বৃষ্টিতে দিনভর ডুবলো চট্টগ্রাম, মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগ

বৃষ্টির পানিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোমর সমান, কোথাও আবার বুক সমান পানিতে তলিয়ে গেছে নগরীর বিভিন্ন সড়ক। এতে ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। সোমবারের (২৭ এপ্রিল) স্বস্তির বৃষ্টি, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নগরের নিচু এলাকার জন্য অভিশাপ হয়ে ওঠে। প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, তিনপোল, জিইসি, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক, চান্দগাঁও, বাকলিয়া থেকে শুরু করে পাহাড়চূড়া খ্যাত জামালখান এলাকায়ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে এ দিন। আমবাগানে দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে ৯১ মিলিমিটার, পতেঙ্গায় সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ৬৩ মিলিমিটার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেলা আড়াইটায় নগরীর প্রবর্তক ও মুরাদপুর এলাকার সড়কগুলোতে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেখানে কোমর থেকে বুক পর্যন্ত পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বদনা শাহ মাজার গেট থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত পুরো সড়ক ডুবে আছে। ওই অংশে হিজড়া খালের সম্প্রসারণকাজ চলছে। খালের মুখে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধ পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে খালের পানি উপচে সরাসরি সড়কে উঠে

বৃষ্টিতে দিনভর ডুবলো চট্টগ্রাম, মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগ

বৃষ্টির পানিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোমর সমান, কোথাও আবার বুক সমান পানিতে তলিয়ে গেছে নগরীর বিভিন্ন সড়ক। এতে ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

সোমবারের (২৭ এপ্রিল) স্বস্তির বৃষ্টি, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নগরের নিচু এলাকার জন্য অভিশাপ হয়ে ওঠে। প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, তিনপোল, জিইসি, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক, চান্দগাঁও, বাকলিয়া থেকে শুরু করে পাহাড়চূড়া খ্যাত জামালখান এলাকায়ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে এ দিন। আমবাগানে দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে ৯১ মিলিমিটার, পতেঙ্গায় সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ৬৩ মিলিমিটার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেলা আড়াইটায় নগরীর প্রবর্তক ও মুরাদপুর এলাকার সড়কগুলোতে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেখানে কোমর থেকে বুক পর্যন্ত পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বদনা শাহ মাজার গেট থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত পুরো সড়ক ডুবে আছে। ওই অংশে হিজড়া খালের সম্প্রসারণকাজ চলছে। খালের মুখে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধ পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে খালের পানি উপচে সরাসরি সড়কে উঠে আসছে। পানির কারণে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। সামান্য একটি অংশ পার হতে সময় লাগছে দীর্ঘক্ষণ। অবশ্য এ সড়ক এড়িয়ে চলছেন যানবাহনের চালকরা।

নগরের মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা শাখাওয়াত সোহান বলেন, প্রতিটি খাল ও নালা পলিথিন, গৃহস্থালি আবর্জনায় ভর্তি। মনে হয় না চসিক নিয়মিত নালা পরিষ্কার করে। একে তো খাল, নালা দখল হয়ে গেছে। পানি নামার পথ নেই। তারওপর বাসা বাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ পদ্ধতি নিয়ে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার কারণে ভেঙে পড়েছে। সব কিছু দায়সারা ও লোকদেখানো হয়ে গেছে। প্রবতর্ক মোড় এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, ‘প্রবর্তক মোড়ে আমার বুক সমান পানি। এখানে রাস্তাঘাট আর দোকানগুলো পানিতে ডুবে গেছে। জন্ম থেকে দেখছি সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা। আমাদের এই দুঃখ কখন যাবে জানি না। প্রবর্তক এলাকায় সড়কে পানি জমে থাকার প্রভাবে জিইসির মোড়, গোলপাহাড়সহ আশপাশের সব এলাকায় তীব্র যানজট দেখা গেছে।’

এদিকে, সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, 'বর্তমানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) আওতায় হিজরা খাল ও জামালখান খালের সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ চলার কারণেই কিছু এলাকায় পানি নিষ্কাশনে সাময়িক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। ফলে বৃষ্টি হলেই দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা। তবে এই সমস্যা স্থায়ী নয়।'

১৫ মে'র মধ্যে খাল সংস্কার কাজ শেষ হবে জানিয়ে মেয়র বলেন, 'এই কষ্ট দীর্ঘস্থায়ী নয়। আগামী ১৫ মে'র মধ্যে সিডিএর খাল সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ শেষ হবে। কাজ শেষ হলে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি ঘটবে এবং জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।'

চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টা ৫৯ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow