বেশিরভাগ তেলপাম্প বন্ধ, খোলার খবর পেলেই ভিড় করছে মানুষ

মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কায় অতিরিক্ত তেল মজুতের চেষ্টা করছেন সাধারণ ক্রেতারা। ফলে চাহিদার তুলনায় বেশি বিক্রি হওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে পাম্পগুলো। এতে অধিকাংশ তেলপাম্প বন্ধ করে রেখেছেন মালিকরা। যেখানে পাম্প খোলার খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই ছুটছে মানুষ। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ২০০-৫০০ টাকার তেল নিতে পারছেন ক্রেতারা। শনিবার (৭ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, ক্রেতারা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থেকে তেল নিচ্ছেন। কেউ কেউ না পেয়েই ফিরছেন। বাস-ট্রাকগুলো তাদের নির্ধারিত পাম্প থেকে তেল নিতে পারছে। ফোন দিয়ে ডেকে নিয়ে বন্ধ পাম্প খুলে নিয়মিত কাস্টমারদের তেল দিয়ে ফের বন্ধ করে রাখছেন মালিকরা। তবে অনিয়মিত বাস-ট্রাকে তেল দেওয়া হচ্ছে না। পাম্প মালিকরা জানান, তেল সংকট হবে গত ৬-৭ দিন ধরে এমন খবরে ক্রেতারা পাম্প থেকে বেশি করে তেল কিনে নিয়ে যাওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এখন ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না পাওয়ায় সংকট আরও বাড়ছে। সংকট থেকে উত্তরণের কোনো খবরও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। এভাবে চলতে থাকলে এবার বোরো চাষ বিঘ্ন হবে বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরা। মেহেরপুর সদর উপজেলা আমদহ ইউনিয়নের কৃষক সাইদুর রহমান জা

বেশিরভাগ তেলপাম্প বন্ধ, খোলার খবর পেলেই ভিড় করছে মানুষ

মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কায় অতিরিক্ত তেল মজুতের চেষ্টা করছেন সাধারণ ক্রেতারা। ফলে চাহিদার তুলনায় বেশি বিক্রি হওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে পাম্পগুলো। এতে অধিকাংশ তেলপাম্প বন্ধ করে রেখেছেন মালিকরা। যেখানে পাম্প খোলার খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই ছুটছে মানুষ। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ২০০-৫০০ টাকার তেল নিতে পারছেন ক্রেতারা।

শনিবার (৭ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, ক্রেতারা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থেকে তেল নিচ্ছেন। কেউ কেউ না পেয়েই ফিরছেন। বাস-ট্রাকগুলো তাদের নির্ধারিত পাম্প থেকে তেল নিতে পারছে। ফোন দিয়ে ডেকে নিয়ে বন্ধ পাম্প খুলে নিয়মিত কাস্টমারদের তেল দিয়ে ফের বন্ধ করে রাখছেন মালিকরা। তবে অনিয়মিত বাস-ট্রাকে তেল দেওয়া হচ্ছে না।

পাম্প মালিকরা জানান, তেল সংকট হবে গত ৬-৭ দিন ধরে এমন খবরে ক্রেতারা পাম্প থেকে বেশি করে তেল কিনে নিয়ে যাওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এখন ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না পাওয়ায় সংকট আরও বাড়ছে। সংকট থেকে উত্তরণের কোনো খবরও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। এভাবে চলতে থাকলে এবার বোরো চাষ বিঘ্ন হবে বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

মেহেরপুর সদর উপজেলা আমদহ ইউনিয়নের কৃষক সাইদুর রহমান জানান, তিনি ৮ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছেন। তার শ্যালো মেশিনের অধীনে ১০০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া হয়। ৩-৪ দিন ধরে পাম্পগুলো ঘুরে অল্প অল্প করে ডিজেল পেলেও আজ দুদিন ধরে কোনো ডিজেল কিনতে পারেননি। ফলে ধানের জমিতে সেচ দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে গেছে।

আরেক কৃষক আবুল কালাম জানান, ধানে এখন নিয়মিত সেচ দেওয়া জরুরি। ডিজেলের অভাবে আজ পানি দিতে পারিনি। জমি শুকিয়ে গেলে ধানের উৎপাদন ব্যাহত হবে। সরকারের উচিত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাষিদের আগে ডিজেল দেওয়া। তা না হলে চাষিরা ক্ষতির মধ্যে পড়ে যাবে।

কাঁচামালের আড়তদার মিজানুর রহমান বলেন, তেলের দাম বেড়ে যাবে ও সংকট হবে এমন কথা ছড়িয়ে পড়ায় আমার পিকআপ ও মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে এসেছি। তবে তেলের দাম না বাড়লেও তেল সংকট ঠিকই হয়ে গেছে। ৫টি পাম্প ঘুরে একটি পাম্পে কিছু তেল পেয়েছি। মোটরসাইকেলের জন্য ৩০০ টাকার অকটেন পেয়েছি। তাও পুলিশ লাইনের পাশে নুর ফিলিং স্টেশনে যেতে হয়েছে। অন্যান্য পাম্প বেশির ভাগই বন্ধ রয়েছে।

তেলপাম্প মালিক সমিতির সভাপতি নুর হোসেন আঙ্গুর জানান, তেলের দাম বাড়ার কোনো খবর আমাদের কাছে নেই। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের খবরে মানুষ আতঙ্কে পাম্পে ভিড় করছে। আমরা মজুত অনুযায়ী নির্ধারিত মূলেই তেল বিক্রি করছি। তবে কোনো কোনো পাম্পের মজুত শেষ হয়ে গেলে ক্রেতারা তা মানতে না চাওয়ায় বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে।

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির জানান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেকেই আতঙ্কে তেল কিনছে। তবে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। পাম্প মালিকরা প্রাপ্যতা অনুযায়ী তেল বিক্রি করছে। জেলা প্রশাসন থেকে পাম্পগুলোতে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

আসিফ ইকবাল/এমএন/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow