ভারতে বইয়ের দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি বিজেপিকর্মীদের
ভারতে এবার বিরোধী মতের বই বিক্রির কারণে বিজেপিকর্মীরা কাউন্টার এরা নামে এক প্রকাশনীর দোকানে হামলার হুমকি দিয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে। দোকানটি অবস্থিত দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর এলাকায় রাজা সুবোধ চন্দ্র মল্লিক রোডে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনে, রাস্তার বিপরীত পাশে। ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু খবর প্রকাশের ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে দেখা গেছে। পরে এ বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা হয় কাউন্টার এরার সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক রক্তিম ঘোষের সঙ্গে। দোকানটিতে তারা কী কী ধরনের বই রাখেন এর উত্তরে রক্তিম ঘোষ বলেন, আমরা মূলত ইতিহাস, সোশ্যাল সাইন্স এবং রাজনৈতিক বইগুলো রাখি। তবে, আজকে যারা সরকারে রয়েছে আমরা একদমই তাদের পক্ষের কোনাে বই রাখিনি। তাদের আমরা আইডিওলজিক্যালি বিরোধিতা করি। কাউন্টার এরার ওই দোকানে বিজেপি সমর্থিত সন্ত্রাসীরা ২২ তারিখ আসেন। তারা হুমকি দিয়ে যান এসব বই বিক্রি করা যাবে না। এসব বই দেশবিরোধী। বিক্রি করলে দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। রক্তিম ঘোষসহ অন্য চার-পাঁচজন যারা উদ্যোগী তাদের মধ্যে একজন ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন।
ভারতে এবার বিরোধী মতের বই বিক্রির কারণে বিজেপিকর্মীরা কাউন্টার এরা নামে এক প্রকাশনীর দোকানে হামলার হুমকি দিয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে।
দোকানটি অবস্থিত দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর এলাকায় রাজা সুবোধ চন্দ্র মল্লিক রোডে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনে, রাস্তার বিপরীত পাশে।
ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু খবর প্রকাশের ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে দেখা গেছে। পরে এ বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা হয় কাউন্টার এরার সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক রক্তিম ঘোষের সঙ্গে।
দোকানটিতে তারা কী কী ধরনের বই রাখেন এর উত্তরে রক্তিম ঘোষ বলেন, আমরা মূলত ইতিহাস, সোশ্যাল সাইন্স এবং রাজনৈতিক বইগুলো রাখি। তবে, আজকে যারা সরকারে রয়েছে আমরা একদমই তাদের পক্ষের কোনাে বই রাখিনি। তাদের আমরা আইডিওলজিক্যালি বিরোধিতা করি।
কাউন্টার এরার ওই দোকানে বিজেপি সমর্থিত সন্ত্রাসীরা ২২ তারিখ আসেন। তারা হুমকি দিয়ে যান এসব বই বিক্রি করা যাবে না। এসব বই দেশবিরোধী। বিক্রি করলে দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। রক্তিম ঘোষসহ অন্য চার-পাঁচজন যারা উদ্যোগী তাদের মধ্যে একজন ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। তাকেই এসে হুমকি দেওয়া হয়।
কী কারণে এমন হুমকি তার জবাবে তিনি বলেন, এই রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে, মোটামুটি মে মাসের শুরু থেকেই ব্যাপক পরিমাণে হকার উচ্ছেদ হতে শুরু করে। হকার উচ্ছেদ বলতে রেলস্টেশন বা ফুটপাতে যারা যে কোনো ছোটখাট দোকান চালায় তারা। তাদের ওপর ব্যাপক আক্রমণ নেমে আসে। পুলিশ ছাড়াও হকারদের বা ভাসমান দোকান যাদের আছে তাদের এসে হুমকি দিচ্ছে বিজেপির গুন্ডাবাহিনী।
তিনি জানান, বিজেপির ৭-৮ জন সক্রিয় কর্মী এসে হুমকি দেয়। তবে, এখন পর্যন্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপির তেমন প্রভাব না থাকায় তারা সে সময় গায়ে হাত দেওয়ার বা ভাঙচুর করার সাহস পায়নি। কিন্তু একা একজনকে পেয়ে প্রচণ্ড ভয় দেখিয়েছে। ওরা এর আগেও এমন করেছে, হয়তো আগে এসে হুমকি দিলো, পরে রাতের আঁধারে এসে দোকানটা ভাঙচুর করে দিয়ে গেলো এমন। পরিষ্কার বার্তা দিয়ে গেলো যে তারা টার্গেটেড।
সোমবারও একটা মিছিল থেকে বিজেপিকর্মীরা গালাগাল করছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারবিরোধী (সরকারপক্ষের বিরোধী মতবাদের) বইপত্র বিক্রি করা বা মতপ্রকাশ করার ক্ষেত্রগুলোতে ওরা আক্রমণ করা শুরু করে দিয়েছে। এটা তার অংশ হিসেবেই আমরা দেখছি। ওরা ওদের ভাষ্য ছাড়া অন্য কোনো ভাষ্য থাকতে দেবে না।
কাউন্টার এরার এই সহ-সম্পাদক আরও বলেন, ভারতে ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করার কারণে বা মুসলিম হওয়ার কারণে মানুষ যেভাবে সরকারের মাধ্যমে আক্রান্ত হচ্ছে আমরা সে সংক্রান্ত প্রচুর বই রেখেছিলাম। আমাদের প্রকাশনীরও এ বিষয়ে বই আছে। আবার হিন্দু-হিন্দুইজম ব্যাপারটা কীভাবে এখানে ডেভেলপ করলো এরকম বিষয়েও বেশকিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ এবং বই প্রকাশ করেছি। সেগুলো ওদের চক্ষুশূল তো বটেই।
এএমএ
What's Your Reaction?
