ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা অনেক দেরিতে জানলাম: ফারুকী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্মাতা তানিম নূরের চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র প্রদর্শনী স্থগিতের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এ ঘটনায় এবার মুখ খুলেছেন নির্মাতা ও সাবেক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। আজ (২ জুন) বেলা ২টার দিকে রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনাটি তিনি অনেক দেরিতে জেনেছেন। তবে এ ধরনের ঘটনার কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন। ফারুকী লেখেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা অনেক দেরিতে জানলাম। যাই হোক এটা একটা ফ্রিন্জ ইলেমেন্ট হইলেও এসব প্রশ্রয় দেয়া উচিত না। কারো কাছে সিনেমা হারাম মনে হইলে সে দেখবে না। কিন্তু মুশকিল হইলো তার অপছন্দ যখন সে অন্যের উপর চাপাইয়া বলতে চায় ‘তুমিও সিনেমা দেখতে পারবা না’!’ তিনি আরও বলেন, দেশের ধর্মীয় শিবিরের কিছু মানুষের এমন আচরণ দেশকে যেমন বিতর্কিত করে, তেমনি সংশ্লিষ্ট ধর্মকেও বিতর্কের মুখে ফেলে। এ প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রায় ১৩ বছর আগে নির্মিত তার চলচ্চিত্র টেলিভিশন-এও একই ধরনের বিষয় উঠে এসেছিল। এত বছর পর একই ধরনের ঘটনা শুনে বিরক্ত লাগছে বলেও জা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা অনেক দেরিতে জানলাম: ফারুকী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্মাতা তানিম নূরের চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র প্রদর্শনী স্থগিতের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এ ঘটনায় এবার মুখ খুলেছেন নির্মাতা ও সাবেক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

আজ (২ জুন) বেলা ২টার দিকে রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনাটি তিনি অনেক দেরিতে জেনেছেন। তবে এ ধরনের ঘটনার কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন।

ফারুকী লেখেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা অনেক দেরিতে জানলাম। যাই হোক এটা একটা ফ্রিন্জ ইলেমেন্ট হইলেও এসব প্রশ্রয় দেয়া উচিত না। কারো কাছে সিনেমা হারাম মনে হইলে সে দেখবে না। কিন্তু মুশকিল হইলো তার অপছন্দ যখন সে অন্যের উপর চাপাইয়া বলতে চায় ‘তুমিও সিনেমা দেখতে পারবা না’!’

তিনি আরও বলেন, দেশের ধর্মীয় শিবিরের কিছু মানুষের এমন আচরণ দেশকে যেমন বিতর্কিত করে, তেমনি সংশ্লিষ্ট ধর্মকেও বিতর্কের মুখে ফেলে। এ প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রায় ১৩ বছর আগে নির্মিত তার চলচ্চিত্র টেলিভিশন-এও একই ধরনের বিষয় উঠে এসেছিল। এত বছর পর একই ধরনের ঘটনা শুনে বিরক্ত লাগছে বলেও জানান তিনি।

স্ট্যাটাসে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রসঙ্গও টানেন ফারুকী। তিনি বলেন, অনেকেই এ ঘটনার ব্যাখ্যা সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে চাইলেও বাস্তবে চলচ্চিত্র খাত বর্তমানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেই। তবে সাধারণ মানুষ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত মনে করেই প্রশ্ন তুলছেন।

একই সঙ্গে তিনি চলচ্চিত্র, ওটিটি ও বিনোদনভিত্তিক টেলিভিশন খাতকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনার পক্ষে মত দেন। ফারুকীর ভাষায়, ‘ইন্ডিয়া বাদে দুনিয়ার বেশিরভাগ দেশেই এটা কালচারেরই পার্ট। দ্রুত অ্যালোকেশন অব বিজনেসে পরিবর্তন আনা উচিত।’

এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের দুটি প্রদর্শনী আয়োজন স্থগিত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জেলার ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন।

সংগঠনগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্মাতা তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্রটির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়। পরে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ পূর্বের অনুমতি প্রত্যাহার করলে প্রদর্শনীটি স্থগিত হয়ে যায়।

একই দিনে কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামেও স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে চলচ্চিত্রটির আরেকটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেই প্রদর্শনীও বন্ধ হয়ে যায়।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ ও আল মাহমুদের মতো গুণীজনদের স্মৃতিবিজড়িত জেলা। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে সাংস্কৃতিক চর্চা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে। সেখানে সরকার অনুমোদিত একটি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।

তারা আরও উল্লেখ করেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী প্রদর্শনের অনুমতি পেয়েছে এবং দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। তাছাড়া নির্মাতা তানিম নূর নিজেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান। ফলে নিজ জেলায় তার চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে না পারার বিষয়টি আরও বেদনাদায়ক।

সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মতে, চলচ্চিত্র একটি স্বীকৃত শিল্পমাধ্যম, যা সমাজ, রাষ্ট্র, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কোনো ধরনের অসহনশীলতা, উগ্রতা বা অগণতান্ত্রিক আচরণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আরও পড়ুন:
প্রথমবার ‘মধুভাত’ খেয়ে যা বললেন জয়া আহসান 
ধর্ষণ থামাতে পারে না, সিনেমা ঠিকই থামাতে পারে: চমক 

যৌথ বিবৃতিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার প্রবণতার নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, খেলাঘর, উদীচী, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, আবরণী, কবির কলম, চারণ, সোনালি সকাল এবং আজকের সংস্কৃতি সংগঠনের নেতারা।

এমএমএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow