বিশ্বে ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে ৫৩তম বাংলাদেশ, শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

দেশের অভ্যন্তরে পোলট্রি শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটলেও বিশ্বে ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদনে শীর্ষ ৫০-এর বাইরে রয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক উৎপাদনের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৫৩তম। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, পোলট্রি খাদ্যের উচ্চমূল্য এবং খামারিদের সঠিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি এই খাতে আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জনে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্রয়লার বা পোলট্রি মাংস উৎপাদনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ১৭ শতাংশই আসে দেশটি থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন, তৃতীয় ব্রাজিল, চতুর্থ রাশিয়া এবং পঞ্চম ভারত। বাংলাদেশে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। পোলট্রি শিল্প বর্তমানে দেশের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস এবং এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের জীবিকা জড়িত। তবে বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে আরও এগিয়ে যেতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমানো, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের পোলট্

বিশ্বে ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে ৫৩তম বাংলাদেশ, শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

দেশের অভ্যন্তরে পোলট্রি শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটলেও বিশ্বে ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদনে শীর্ষ ৫০-এর বাইরে রয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক উৎপাদনের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৫৩তম। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, পোলট্রি খাদ্যের উচ্চমূল্য এবং খামারিদের সঠিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি এই খাতে আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জনে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্রয়লার বা পোলট্রি মাংস উৎপাদনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ১৭ শতাংশই আসে দেশটি থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন, তৃতীয় ব্রাজিল, চতুর্থ রাশিয়া এবং পঞ্চম ভারত।

বাংলাদেশে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। পোলট্রি শিল্প বর্তমানে দেশের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস এবং এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের জীবিকা জড়িত। তবে বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে আরও এগিয়ে যেতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমানো, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো খাদ্যের উচ্চ মূল্য। একটি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনের মোট ব্যয়ের বড় অংশই খাদ্যের পেছনে ব্যয় হয়। পাশাপাশি আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বার্ড ফ্লুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে দেশের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

খাতসংশ্লিষ্টদের আশা, সরকারি সহায়তা, প্রযুক্তির বিস্তার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক উৎপাদনের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও উন্নত হবে।

এদিকে বিশ্বজুড়ে ফার্মের মুরগি উৎপাদনের ১ম স্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে রেকর্ড ২ কোটি ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭ মেট্রিক টন মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন। দেশটির বিশাল জনসংখ্যার মাংসের চাহিদা মেটাতে স্থানীয় সরকার পোলট্রি শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ করে আসছে।

অন্যদিকে, তৃতীয় স্থান দখল করে রেখেছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। শুধু উৎপাদনেই সেরা নয়, তারা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মুরগির মাংস রপ্তানিকারকও বটে। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বহু দেশে ব্রাজিলের হিমায়িত মুরগির মাংস নিয়মিত রপ্তানি হয়। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া তাদের অভ্যন্তরীণ পোলট্রি শিল্পকে বেশ শক্তিশালী করে তুলেছে। বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। তাদের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং পোলট্রি ফিড বা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা তাদের এই অবস্থানে আসতে সাহায্য করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow