ভাগনের সাজার রায় শুনে এজলাসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মামা

মাদক মামলায় ভাগনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণার পর আদালত কক্ষেই অসুস্থ হয়ে পড়েন মামা। সেখান থেকে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ ঘটনা ঘটে। আদালত সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদপুর থানার দায়ের করা একটি মাদক মামলায় ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১১ এর বিচারক নজরুল ইসলাম আসামি মো. মিঠুনসহ মোট নয়জনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মিঠুনের মামা আইয়ুব আলী বিহারী। তিনি রায় ঘোষণার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাকে পাশের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক এস এম রাশেদুল হাসান জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মারা গেছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের ওমেদার শহীদুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার পর আইয়ুব আলী তার ভাগনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি আদালতকে জানানো হয়। পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আদালতে দায়িত্ব প

ভাগনের সাজার রায় শুনে এজলাসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মামা

মাদক মামলায় ভাগনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণার পর আদালত কক্ষেই অসুস্থ হয়ে পড়েন মামা। সেখান থেকে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ ঘটনা ঘটে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদপুর থানার দায়ের করা একটি মাদক মামলায় ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১১ এর বিচারক নজরুল ইসলাম আসামি মো. মিঠুনসহ মোট নয়জনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মিঠুনের মামা আইয়ুব আলী বিহারী। তিনি রায় ঘোষণার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাকে পাশের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক এস এম রাশেদুল হাসান জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মারা গেছেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের ওমেদার শহীদুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার পর আইয়ুব আলী তার ভাগনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি আদালতকে জানানো হয়। পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আদালতে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য আব্দুল আজিম বলেন, বুক চেপে বসে থাকতে দেখে তাকে সহায়তা করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। অন্য পুলিশ সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, রায়ের পর তিনি আইনজীবীকে খুঁজছিলেন এবং খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাকে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগের কথা বলে শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

আইয়ুব আলীর মৃত্যুর খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তার প্রতিবেশীরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। স্বজনদের একজন মো. রাশেদ বলেন, আইয়ুব আলী ও মিঠুন দুজনই আজিমপুরে সেলুনে কাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই মিঠুনকে তিনি নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেছেন। মিঠুনের বাবা অনেক আগেই পরিবার ছেড়ে চলে যান এবং কিছুদিন আগে তার মাও মারা যান।

একই রায়ে দণ্ডিত অন্য আসামিরা হলেন— মো. মুরাদ, ছাবির, মো. রাজা, মো. মাসুম হোসেন, মো. বিল্লাল, রাজা, মো. ওয়াহিদুল সনু ও মো. জুম্মন মিয়া। মিঠুন ও মাসুম আদালতে হাজিরা দিলেও রায় ঘোষণার আগেই মাসুম আদালত ত্যাগ করেন। রায়ের সময় কেবল মিঠুন উপস্থিত ছিলেন। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছেন আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় মাদক বিক্রির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় র‍্যাব-২। অভিযানে এক হাজার ৯৫০টি ইয়াবাসহ নয়জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে মিঠুনের কাছ থেকে ২৫০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল।

এ ঘটনায় ওইদিনই র‍্যাব-২ এর ইন্সপেক্টর ইকরামুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ২২ জুলাই এসআই সাজেদুল হক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ২০১৯ সালের ২৭ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় ঘোষণা করেন।

এমডিএএ/এমএএইচ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow