ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‎‎তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মানেই হচ্ছেন সাংবাদিকদের বন্ধু অথবা সাংবাদিকদের শত্রু। দেশের সাংবাদিক সমাজকে প্রতিশ্রুতি দিতে চাই যে আমরা একটি ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ বাংলাদেশে তৈরি করব। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।  তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‎তারেক রহমান একটি অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব নিয়েছেন। কোনো ধরনের বাঁকা পথ, কারচুপি বা কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই। এমনকি এই নির্বাচন সম্পর্কে কোনো মহল বা ব্যক্তি আজ পর্যন্ত প্রশ্ন তুলতে পারেনি। বাংলাদেশ জন্মের পর এত অবাধ নির্বাচন কখনো হয়নি। ফলে তারেক রহমান আজ জনগণের নির্বাচিত নেতা। আমরা সেই নেতার নেতৃত্বে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। তারেক রহমান বলছেন, ‌‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’। সেই পরিকল্পনা অনেক বিস্তৃত। কিন্তু আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজে হাত দিচ্ছি। তিনি বলেন, নারী অধিকার, প্রতিটি ফ্যামিলিতে কার্ড পৌঁছানো, বেকারদের কর্মসংস্থান, কৃষকদের জন্য ঋণ মৌকুফ এবং কৃষ

ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‎‎তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মানেই হচ্ছেন সাংবাদিকদের বন্ধু অথবা সাংবাদিকদের শত্রু। দেশের সাংবাদিক সমাজকে প্রতিশ্রুতি দিতে চাই যে আমরা একটি ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ বাংলাদেশে তৈরি করব।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‎তারেক রহমান একটি অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব নিয়েছেন। কোনো ধরনের বাঁকা পথ, কারচুপি বা কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই। এমনকি এই নির্বাচন সম্পর্কে কোনো মহল বা ব্যক্তি আজ পর্যন্ত প্রশ্ন তুলতে পারেনি। বাংলাদেশ জন্মের পর এত অবাধ নির্বাচন কখনো হয়নি। ফলে তারেক রহমান আজ জনগণের নির্বাচিত নেতা। আমরা সেই নেতার নেতৃত্বে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। তারেক রহমান বলছেন, ‌‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’। সেই পরিকল্পনা অনেক বিস্তৃত। কিন্তু আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজে হাত দিচ্ছি।

তিনি বলেন, নারী অধিকার, প্রতিটি ফ্যামিলিতে কার্ড পৌঁছানো, বেকারদের কর্মসংস্থান, কৃষকদের জন্য ঋণ মৌকুফ এবং কৃষক কার্ড দেওয়া, এই কাজগুলোকে গুরুত্বের সহকারে দেখা হচ্ছে। ‎চলমান রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ক্যাবিনেটে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে অন্য সব কাজে হাত দেওয়া হবে।

সরকারের নেওয়া কর্মসূচি নিয়ে জহির উদ্দিন বলেন, সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটারের মতো খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। নদী থেকে পানিকে কৃষকের জমি পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই, যাতে কৃষি উৎপাদনের পানির অভাব না ঘটে।

দক্ষিণাঞ্চলের পায়রা বন্দরকে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তুতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সে জন্য পায়রা পর্যন্ত চার লেনের রাস্তার কাজ নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। ভোলার গ্যাস যদি পরিপূর্ণভাবে উত্তোলন করা যায়, তাহলে শুধু দক্ষিণাঞ্চল নয়, সারা দেশে উন্নত চাহিদা আমরা পূরণ করতে পারব। পাশাপাশি জ্বালানির চাহিদা পূরণ করতে পারব।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, কুয়াকাটা আমাদের জন্য একটা বিশাল সম্পদ। যদি এটাকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে পারি এবং সরাসরি যদি বিমান চলাচলের ব্যবস্থা থাকে তাহলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারব। এতে এই অঞ্চলের অর্থনীতি যেমন বাড়বে, তেমনি বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা বাড়বে।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের সরকারের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং জনগণের সেবা পাওয়ার যে নিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, এর পেছনে বাংলাদেশের মানুষের অবদান রয়েছে। আমাদের সময় দিলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজগুলোকে শেষ করব।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‎১৮০ দিনের একটি পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি। ১৮০ দিনের কাজ কী কী হতে পারে এবং যেগুলো বাস্তবায়নযোগ্য, এটা নিয়ে আমরা কাজ করব।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‎সরকারের বয়স মাত্র কয়েক দিন। ইতিমধ্যে আমরা কয়েক জায়গায় লক্ষ করেছি সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে যে নিয়ম-নীতি, বিভিন্ন নিয়োগ, সমস্যার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতার বাইরেও কেউ কেউ তৎপরতা দেখানোর চেষ্টা করছে। এই ধরনের সংঘবদ্ধ যেকোনো আইনবিরোধী তৎপরতাকে আমরা মব বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।  

পরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সভায় তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে একটা প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক জগতে ঢুকে পড়েছি আমরা। এরকম সময় গণমাধ্যমটা কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে নিয়ে কাজ করা হবে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম একটা প্রচলিত ধারায় চলছে বহু বছর ধরে মাঝখানে কিছু প্রযুক্তি প্রবেশ করেছে। কিন্তু কালচার অফ মিডিয়ার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। অথচ ইকো সিস্টেমের অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। প্রত্যেকটা জায়গায় ট্রান্সফরমেশন অনেক বড় হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে নলেজ ট্রান্সফর্মেশন হয়নি। 

তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের অনুরোধ করে বলেন, সম্মিলিতভাবে অনেক ভালো ভালো চিন্তা এখান থেকে বের করা যাবে। সাংবাদিকদের অনেকের মধ্যেই ভালো ভালো চিন্তাভাবনা থাকতে পারে, সেগুলো আমাদের দিলে আমরা উপকৃত হব। এতে দেশও উপকৃত হবে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদেন নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। 

মতবিনিময় সভায় বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনসহ সিনিয়র সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে নিজ নির্বাচনী এলাকা গৌরনদী আগৈলঝাড়ায় নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন জহির উদ্দিন স্বপন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow