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নয়াদিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি কর
বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে পরিচিত ভারত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে সরকারি তদন্তকারী সংস্থা, প্রশাসন ও আইনকে ব্যবহার করছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার, দলবদল, ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক এবং ভিন্নমত দমনের অভিযোগ। সব মিলিয়ে ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচকদের অভিযোগ, সরকারের বিরোধিতা করলেই অনেককে ‘দেশবিরোধী’ বা অপরাধী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে সরকার ও বিজেপির বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান। দুর্নীতি, অপরাধ ও নিরাপত্তার মতো বিষয়ে তদন্ত হলে সেটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলা ঠিক নয়।
সোনম ওয়াংচুকের অনশন ঘিরে উত্তেজনা
এই বিতর্কের সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন। শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছিলেন। অনশনের ২১তম দিনে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নয়াদিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শেই ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাকে যন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থল থেকে জোর করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও আন্দোলনকারীদের যথেষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
দিল্লিতে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও অনশন
ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়ার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, একজন আন্দোলনকারীকে সরিয়ে নিলেই আন্দোলন থেমে যাবে না। আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তরে অবস্থান চালিয়ে যাবেন এবং সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করবেন বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিরোধী দলগুলোও সরব হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেন, ওয়াংচুক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আবেদন উপেক্ষা করা হয়েছে। শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরে, সিপিআই(এম) নেত্রী বৃন্দা কারাত এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও প্রশাসনের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।
আরও পড়ুন>
অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে ‘সিনেমা স্টাইলে’ তুলে নিয়ে গেল পুলিশ
পশ্চিমবঙ্গ কি তাহলে গুজরাট বা উত্তর প্রদেশ মডেলে চলবে?
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি: সোনাম ওয়াংচুকের পক্ষে সরব বলিউড তারকারা
যুক্তরাষ্ট্রেও কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের সামনে সমাবেশ করে তারা ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।
এনসিপি (এসপি) প্রধান শরদ পাওয়ারও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, সরকার সময়মতো আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেনি। পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পর ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মোদী ও অমিত শাহ
বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত
ভারতের বিরোধী রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে একাধিক মানহানির মামলা রয়েছে। এসব মামলার বেশিরভাগই বিজেপির নেতা-কর্মী এবং বিজেপির আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সদস্যদের করা।
২০২৩ সালে ‘মোদী’ পদবি নিয়ে মন্তব্যের জেরে গুজরাটের সুরাটের একটি আদালত রাহুল গান্ধীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়। ওই রায়ের পর লোকসভায় তার সদস্যপদ বাতিল করা হয়। পরে উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে তিনি স্বস্তি পান। এ ছাড়া নোটবন্দির পর মুদ্রা বদল নিয়ে মন্তব্য, সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ হত্যার সঙ্গে বিজেপি-আরএসএসের আদর্শের সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য এবং মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্যের জেরেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ২০১৫ সালের ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলাতেও রাহুল গান্ধী ও তার মা সোনিয়া গান্ধী জামিনে রয়েছেন। বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর করা এই মামলায় অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেডের অধিগ্রহণ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।
বিরোধীদের দাবি, এসব মামলার অনেকগুলোই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তবে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, আদালত ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো আইন অনুযায়ী কাজ করছে।
কেজরিওয়াল মামলায় আদালতের রায়
বিরোধীদের ওপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ব্যবহারের অভিযোগ আরও জোরালো হয় দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেফতারের পর।
দিল্লির আবগারি নীতি নিয়ে দুর্নীতির মামলায় ২০২৪ সালের মার্চে গ্রেফতার হন আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা কেজরিওয়াল। একই মামলায় সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া এবং আপ নেতা সঞ্জয় সিংসহ আরও কয়েকজন গ্রেফতার হন। তবে প্রায় দুই বছর পর দিল্লির একটি আদালত কেজরিওয়ালসহ মোট ২৪ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। আদালত জানায়, আবগারি নীতিতে বড় ধরনের কোনো ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের তদন্তেরও তীব্র সমালোচনা করে আদালত। অনুমানের ওপর ভিত্তি করে ষড়যন্ত্রের গল্প তৈরি এবং রাজসাক্ষীদের বক্তব্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার অভিযোগে তদন্ত সংস্থাকে ভর্ৎসনা করা হয়। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের সুপারিশও করা হয়েছে। কেজরিওয়াল ও তার দল শুরু থেকেই মামলাটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে আসছিল। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন ইডি ও সিবিআইয়ের মতো সংস্থাগুলো বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত
পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করতে সোনারপুরে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের অভিযোগ, অভিষেকের দিকে পাথর, জুতা ও ডিম ছোড়া হয়। হামলাকারীরা তাকে ‘চোর’ বলে স্লোগান দিতে দিতে আক্রমণের চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ করা হয়। তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেন। বিজেপি অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ভোটার তালিকা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিতর্ক
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাবেক ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ দাউদ আলি অভিযোগ করেছেন, বৈধ পাসপোর্ট ও চাকরির নথি থাকা সত্ত্বেও তার এবং তার তিন সন্তানের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯০ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে ৬০ লাখের বেশি ভোটারকে মৃত বা অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরও প্রায় ২৭ লাখ ভোটারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু ও বিজেপিবিরোধী ভোটারদের বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হচ্ছে। তবে বিজেপি ও নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আসামেও ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ
নির্বাচনের আগে আসামেও ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ছয়টি বিরোধী দল অভিযোগ করেছে, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিজেপি রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করছে। বিরোধীদের দাবি, প্রকৃত ভোটারদের মৃত বা স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ব্যক্তি হিসেবে দেখিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। কামরূপ জেলার একটি প্রশাসনিক কার্যালয়ে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিরোধীদের এসব অভিযোগের ফলে নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পরের পরিস্থিতি
ভারতের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে বিতর্কের আরেকটি বড় বিষয় জম্মু ও কাশ্মীর। ২০১৯ সালের আগস্টে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা তুলে নেওয়া হয়। জম্মু ও কাশ্মীরকে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়। লাদাখকে আলাদা করে আরেকটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হয়। সরকারের বক্তব্য ছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে কাশ্মীর ভারতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হবে এবং উন্নয়নের গতি বাড়বে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কাশ্মীরের মানুষের রাজনৈতিক মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাজনৈতিক নেতা, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের আটক করা হয়। দীর্ঘ সময় যোগাযোগব্যবস্থা ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকার ঘটনাও ঘটে। সম্প্রতি বইয়ের দোকান ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদকে সমর্থন করার অভিযোগে বিভিন্ন বই জব্দের ঘটনাও বিতর্ক তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন>
অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে ‘সিনেমা স্টাইলে’ তুলে নিয়ে গেল পুলিশ
পশ্চিমবঙ্গ কি তাহলে গুজরাট বা উত্তর প্রদেশ মডেলে চলবে?
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি: সোনাম ওয়াংচুকের পক্ষে সরব বলিউড তারকারা
সরকারের দাবি, সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ মোকাবিলায় এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন। সমালোচকদের প্রশ্ন, নিরাপত্তার নামে নাগরিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কতটা সীমিত করা যায়?
গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত, তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা, ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ এবং কাশ্মীরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে দেশটির গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। সরকারের বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান এবং দুর্নীতি, অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিরোধীদের অভিযোগ, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাত রয়েছে এবং বিরোধীদের দুর্বল করতেই সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভারতের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপত্তা ও আইনের শাসন বজায় রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধিতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
কারণ গণতন্ত্র শুধু ভোট দেওয়ার অধিকার বা নির্বাচন আয়োজনের নাম নয়। একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রে সরকারের সমালোচনা করার অধিকার থাকতে হয়, বিরোধীদের কথা বলার সুযোগ থাকতে হয় এবং নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষিত থাকতে হয়। ভারতের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে এই ভারসাম্য কতটা সফলভাবে রক্ষা করা যায় তার ওপর।
সূত্র: বিবিসি, দ্য হিন্দু, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আল-জাজিরা
এমএসএম
What's Your Reaction?