বিশ্বকাপে নাজুক অবস্থায় গিয়েই শিরোপা জেতে ব্রাজিল, ইতিহাস যা বলছে

ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের মিশন শুরু হয়ে গেছে ব্রাজিলের। শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে কার্লো  আনচেলত্তির দল। তারপরও হেক্সা মিশনে আশাবাদী সেলেসাও ভক্তরা। এর পেছনে বড় কারণ অতীত উদাহরণ।  চার কোচ, ৩৭ ম্যাচ, ১৭ জয়, ১০ ড্র এবং ১০ হার; কোনো শিরোপা নেই, জয়ের হার মাত্র ৫৪.৫ শতাংশ। এমন পরিসংখ্যান নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপে পা রেখেছে ব্রাজিল। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটিই ছিল বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল প্রস্তুতি পর্ব। ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম গ্লোবোর মতে, ব্রাজিলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি ধারণা জনপ্রিয় হয়েছে, খারাপ প্রস্তুতি নাকি কখনও কখনও ভালো লক্ষণও হতে পারে। কারণ ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে, ব্রাজিলের সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপ জয়ের আগেও দলটি খুব একটা ভালো অবস্থায় ছিল না। ১৯৯৪ ও ২০০২: সংকটের মধ্যেই শিরোপা ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের সময়টা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে দলটির কোচ ছিলেন দুজন- পাউলো রবার্তো ফালকাও এবং কার্লোস আলবার্তো পারেইরা। এই সময়ে কোনো শিরোপা জিততে পারেনি ব্রা

বিশ্বকাপে নাজুক অবস্থায় গিয়েই শিরোপা জেতে ব্রাজিল, ইতিহাস যা বলছে

ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের মিশন শুরু হয়ে গেছে ব্রাজিলের। শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে কার্লো  আনচেলত্তির দল। তারপরও হেক্সা মিশনে আশাবাদী সেলেসাও ভক্তরা। এর পেছনে বড় কারণ অতীত উদাহরণ। 

চার কোচ, ৩৭ ম্যাচ, ১৭ জয়, ১০ ড্র এবং ১০ হার; কোনো শিরোপা নেই, জয়ের হার মাত্র ৫৪.৫ শতাংশ। এমন পরিসংখ্যান নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপে পা রেখেছে ব্রাজিল। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটিই ছিল বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল প্রস্তুতি পর্ব।

ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম গ্লোবোর মতে, ব্রাজিলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি ধারণা জনপ্রিয় হয়েছে, খারাপ প্রস্তুতি নাকি কখনও কখনও ভালো লক্ষণও হতে পারে। কারণ ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে, ব্রাজিলের সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপ জয়ের আগেও দলটি খুব একটা ভালো অবস্থায় ছিল না।

১৯৯৪ ও ২০০২: সংকটের মধ্যেই শিরোপা

১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের সময়টা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে দলটির কোচ ছিলেন দুজন- পাউলো রবার্তো ফালকাও এবং কার্লোস আলবার্তো পারেইরা। এই সময়ে কোনো শিরোপা জিততে পারেনি ব্রাজিল। এমনকি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল টিকিট নিশ্চিত করতে।

২০০২ সালের চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ। যদিও ১৯৯৯ সালে কোপা আমেরিকা জিতেছিল ব্রাজিল, তারপরও কোচ ভ্যান্ডারলেই লুক্সেমবার্গো ও এমারসন লেয়াওকে বরখাস্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মাত্র এক বছর আগে দায়িত্ব নেন লুইজ ফেলিপে স্কলারি, যিনি দলকে পঞ্চম বিশ্বকাপ এনে দেন।

তবে সংকটের মধ্যে বিশ্বকাপ জয় করাই যে নিয়ম, তা নয়। ইতিহাসে ব্রাজিল অনেক সময় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও ফেবারিটের তকমা নিয়েও বিশ্বকাপ জিতেছে।

বিশ্বকাপ জয়ের আগে বিভিন্ন চক্রে ব্রাজিলের সাফল্যের হার ছিল:

১৯৬২ বিশ্বকাপ চক্র – ৮০.৩%

১৯৭০ বিশ্বকাপ চক্র – ৭৪.৫%

১৯৫৮ বিশ্বকাপ চক্র – ৬৯.৯%

২০০২ বিশ্বকাপ চক্র – ৬৬.৬%

১৯৯৪ বিশ্বকাপ চক্র – ৬০.৯%

২০২৬ বিশ্বকাপ চক্র – ৫৪.৫%

পরিসংখ্যানই বলছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের প্রস্তুতি ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল।


‘ফেবারিট না হওয়া’ তত্ত্ব কি সত্য?


ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ মনে করেন, এই ধারণা মূলত কুসংস্কার ছাড়া আর কিছু নয়। গ্লোবো গ্রুপের বিশ্লেষক রদ্রিগো কৌতিনহোর মতে, বিশ্বকাপ একটি স্বল্পমেয়াদি টুর্নামেন্ট যেখানে অসংখ্য অনিশ্চিত বিষয় কাজ করে।


তার ভাষায়, ‘অনেক সময় ফেবারিট দলগুলোর ভেতরে কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়। কখনো কোনো অপ্রত্যাশিত হার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়। বিশ্বকাপে মানসিক চাপ অত্যন্ত বেশি থাকে। যে দল এই চাপ ভালোভাবে সামলাতে পারে, তারাই এগিয়ে থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফেবারিট না হলে খেলোয়াড়রা হয়তো আরও বেশি মনোযোগী হয়। আবার ফেবারিট হলে আত্মতুষ্টি চলে আসতে পারে। প্রস্তুতিতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে, ফিটনেস কমে যেতে পারে এবং দলীয় সংহতি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।’


ভালো প্রস্তুতি, কিন্তু শিরোপা নেই

ব্রাজিলের সাম্প্রতিক পাঁচটি বিশ্বকাপ চক্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, দলটি বেশিরভাগ সময়ই ভালো অবস্থায় বিশ্বকাপে গেছে। ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে তাদের সাফল্যের হার ছিল ৬৬.৭ শতাংশ। ২০২২ বিশ্বকাপের আগে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩.৯ শতাংশে। তবুও বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব হয়নি।

বিশেষ করে ২০০৬ সালের দলটিকে অনেকেই ব্রাজিলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্কোয়াড বলে মনে করেন। রোনালদিনিও, কাকা, রোনালদো, আদ্রিয়ানোসহ বিশ্বসেরাদের নিয়ে গঠিত সেই দলও কোয়ার্টার ফাইনাল পেরোতে পারেনি। সেই দলের সদস্য জে রবার্তো পরে স্বীকার করেছিলেন, দলের বড় সমস্যা ছিল প্রস্তুতির ঘাটতি।


সাম্প্রতিক উদাহরণ ভিন্ন কথা বলে

ফেবারিট দল যে বিশ্বকাপ জিততে পারে না, সাম্প্রতিক ইতিহাস তা সমর্থন করে না। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয়ের আগে তাদের সাফল্যের হার ছিল ৭২.৭ শতাংশ। একই সময়ে তারা কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমাও জিতেছিল। ২০১৮ সালে ফ্রান্সও ছিল অন্যতম ফেবারিট। বিশ্বকাপের আগের চার বছরে তাদের জয়ের হার ছিল ৬৮ শতাংশ এবং প্রতিভাবান এক প্রজন্মের ফুটবলার নিয়ে তারা রাশিয়ায় শিরোপা জয় করে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow