ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডি : ‘সাহান বেঁচে আছে’ পরিবারের দাবি

দালালের প্রলোভনে লিবিয়া হয়ে অবৈধ পথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কারণে সুনামগঞ্জের ১০ যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের তালিকায় দিরাইয়ের মো. সাহানের নাম থাকলেও তার পরিবার দাবি করছে, তিনি এখনো জীবিত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। উন্নত জীবনের স্বপ্নে বাড়ি ছেড়েছিলেন। তিনি উপজেলার তারাপাশা গ্রামের মৃত ক্বারি ইসলাম উদ্দীনের ছেলে। কিন্তু সেই স্বপ্নই পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে নিজ বাড়িতে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান সাহানের বড় ভাই মো. জাকারিয়া আহমেদ। জাকারিয়া আহমেদ বলেন, শনিবার রাতে ভিডিও কলে একজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি দিরাইয়ের বাগবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আমাকে এমন একজনের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন, যিনি আমার ভাইয়ের সঙ্গে একই নৌকায় ছিলেন। তিনি জানান, আমি আপনার ভাইকে চিনি। আমরা প্রায় ২ মাস ১০ দিন একসাথে ছিলাম, এক বিছানায় ঘুমিয়েছি। কোস্টগার্ড তাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে ভর্তি করেছে, তবে সে খুব অসুস্থ। সাহানের ইউরোপ যাওয়ার প্রবল আগ্রহের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের এলাকা থেকে অনেকেই এভাবে লিবিয়া হয়ে ইউরোপ গেছে। এটা দেখে

ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডি : ‘সাহান বেঁচে আছে’ পরিবারের দাবি
দালালের প্রলোভনে লিবিয়া হয়ে অবৈধ পথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কারণে সুনামগঞ্জের ১০ যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের তালিকায় দিরাইয়ের মো. সাহানের নাম থাকলেও তার পরিবার দাবি করছে, তিনি এখনো জীবিত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। উন্নত জীবনের স্বপ্নে বাড়ি ছেড়েছিলেন। তিনি উপজেলার তারাপাশা গ্রামের মৃত ক্বারি ইসলাম উদ্দীনের ছেলে। কিন্তু সেই স্বপ্নই পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে নিজ বাড়িতে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান সাহানের বড় ভাই মো. জাকারিয়া আহমেদ। জাকারিয়া আহমেদ বলেন, শনিবার রাতে ভিডিও কলে একজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি দিরাইয়ের বাগবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আমাকে এমন একজনের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন, যিনি আমার ভাইয়ের সঙ্গে একই নৌকায় ছিলেন। তিনি জানান, আমি আপনার ভাইকে চিনি। আমরা প্রায় ২ মাস ১০ দিন একসাথে ছিলাম, এক বিছানায় ঘুমিয়েছি। কোস্টগার্ড তাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে ভর্তি করেছে, তবে সে খুব অসুস্থ। সাহানের ইউরোপ যাওয়ার প্রবল আগ্রহের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের এলাকা থেকে অনেকেই এভাবে লিবিয়া হয়ে ইউরোপ গেছে। এটা দেখে আমার ভাইও ইউরোপ যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে এ পথে আগ্রহী হয়ে ওঠে। আমি তাকে অনেক বুঝিয়েছি, এই পথে যাওয়া ঠিক না, কিন্তু সে শোনেনি। পরে সে নিজেই দালালের নম্বর জোগাড় করে। তিনি জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সাহান দেশ ত্যাগ করেন এবং ২৩ বা ২৪ ফেব্রুয়ারি লিবিয়ায় পৌঁছান। এরপর দালালদের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। দালালরা জানাত, ‘আজ না হয় কাল, শিগগিরই তোমাদের গ্রিসে পাঠানো হবে।’ জাকারিয়া বলেন, ২২ মার্চ পর্যন্ত আমার ভাইয়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছে। সে তখন বলেছিল, ‘আমরা ভালো আছি, আমাদের জন্য দোয়া করিও।’ তিনি আরও জানান, দালালের সঙ্গে ১২ লাখ টাকায় ইউরোপ যাওয়ার চুক্তি হয়েছিল। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এদিকে, ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিহতদের সংখ্যা ও পরিচয় নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। সাহানের পরিবারের দাবি অনুযায়ী, তিনি জীবিত থাকলে দ্রুত তার অবস্থান নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow