ভারী বর্ষণে ৯শ হেক্টর বোরো পানিতে নিমজ্জিত

কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বিভিন্ন হাওর ও বিলের প্রায় ৯০০ হেক্টর জমির বোরো ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ধান কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে পাকা ও আধাপাকা ফসল তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার জালিয়ার হাওর, মাছুয়াইল বিল, কাকীনা বিল, ধাড়াইল বিল, মুড়াইল বিল, কিলা বিল, কালিয়াইন বিল, ধলেশ্বর বিল, কুর্দিকা বিল, আবদাইল হাওর ও গোদিয়ার হাওরসহ নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এখন পানির নিচে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কোমর পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করলেও দীর্ঘক্ষণ কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে অধিক মজুরি দিয়েও মিলছে না ধান কাটার লোক। রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের কৈলাটি গ্রামের কৃষক সুলতান উদ্দিন জানান, বিএডিসি মিশ্র বীজের কারণে আগে একবার ক্ষতির শিকার হয়েছেন, এখন বাকি ফসলও পানিতে তলিয়ে গেল।  সরাপাড়া গ্রামের হায়দার খান ও জালালপুর গ্রামের ডালিমসহ একাধিক কৃষক জানান, বছরজুড়ে শ্রম আর অর্থ ব্যয় করে যে সোনালী স্বপ্নের আশা করেছিলেন, তা এখন পানির নিচে পচে নষ্ট হচ্ছে। উঁচু জমিতেও পানি জমে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হচ

ভারী বর্ষণে ৯শ হেক্টর বোরো পানিতে নিমজ্জিত

কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বিভিন্ন হাওর ও বিলের প্রায় ৯০০ হেক্টর জমির বোরো ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ধান কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে পাকা ও আধাপাকা ফসল তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার জালিয়ার হাওর, মাছুয়াইল বিল, কাকীনা বিল, ধাড়াইল বিল, মুড়াইল বিল, কিলা বিল, কালিয়াইন বিল, ধলেশ্বর বিল, কুর্দিকা বিল, আবদাইল হাওর ও গোদিয়ার হাওরসহ নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এখন পানির নিচে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কোমর পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করলেও দীর্ঘক্ষণ কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে অধিক মজুরি দিয়েও মিলছে না ধান কাটার লোক।

রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের কৈলাটি গ্রামের কৃষক সুলতান উদ্দিন জানান, বিএডিসি মিশ্র বীজের কারণে আগে একবার ক্ষতির শিকার হয়েছেন, এখন বাকি ফসলও পানিতে তলিয়ে গেল। 

সরাপাড়া গ্রামের হায়দার খান ও জালালপুর গ্রামের ডালিমসহ একাধিক কৃষক জানান, বছরজুড়ে শ্রম আর অর্থ ব্যয় করে যে সোনালী স্বপ্নের আশা করেছিলেন, তা এখন পানির নিচে পচে নষ্ট হচ্ছে। উঁচু জমিতেও পানি জমে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কেন্দুয়ায় ২০ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে প্রায় ৮৭৩ হেক্টর জমির ধান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারি হিসাবের চেয়ে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি। ধান ছাড়াও কিছু পাট, সবজি ও আউশ বীজতলাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা জানান, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের সব এলাকাতেই কমবেশি ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শুরু করেছে এবং তালিকা তৈরির কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকার ঘোষিত কৃষি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow