বুলেট বৈরাগী হত্যা : জবানবন্দি দিলেন আরও এক আসামি

কুমিল্লার কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আরও এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।  বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ষষ্ঠ আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির কাছে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন ইসমাইল হোসেন ওরফে জনি (২৮)। ইসমাইল হোসেন কুমিল্লার শহরতলির ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা। এর আগে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও চার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন; তারা বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনদিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ইসমাইলকে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে গত সোমবার মামলার শুনানি শেষে আদালত তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) টিটু কুমার নাথ জানান, রিমান্ড শেষে জবানবন্দি প্রদানের পর আদালত ইসমাইলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিকেল ৫টার দিকে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগে, গত সোমবার (২৭ এ

বুলেট বৈরাগী হত্যা : জবানবন্দি দিলেন আরও এক আসামি
কুমিল্লার কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আরও এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।  বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ষষ্ঠ আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির কাছে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন ইসমাইল হোসেন ওরফে জনি (২৮)। ইসমাইল হোসেন কুমিল্লার শহরতলির ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা। এর আগে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও চার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন; তারা বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনদিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ইসমাইলকে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে গত সোমবার মামলার শুনানি শেষে আদালত তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) টিটু কুমার নাথ জানান, রিমান্ড শেষে জবানবন্দি প্রদানের পর আদালত ইসমাইলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিকেল ৫টার দিকে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগে, গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) একই আদালতে জবানবন্দি দেওয়া অন্য চার আসামি হলেন, ধর্মপুর এলাকার মো. সোহাগ (৩৪), মো. সুজন (৩২), আমড়াতলী এলাকার এমরান হোসেন ওরফে হৃদয় (৩৪) ও আড়াইওড়া এলাকার রাহাত হোসেন ওরফে জুয়েল (২৭)। গত রোববার রাতে কুমিল্লা মহানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে বুলেট বৈরাগী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। এতে আগে থেকেই যাত্রী সেজে অবস্থান করছিল ছিনতাইকারীরা। পরে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মোবাইল ফোন, ব্যাগ, ক্যামেরা ও জুতা ছিনিয়ে নেয় এবং চলন্ত সিএনজি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরদিন শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি হাড়াতলী এলাকায় আইরিশ হিল হোটেলের পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত ও মুখমণ্ডলে রক্তাক্ত চিহ্ন ছিল। পরে রোববার কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করা হয়। প্রথমে কুমিল্লা রেলস্টেশন এলাকা থেকে সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিবিরবাজার এলাকা থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া বুড়িচং থানার এরশাদ ডিগ্রি কলেজের সামনে থেকে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ ও চালককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত মোবাইলসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব-১১ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএসের নন-ক্যাডার হিসেবে কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন এবং কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow