মাশরাফি অনে আগে থেকেই নেই। তামিম ইকবাল এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও জাতীয় দল থেকে অবসরে। সাকিব আল হাসান থেকেও নেই। পরিবেশ পারিপার্শিকতার কারণে দেশে ফেরা হচ্ছে না। জাতীয় দলেও খেলা হচ্ছে না। সম্প্রতি সাদা বলে জাতীয় দলে আর না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন মুশফিকুর রহিমও।
সব মিলিয়ে জাতীয় দলে বেশ কয়েকটি পজিশন খালি। সেখানে বিকল্প পারফর্মারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সে সব জায়গায় বিকল্প ক্রিকেটারের কথা ভাবছেন অনেকেই। সম্ভাব্য বিকল্প পারফর্মার হিসেবে উঠে আসছে কয়েকটি নাম। সে তালিকায় আছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ২৩ বছরে যুবা মাহিদুল ইসলাম অংকনের নামও।
এখনো সেভাবে পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে আসতে পারেননি। তবে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দুই বছর ধরে দারুন পারফরম করছেন এ ব্যাটার কাম উইকেটকিপার। ২০২৪ সালের প্রিমিয়ার লিগে সব নামি ও ঝানু ব্যাটারদের পিছনে ফেলে ১৬ ম্যাচে ৮ বার (একটি সেঞ্চুরি ও ৭টি হাফ সেঞ্চুরি) পঞ্চাশের ওপরে স্কোর করে মোট ৬৪৭ রান তুলে সর্বাধিক রান সংগ্রকারী হয়ে সবার নজরে পড়েন মাহিদুল ইসলাম অংকন।
এবারও ঢাকা মোহামেডানের হয়ে বেশ ভাল খেলছেন অংকন। কেউ কেউ তাকে মুশফিকুর রহীমের সম্ভাব্য বিকল্প ভাবছেন।
যাকে নিয়ে এত কথা-বার্তা, সেই অংকনের ভাবনাটা আসলে কী? এই যুবা কী এখন জাতীয় দলে খেলার জন্য প্রস্তুত? তার নিজের মূল্যায়নই বা কী?
জাগো নিউজের সাথে একান্ত আলাপে অংকন সে ভাবনার কথাই শেয়ার করেছেন। আসুন শোনা যাক তার সে সব কথা...।
জাগো নিউজ: গত প্রিমিয়ার লিগে খুব ভালো খেলেছেন। সর্বোচ্চ রান সংগ্রকারী হয়েছেন। এবারো অষ্টম রাউন্ড শেষ হওয়ার সময় পর্যন্ত রান তোলায় সেরা পাঁচে অবস্থানে রয়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে আপনার যে ফর্ম, তাতে অনেকেরই ধারণা এবার হয়তো জাতীয় দলে ডাক আসবে। আপনি নিজে কি সেই ডাকের অপেক্ষায় আছেন?
অংকন: সব সময় চিন্তা থাকে যে, যত ভাল খেলা যায়, যতটা সম্ভব ভাল পারফর্ম করা যায়। ভাল পারফর্মেন্সেরতো শেষ নেই। ভাল খেলার কথাই ভাবি বেশি। ওই দিকেই ফোকাস থাকি। ভাল পারফর্মেন্স করতে পারি সেই ভাবনাটাই থাকে ভেতরে।
আর এটাও বিশ্বাস করি ভাল পারফর্ম করতে পারলে অবশ্যই কখনো না কখনো সুযোগ আসবে। রাইট টাইমেই সুযোগ আসবে আর শুধু সুযোগ আসলো এবং সেই সুযোগ কাজে লাগালাম, সেটাই বড় কথা নয়। সে সুযোগ যেন ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারি, সেটাও ভাবি। ওসব দিকেই আমার মূল ফোকাস।
জাগো নিউজ: তাহলে কি জাতীয় দলে খেলতেই হবে, এবছরই চান্স পেতে হবে, অংকন তাহলে এমন চিন্তায় মগ্ন না?
অংকন: সেটাই। আমি ওভাবে চিন্তা করতে চাই না। সেটা প্রপার থিংকিংও না। সেটা কেউ বলতেও পারবে না যে আমি এ বছরই ন্যাশনাল টিমে খেলবো। সব সময় ফোকাস থাকে, যখন যে টুর্নামেন্ট খেলি তাতে ভাল খেলার। ‘ইমপ্যাক্ট’ ফেলার কথাও ভাবি। দলের জন্য কন্ট্রিবিউট করার লক্ষ্য থাকে। এখন যেমন প্রিমিয়ার লিগ চলছে। এখানে আমার মূল টার্গেট হলো দলের জন্য কন্ট্রিবিউট করা। আমার বিশ্বাস, যদি অ্যাবিলিটি থাকে, তাহলে আল্লাহ তা’আলা সময় মত সুযোগ করে দেবেন।
জাগো নিউজ: কত বছর খুব ভাল গেছে। এবারও বেশ ভাল খেলছেন, এবারের লক্ষ্য কী?
অংকন: আল্লাহর রহমতে গত বছর আমি ভাল খেলেছিলাম। আমার টিম মোহামেডান রানার্সআপ হয়েছিল। এবারো আমরা ভালই খেলছি। এখনো আমরা মোটামুটি ভাল অবস্থায় আছি। ঈদের পর থেকে রিয়াল ফেজ শুরু হবে লিগের। তখনকার মোমেন্টামটা ধরতে হবে। আমি নিজে এবং আমার দল যদি ওই আসল লড়াই শুরুর সঙ্গে সঙ্গে মোমেন্টাম ধরতে পারি, তাহলে ইনশাল্লাহ ভাল লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো।
জাগো নিউজ: ক্রিকেটার হওয়ার পেছনের গল্প শুনতে চাই?
অংকন: আমার বাসা টিকাটুটি। স্থানীয় কোচ হচ্ছেন ইমন ভাই। তিনিই আমাকে প্রিমিয়ার লিগ খেলিয়েছেন। উনার একটা একাডেমি আছে। ওই একাডেমিতে ব্রাদার্স মাঠেই আমার অনুশীলন করে বেড়ে ওঠা। এরপর এইজ লেভেল খেলে অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ এ খেলা। এরপর একাডেমি ও এইচপিতে অংশ নিয়েছি।
জাগো নিউজ: ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে আপনার প্রথম টিম কোনটা?
অংকন: আমি ঢাকার ক্লাব পর্যায়ে সেই তৃতীয় বিভাগ বাছাই থেকে শুরু করে দ্বিতীয় বিভাগ ও প্রথম বিভাগসহ সব পর্যায়ে অন্তত এক বছর করে খেলেছি। কোচ ইমন ভাই চেয়েছেন, আমি যাতে একবারে ওপরে উঠে না যাই। সব পর্যায়ে খেলে খেলে ওপরে উঠি। তাতে ‘সিজনড’ হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই তিনি আমাকে সব লিগে খেলানোর পরামর্শ দিয়েছেন। খেলিয়েছেনও।
জাগো নিউজ: প্রথম বিভাগ লিগে আপনার প্রথম দল কোনটা?
অংকন: প্রথম বিভাগ লিগে আমি প্রথম খেলেছি ওল্ডডিওএইচএস-এ।
জাগো নিউজ: প্রিমিয়ার লিগে কোন দলের হয়ে প্রথম মাঠে নামেন?
অংকন: প্রথম দল খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি। আন্ডার নাইনটিন খেলার পর ঢাকার শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে প্রথম দল আমার খেলাঘর। তারপর শাইন পুকুরে এক বছর খেলেছি। এবার নিয়ে তৃতীয় বছর মোহামেডানের হয়ে খেলছি।
জাগো নিউজ: আপনি বলেছেন, এখনই জাতীয় দলের হয়ে খেলতে মরিয়া নন, সেটা সময়ের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তারপরও কি মনে হয় না, আপনি এখনই জাতীয় দলে খেলার জন্য প্রস্তুত?
অংকন: আমি আসলে মোটামুটি না, সব সময়ই অনুভব করি। আমার দিক থেকে আমি হান্ড্রেড পারসেন্ট রেডি থাকি। আমার দিক থেকে মনে হয় আমি এখনই তৈরি। এখনই যদি সুযোগ পাই ন্যাশনাল টিমে, তাহলে হান্ড্রেড পারসেন্ট রেডি। আমার বিশ্বাস একদিন আমি তিন ফরম্যাটেই জাতীয় দলে খেলতে পারবো এবং ভাল পারফরম করতে পারবো।
এআরবি/আইএইচএস/