ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিন আজ। ঈদের উৎসবে রাজধানীতে ঘোরাঘুরি করতে বেরিয়েছে মানুষ। পরিবার ও পরিজন নগরের বাসিন্দারা বিভিন্ন বিনোদন স্পটে নিরিবিলি সময় কাটাচ্ছেন। কেউবা ফাঁকা ঢাকায় রিকশায় চড়ে ঘুরছেন। তবে উৎসবের আমেজের মধ্যেও ঘোরাঘুরি নয়, বরং রুটি-রুজির তাগিদে কাজের সন্ধানেও বেরিয়েছেন অসংখ্য মানুষ।
কেউ রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে দিন পার করছেন, কেউবা ফেরি করে চা-বিস্কুট, সিগারেট-পান বিক্রি করছেন। অনেকে আবার রঙ-বেরঙের বেলুন নিয়ে ঘুরছেন পথে পথে। বিক্রি ভালো হলে ঈদের এ উৎসবের মধ্যে ভালো খাবার জুটবে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের মুখে। দিনশেষে এটাই তাদের ‘ঈদ আনন্দ’।
বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন বিনোদন স্পট, সড়ক ও ফুটপাত ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। ঈদের অন্য দুদিনের তুলনায় এদিন জীবিকার তাগিদে বের হওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি চোখে পড়েছে। অন্যদিকে ঈদের দিন ও পরদিনের তুলনায় ঘোরাঘুরি করতে বেরোনো মানুষের সংখ্যা কম।
মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় রাস্তার দুপাশে ঘুরতে বের হওয়া মানুষের ভিড়। তার মধ্যে ফেরি করে পাঁপড় বিক্রি করছেন মধ্যবয়সী আজিবর আলী। তিনি বলেন, ‘আমাগো আবার ঈদ। ঈদের দিনও ঘুরে ঘুরে বেচছি। কয়টা দিন মানুষ বের হইবো, বিক্রিও ভালো হইবো। সেজন্য আমাগো ঈদ নাই। ভালো বিক্রি হইছে, হেইডাই ঈদের আনন্দ। পোলা-মাইয়া আছে, বউডা আছে; ভালো খাওন দিতে পারবো।’
আরও পড়ুন
- ‘ঈদের নতুন পোশাকে পার্কের পরিবেশও রঙিন লাগছে’
- যেভাবে কাটলো পুলিশের ঈদ
- ‘ছেলে-মেয়ে নিয়ে পেটভরে খাইতে পারাই আমাদের ঈদ’
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের সামনে পান-বিড়ি-সিগারেট ফেরি করে বিক্রি করেন ৭০ বছর বয়সী আছিয়া বেগম। স্বামী অসুস্থ। দুই ছেলের আলাদা সংসার। ফেরি করে পান-বিড়ি-সিগারেট বিক্রি করে যে আয় হয়, তা দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সংসার চলে। আছিয়া বেগম বলেন, ‘সকালে আইসা বসছি, দুপুরে হের বাপের খাবার দিতে গেছিলাম। বিকেলে আবার আইলাম। ঈদ বইল্যা ঘরে বইসা থাকলে খাওন দেবো কেডাই?’
ঈদের ছুটির মধ্যে বেশি আশা নিয়ে বের হন রিকশাচালকরা। তবে বাইরে ঘোরাঘুরি করতে বের হওয়া মানুষ কম হওয়ায় যাত্রী কম। ঈদ পার হয়ে যাওয়ায় কেউ বকশিশও দেয় না। ফলে ঈদের তৃতীয় দিনে হতাশ সাইদুল ইসলাম। হাতিরঝিলের মেরুলবাড্ডা থেকে পুলিশপ্লাজার সংযোগ সড়কে মুখ গোমড়া করে রিকশায় বসে থাকতে দেখা যায় তাকে।
সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আইজকা একেবারে ভাড়া নাই। সকালে ৫০০ ট্যাহাও ভাড়া মারতে পারি নাই। দুপুরে ভাত খাইয়া আইলাম। বিকেলেও মনে হচ্ছে লোক হইবো না। ঈদে অন্যবার হাতিরঝিলে অনেক ভিড় থাকে। এইবার দুদিন পরই ফাঁকা। রাস্তায় লোক না থাকলে আমাগো ঈদে আনন্দ হইবো কেমনে?’
তবে ভালো বিক্রি হওয়ায় মন ভালো ‘ঝিলিমিলি বেলুন’ বিক্রেতা রাব্বির। তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের নিয়ে বের হইলে বেলুন কিনতেই হইবো। বাচ্চারা নাছোড়বান্দা। ঈদে সেই সুবাদে ভালো বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগের দিন থেকে প্রতিদিনে প্রায় আড়াইশো বেলুন বিক্রি হচ্ছে। খুব বেশি লাভ নাই। তারপরও দিনে দুই-আড়াই হাজার লাভ থাকছে।’
এএএইচ/ইএ/এমএস