ভিআইপিতে অতিষ্ঠ দিল্লি, খোঁজ রাখে না কেউ
সিগন্যাল সবুজ, তবু গাড়ি চলছে না। সামনে কোনো দুর্ঘটনা নেই, রাস্তা আটকে যাওয়ারও কথা নয়। কিন্তু দূর থেকে ভেসে আসছে সাইরেনের শব্দ। কিছুক্ষণের মধ্যেই বোঝা যায়, যাচ্ছে ভিআইপির গাড়িবহর। পুলিশ সদস্যরা মোড়ে মোড়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন। সড়কের দুই পাশে থেমে আছে অসংখ্য গাড়ি। কেউ অফিসে যাওয়ার পথে। কেউ প্লেন ধরতে ছুটছেন। কেউ হয়তো হাসপাতালে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে কয়েক মিনিটের অপেক্ষাও কারও কারও জন্য বড় ভোগান্তি হয়ে উঠতে পারে। আর অ্যাম্বুলেন্স আটকে গেলে সেই অপেক্ষার অর্থ আরও গুরুতর। দিল্লিতে ভিআইপি চলাচলের কারণে যান চলাচলে এমন বিঘ্ন কতবার ঘটে? কতক্ষণ রাস্তা আটকে রাখা হয়? এর প্রভাব পড়ে কত মানুষের ওপর? আরও পড়ুন দিল্লিতে বিক্ষোভ / পুলিশ ভেবেছিল ৮ হাজার, এলো ৫০ হাজারের বেশি মানুষ এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে দিল্লি পুলিশের কাছে তথ্য অধিকার আইনে (আরটিআই) দুটি আবেদন করেছিল। পুলিশের দেওয়া উত্তরে এসব প্রশ্নের বেশিরভাগেরই স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। ভিআইপিদের জন্য কখন বন্ধ হয় রাস্তা আরটিআই আবেদনে জানতে চাওয়া হয়েছিল, দিল্লির সড়কে কারা ভিআইপি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য এবং কোন নিয়মে
সিগন্যাল সবুজ, তবু গাড়ি চলছে না। সামনে কোনো দুর্ঘটনা নেই, রাস্তা আটকে যাওয়ারও কথা নয়। কিন্তু দূর থেকে ভেসে আসছে সাইরেনের শব্দ। কিছুক্ষণের মধ্যেই বোঝা যায়, যাচ্ছে ভিআইপির গাড়িবহর। পুলিশ সদস্যরা মোড়ে মোড়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন। সড়কের দুই পাশে থেমে আছে অসংখ্য গাড়ি।
কেউ অফিসে যাওয়ার পথে। কেউ প্লেন ধরতে ছুটছেন। কেউ হয়তো হাসপাতালে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে কয়েক মিনিটের অপেক্ষাও কারও কারও জন্য বড় ভোগান্তি হয়ে উঠতে পারে। আর অ্যাম্বুলেন্স আটকে গেলে সেই অপেক্ষার অর্থ আরও গুরুতর।
দিল্লিতে ভিআইপি চলাচলের কারণে যান চলাচলে এমন বিঘ্ন কতবার ঘটে? কতক্ষণ রাস্তা আটকে রাখা হয়? এর প্রভাব পড়ে কত মানুষের ওপর?
এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে দিল্লি পুলিশের কাছে তথ্য অধিকার আইনে (আরটিআই) দুটি আবেদন করেছিল। পুলিশের দেওয়া উত্তরে এসব প্রশ্নের বেশিরভাগেরই স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
ভিআইপিদের জন্য কখন বন্ধ হয় রাস্তা
আরটিআই আবেদনে জানতে চাওয়া হয়েছিল, দিল্লির সড়কে কারা ভিআইপি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য এবং কোন নিয়মে তাদের চলাচলের সময় যানবাহন থামানো হয়?
২০২০ সাল থেকে ভিআইপি চলাচলের কারণে কতবার যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের ওপর এসব বিধিনিষেধের প্রভাব কখনো মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়।
কিন্তু দিল্লি পুলিশের দেওয়া উত্তরে এসব বিষয়ে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায়নি। ট্রাফিক পুলিশের দুটি কার্যালয় জানায়, এসব প্রশ্ন তাদের আওতাভুক্ত নয়।
এরপর আবেদনটি অন্য দপ্তরে পাঠানো হয়। ভিআইপি চলাচলের কারণে যানজট বা যান চলাচলে বিঘ্ন নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগেরও তথ্য চাওয়া হয়েছিল।
দুটি কার্যালয়ই জানায়, এ ধরনের কোনো রেকর্ড রাখা হয় না।

দিল্লিতে ভিআইপিদের জন্য রাস্তার একপাশে যান চলাচল বন্ধ/ ফাইল ছবি: পিটিআই
ভিআইপি কারা, তালিকা নেই
আরটিআইয়ের জবাবে দিল্লি পুলিশ ভিআইপি বা ভিভিআইপি হিসেবে কারা বিশেষ সুবিধা পান, তাদের কোনো তালিকা দেয়নি।
ভিআইপিদের চলাচলের সময় যানবাহন নিয়ন্ত্রণের লিখিত নির্দেশিকাও দেওয়া হয়নি।
২০২০ সাল থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে কতবার এবং কতক্ষণ যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে, তার তথ্যও পাওয়া যায়নি।
এমনকি এসব বিধিনিষেধের কারণে সাধারণ যাত্রীদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে কোনো গবেষণা বা মূল্যায়নের তথ্যও দেওয়া হয়নি।
অর্থাৎ দিল্লির মতো ব্যস্ত একটি শহরে ভিআইপি চলাচলের জন্য নিয়মিত যান নিয়ন্ত্রণ হলেও তার সামগ্রিক প্রভাবের কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব প্রকাশ্যে নেই।
ভিআইপি নিরাপত্তায় খরচ ৪৩ কোটি রুপির বেশি
আরটিআইয়ের দ্বিতীয় আবেদনটিতে নজর দেওয়া হয়েছিল ভিআইপি নিরাপত্তায় পুলিশের ব্যয়ের দিকে। দিল্লি পুলিশ ভিআইপি নিরাপত্তার জন্য গাড়ি ভাড়া করতে কত টাকা খরচ করেছে, তা জানতে চাওয়া হয়।
এছাড়া, ২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনের আগে কেনা গাড়িগুলোর পরবর্তী সময়ে কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছিল।
পুলিশের দেওয়া তথ্যে কিছু আর্থিক হিসাব পাওয়া গেলেও সেখানেও রয়ে গেছে নানা প্রশ্ন। দিল্লি পুলিশের নিরাপত্তা শাখা জানিয়েছে, ২০২০ সালের আগের আর্থিক নথি ধ্বংস করা হয়েছে।
ফলে ওই সময়ের ব্যয়ের তথ্য আর পাওয়া যায়নি।
কেন এসব নথি ধ্বংস করা হয়েছে, আরটিআইয়ের জবাবে তার কারণও জানানো হয়নি।
এক বছরে ব্যয় বেড়েছিল ১৬ গুণ
যেসব বছরের তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলোতে ভিআইপি নিরাপত্তায় ভাড়া করা গাড়ির ব্যয়ে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে।
২০২১-২২ অর্থবছরে এ খাতে খরচ হয়েছিল ১ কোটি ৪৩ লাখ রুপি। পরের বছর, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সেই ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ কোটি ১৩ লাখ রুপি।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খরচ বেড়েছিল ১৬ গুণেরও বেশি।
এরপর ব্যয় কমে ১৬ কোটি ৮৯ লাখ রুপিতে নামে। পরের বছর তা আরও কমে দাঁড়ায় ২ কোটি ৫ লাখ রুপিতে।
চলতি বছরে এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণ শূন্য দেখানো হয়েছে।
কেন ব্যয়ে এত বড় পরিবর্তন হলো, সে ব্যাখ্যা আরটিআইয়ের জবাবে পাওয়া যায়নি।
চার বছরের হিসাবে ভিআইপি নিরাপত্তার জন্য গাড়ি ভাড়া বাবদ খরচ হয়েছে ৪৩ কোটি রুপির বেশি।
তবে এই হিসাব পুলিশের নিজস্ব গাড়ির নয়। ভিআইপি নিরাপত্তায় ভাড়া করা গাড়ির ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত।
জি-২০ সম্মেলনের ৮৫০ গাড়ির হিসাব নিয়েও প্রশ্ন
২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনের আগে দিল্লি পুলিশ ৮৫০টি নতুন গাড়ি কিনেছিল বলে সে সময়ের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পিটিআইয়ের ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সম্মেলনের পর এসব গাড়ির মধ্যে ৪০০টি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে দেওয়া হয়। আরও ১৫০টি দেওয়া হয় নিরাপত্তা শাখায়। বাকি ৩০০টি দিল্লির বিভিন্ন পুলিশ জেলার মধ্যে বিতরণ করা হয়।
এই গাড়িগুলোর মধ্যে কতটি নিরাপত্তা শাখা ও জেলা পুলিশ পেয়েছে এবং সেগুলোর দাম কত ছিল, আরটিআইয়ের মাধ্যমে সেই তথ্য জানতে চেয়েছিল ইন্ডিয়া টুডে। কিন্তু সেখানে পুরো তথ্য মেলেনি।
নিরাপত্তা শাখা জানায়, এসব তথ্য তাদের দপ্তরের আওতাভুক্ত নয়।
নয়াদিল্লি জেলা পুলিশ জানায়, তারা ভিআইপি দায়িত্বের জন্য কোনো গাড়ি ভাড়া করেনি।
আর পুলিশের গাড়ি কেনা ও সরবরাহের দায়িত্বে থাকা দপ্তর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
তিন বছর পরও পুরো হিসাব নেই
দিল্লি পুলিশের দেওয়া আরটিআই জবাবগুলোতে একটি তথ্যের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জি-২০ সম্মেলনের পর ৮৫০টি গাড়ির কোনটি কোথায় দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশ আগে পিটিআইকে তথ্য দিয়েছিল।
কিন্তু প্রায় তিন বছর পর আরটিআইয়ের মাধ্যমে একই গাড়িগুলোর বিস্তারিত ব্যবহার ও ক্রয়মূল্য জানতে চাওয়া হলে পুরো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
কেএএ/
What's Your Reaction?

