বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক মো. আলী হাসানের ইন্তেকাল

উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রখ্যাত লেখক, চিন্তাবিদ ও কলামিস্ট অধ্যাপক মো. আলী হাসান ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান তুষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরহুম আলী হাসান বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সৈয়দ আহমেদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান এবং ঐতিহ্যবাহী ‘বলাকা প্রকাশনী’র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। অধ্যাপক মো. আলী হাসান দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন। বলাকা প্রকাশনীর মাধ্যমে সহজ, প্রাঞ্জল ও পরীক্ষা উপযোগী ভাষায় ইংরেজি বিষয়ক অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করে তিনি দেশের শিক্ষা অঙ্গনে স্থায়ী অবদান রেখে গেছেন। তার রচিত বইগুলো দেশের অগণিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। একজন সুপরিচিত কলামিস্ট ও প্রখর রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে তিনি সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতি নিয়ে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক কলাম লিখতেন। মরহুম আলী হাসান মৃত্যুকালে তিন পুত্র,

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক মো. আলী হাসানের ইন্তেকাল

উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রখ্যাত লেখক, চিন্তাবিদ ও কলামিস্ট অধ্যাপক মো. আলী হাসান ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান তুষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মরহুম আলী হাসান বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সৈয়দ আহমেদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান এবং ঐতিহ্যবাহী ‘বলাকা প্রকাশনী’র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

অধ্যাপক মো. আলী হাসান দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন। বলাকা প্রকাশনীর মাধ্যমে সহজ, প্রাঞ্জল ও পরীক্ষা উপযোগী ভাষায় ইংরেজি বিষয়ক অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করে তিনি দেশের শিক্ষা অঙ্গনে স্থায়ী অবদান রেখে গেছেন। তার রচিত বইগুলো দেশের অগণিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। একজন সুপরিচিত কলামিস্ট ও প্রখর রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে তিনি সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতি নিয়ে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক কলাম লিখতেন।

মরহুম আলী হাসান মৃত্যুকালে তিন পুত্র, তিন কন্যা, অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা অগণিত ছাত্র-ছাত্রী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে দেশের শিক্ষা অঙ্গন, সাহিত্যজগৎ এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তার পরিমণ্ডলে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী অধ্যাপক মো. আলী হাসান বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং জিয়া পরিষদের সহসভাপতি হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি বিএনপির মনোনয়নে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রত্যাশীও ছিলেন।

ব্যক্তিজীবনে মরহুম আলী হাসান একজন অনুকরণীয় অভিভাবক ছিলেন। তার সন্তানেরা দেশ-বিদেশে শিক্ষা ও চিকিৎসাক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। বড় ছেলে অধ্যাপক ডা. এম. এ. মতিন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নাক, কান ও গলা (ENT) বিশেষজ্ঞ এবং FRCS সার্জন। তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে আয়ারল্যান্ডের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। মেজো পুত্র ড. এ. কে. এম. মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষক, যিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত। কনিষ্ঠ পুত্র ডা. মো. মাসুদ বিন হাসান, দেশের প্রখ্যাত ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন এবং বর্তমানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

মরহুমের পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন, মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার ধৈর্য দান করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow