বিশ্বকাপের মাঝেই ফুটবলকে বিদায় জানালেন তারকা গোলরক্ষক

বিশ্বকাপ চলাকালীনই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গুইলার্মো ওচোয়া। চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানান তিনি। এর মধ্য দিয়ে দুই দশকেরও বেশি সময়ের এক গৌরবময় যাত্রার সমাপ্তি ঘটল। ২০০৪ সালে ক্লাব আমেরিকার হয়ে অভিষেকের পর থেকেই নিজের অসাধারণ প্রতিভার জানান দেন ওচোয়া। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই দুর্দান্ত রিফ্লেক্স ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন তিনি। ক্লাব আমেরিকার জার্সিতে খেলেই ২০০৭ সালে মহাদেশের সেরা গোলরক্ষকের স্বীকৃতি পান। একই বছর ব্যালন ডি’অরের ৫০ জন মনোনীত খেলোয়াড়ের তালিকায় জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েন, যা এখনো কোনো মেক্সিকান ফুটবলারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপেও নিজের ছাপ রেখেছেন ওচোয়া। ফ্রান্সের আজাসিও, স্পেনের মালাগা ও গ্রানাডা, বেলজিয়ামের স্ট্যান্ডার্ড লিয়েজ, ইতালির সালার্নিতানা এবং পরবর্তীতে এভিএস ও এইইএল লিমাসলের হয়ে খেলেছেন তিনি। বিভিন্ন ইউরোপীয় ক্লাবের হয়ে খেলা একমাত্র মেক্সিকান গোলরক্ষক হিসেবে অনন্য এক রেকর্ডও গড়েছেন। ক্লাব ক

বিশ্বকাপের মাঝেই ফুটবলকে বিদায় জানালেন তারকা গোলরক্ষক

বিশ্বকাপ চলাকালীনই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গুইলার্মো ওচোয়া। চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানান তিনি। এর মধ্য দিয়ে দুই দশকেরও বেশি সময়ের এক গৌরবময় যাত্রার সমাপ্তি ঘটল।

২০০৪ সালে ক্লাব আমেরিকার হয়ে অভিষেকের পর থেকেই নিজের অসাধারণ প্রতিভার জানান দেন ওচোয়া। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই দুর্দান্ত রিফ্লেক্স ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন তিনি। ক্লাব আমেরিকার জার্সিতে খেলেই ২০০৭ সালে মহাদেশের সেরা গোলরক্ষকের স্বীকৃতি পান।

একই বছর ব্যালন ডি’অরের ৫০ জন মনোনীত খেলোয়াড়ের তালিকায় জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েন, যা এখনো কোনো মেক্সিকান ফুটবলারের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপেও নিজের ছাপ রেখেছেন ওচোয়া। ফ্রান্সের আজাসিও, স্পেনের মালাগা ও গ্রানাডা, বেলজিয়ামের স্ট্যান্ডার্ড লিয়েজ, ইতালির সালার্নিতানা এবং পরবর্তীতে এভিএস ও এইইএল লিমাসলের হয়ে খেলেছেন তিনি। বিভিন্ন ইউরোপীয় ক্লাবের হয়ে খেলা একমাত্র মেক্সিকান গোলরক্ষক হিসেবে অনন্য এক রেকর্ডও গড়েছেন।

ক্লাব ক্যারিয়ারে জিতেছেন লিগা এমএক্স, কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ক্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়নস এবং বেলজিয়ান কাপের শিরোপা। তবে ওচোয়াকে অমর করে রেখেছে জাতীয় দলের জার্সিতে তার অবদান। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন তিনি।

ব্রাজিল, জার্মানি ও পোল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত গোলরক্ষণের স্মৃতি এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে উজ্জ্বল। এছাড়া ছয়টি গোল্ড কাপ, একটি কনকাকাফ নেশনস লিগ শিরোপা এবং ২০২২ অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের কৃতিত্বও রয়েছে তার ঝুলিতে।

ফুটবল বিশ্বকাপে বয়স্ক ফুটবলারের তালিকায় ছিলেন গুইলার্মো ওচোয়া। ১৩ জুলাই, ১৯৮৫ সালে জন্ম নেওয়া এই গোলরক্ষক ইতোমধ্যে ৪০ বছর পার করেছেন। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে খেলতে নেমে মেসি, রোনালদোর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ মৌসুমে নামার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।

বিদায়ী ম্যাচে ৭৭তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন গুইলার্মো ওচোয়া। নির্ধারিত ১৩ মিনিট ও সংযুক্তি সময় মিলিয়ে মোট ১৯ মিনিট খেলেছেন তিনি। শেষ ম্যাচে দলের দুর্গও অক্ষত রেখেছেন এই গোলরক্ষক। ম্যাচ শেষে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারকে বিদায় জানিয়েছেন মেক্সিকোর এই কিংবদন্তি গোলরক্ষক।

ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘মনে পড়ছে অসংখ্য গল্প, অসংখ্য স্মৃতি। এই গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে আমার প্রথম ম্যাচ, শিরোপা জয়, বিশ্বকাপ, জাতীয় দলের অসংখ্য মুহূর্ত। মানুষ যে ভালোবাসা দিয়েছে, তার জন্য ধন্যবাদ জানানোর ভাষা আমার নেই। পরিবার, সতীর্থ ও কোচদের সহায়তায় এই পথটা পাড়ি দিতে পেরেছি। সব ত্যাগ আর পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow