ভারতকে ভুগতে হবে: শশী থারুর

বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনে (এফসিআরএ) নতুন সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুরের অভিযোগ, এই আইন কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ ভারতীয়রা। তার ভাষায়, এটি শুধু একটি আইনি পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের সম্পর্ককেই আমূল বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা। শশী থারুর সরকার প্রস্তাবিত ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-২০২৬-এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। আগামী সপ্তাহে সংসদে বিলটি উত্থাপনের পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। থারুর এই সংশোধনীকে ‘নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের একটি বিপজ্জনক সম্প্রসারণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, এই আইন রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ককে মৌলিকভাবে পুনর্লিখন করবে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে কেরালার তিরুবনন্তপুরমের এই সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী আদর্শ এবং স্বাধীন কণ্ঠস্বরের প্রতি অসহিষ্ণু মনোভাব থেকে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। থারুর লিখেছেন, বর্তমান সরকার অলাভজনক দা

ভারতকে ভুগতে হবে: শশী থারুর

বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনে (এফসিআরএ) নতুন সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুরের অভিযোগ, এই আইন কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ ভারতীয়রা। তার ভাষায়, এটি শুধু একটি আইনি পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের সম্পর্ককেই আমূল বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা।

শশী থারুর সরকার প্রস্তাবিত ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-২০২৬-এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। আগামী সপ্তাহে সংসদে বিলটি উত্থাপনের পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

থারুর এই সংশোধনীকে ‘নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের একটি বিপজ্জনক সম্প্রসারণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, এই আইন রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ককে মৌলিকভাবে পুনর্লিখন করবে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে কেরালার তিরুবনন্তপুরমের এই সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী আদর্শ এবং স্বাধীন কণ্ঠস্বরের প্রতি অসহিষ্ণু মনোভাব থেকে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

থারুর লিখেছেন, বর্তমান সরকার অলাভজনক দাতব্য সংস্থা, থিঙ্ক ট্যাংক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ ও বিদেশি প্রভাবের উৎস হিসেবে উপস্থাপন করছে। এসব কণ্ঠকে দুর্বল করতে সরকার তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা- বিদেশি দাতাদের অনুদানের ওপর নির্ভরতাকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

প্রস্তাবিত ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-২০২৬ অনুযায়ী, কোনো সংস্থার এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল, স্বেচ্ছায় সমর্পণ বা নবায়ন না হওয়ায় মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সরকার একটি ‘ডিজাইনেটেড অথরিটি’ গঠন করতে পারবে। এই কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিদেশি অনুদান ও সেই অনুদানের অর্থে গড়ে ওঠা সম্পদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেবে।

বিলে আরও বলা হয়েছে, যদি ওই সম্পদের মধ্যে কোনো উপাসনালয় থাকে, তাহলে ডিজাইনেটেড অথরিটিকে সেটির ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

থারুরের অভিযোগ, এফসিআরএ আইনের কঠোর প্রয়োগ ও ধারাবাহিক সংশোধনের মাধ্যমে সরকার এরইমধ্যে জটিল বিধিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনগুলোকে অনুদান পুনর্বণ্টন নিষিদ্ধ করা, প্রশাসনিক ব্যয়ের অনুমোদিত সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা ও বিদেশি অনুদানের সব অর্থ গ্রহণের জন্য দিল্লির একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখা বাধ্যতামূলক করা।

তিনি দাবি করেন, এসব বিধিনিষেধের কারণে বিদেশি অনুদান ৮৭ শতাংশ কমে গেছে, যার ফলে হাজার হাজার ধর্মনিরপেক্ষ ও কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

শশী থারুর আরও বলেন, ভারতে চার্চ ও এর অধিভুক্ত দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান কোটি কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার সঙ্গে নথিভুক্তভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তার আশঙ্কা, আইনে আরও পরিবর্তন এনে রাষ্ট্রকে সম্পদ অধিগ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হলে এই পুরো খাত স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে পড়তে পারে।

থারুর বলেন, এই সংশোধনী এমন একটি নজিরবিহীন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালু করছে, যা প্রচলিত আইনি সুরক্ষাকে পাশ কাটিয়ে যাবে।

কেরালার একজন সাংসদ হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে খ্রিস্টান পরিচালিত দাতব্য ট্রাস্টগুলো স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তার মতে, এফসিআরএ আইনের এই সংশোধনী সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করার ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি বলেন, কেরালার সাংসদ হিসেবে আমি দেখেছি, খ্রিস্টান পরিচালিত দাতব্য ট্রাস্ট, স্কুল, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল কলেজ ও কল্যাণমূলক এনজিওগুলো এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় অনুদান, দেশীয় ফি ও বিদেশি অনুদানের সমন্বয়ে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ, স্বল্পমূল্যের চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষাবৃত্তির অর্থায়ন করে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, নতুন আইনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের সম্পদ অধিগ্রহণের যে বিধান রাখা হয়েছে, তা এসব প্রতিষ্ঠানের সুবিধাভোগীদের স্বার্থের জন্যও ক্ষতিকর হবে।

থারুরের ভাষায়, এফসিআরএ লাইসেন্সসংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে সরাসরি জমি ও ভবন বাজেয়াপ্ত করার সঙ্গে যুক্ত করে বিলটি চরম অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রশাসনিক বিলম্ব বা প্রতিকূল সিদ্ধান্ত মুহূর্তের মধ্যে ৫০০ শয্যার একটি দাতব্য হাসপাতালকে রাষ্ট্রীয় সম্পদে পরিণত করতে পারে। এতে অত্যাবশ্যকীয় জনসেবা ব্যাহত হবে ও কমিউনিটির সম্পদ সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবেন সেই সাধারণ ভারতীয়রা, যারা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নেন।

তিনি আরও বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারতের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করে যাওয়া দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন শাস্তিমূলক আইনি কাঠামোর আওতায় আনা গভীর অন্যায়।

এই বিলকে গণতন্ত্রবিরোধী আখ্যা দিয়ে শশী থারুর সংসদে বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৩ হাজার ৫২০টি সংস্থা মোট ৫৫ হাজার ৭৪১ কোটি রুপি বিদেশি অনুদান পেয়েছে।

এছাড়া এফসিআরএ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৪ হাজার ৪৪৯টি সক্রিয় এফসিআরএ সনদ রয়েছে। একই সময়ে ২২ হাজার ৪৯৮টি সনদ বাতিল হয়েছে ও ১৫ হাজার ২১২টি সনদের মেয়াদ নবায়ন না হওয়ায় সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ হিসেবে গণ্য হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow