ভোলার আঞ্চলিক মহাসড়কে থ্রি-হুইলার (সিএনজি অটোরিকশা) চলাচল বন্ধ এবং বিদ্যমান সড়ক আইনের কঠোর বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভোলা জেলা বাস মালিক সমিতি।
সংগঠনটির দাবি, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মহাসড়কে সিএনজি ও অটোরিকশা চলাচলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে এবং এতে প্রতিবছর বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ভোলা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির নেতারা বলেন, সরকার নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে কাজ করছে। কিন্তু ভোলায় আঞ্চলিক মহাসড়কে সড়ক আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।
তাদের দাবি, ভোলা-ইলিশা থেকে দক্ষিণ আইচা পর্যন্ত ১০৯ কিলোমিটার সড়কে বাস চলাচলের জন্য তাদের বৈধ রুট পারমিট রয়েছে। তবে বিগত সরকারের সময় ভোলা বিআরটিএ থেকে প্রায় এক হাজার সিএনজির রুট পারমিট অনুমোদন দেওয়া হয়। অথচ বিআরটিএর নীতিমালা অনুযায়ী জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ।
নেতারা অভিযোগ করেন, আইনে চালকসহ সর্বোচ্চ চারজন যাত্রী বহনের বিধান থাকলেও অনেক সিএনজি চালক চালকের দুই পাশে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে মোট পাঁচজন বহন করছেন। এছাড়া তারা মহাসড়কজুড়ে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তাদের দাবি, গত এক বছরে এসব কারণে শিশু, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও পথচারীসহ প্রায় একশ' জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সিএনজির রুট পারমিটে কোথায় এবং কত দূর পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। এছাড়া বিআরটিএর ২০২৪ সালের নীতিমালায় মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে সিএনজি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেটি কার্যকর হচ্ছে না।
বাস মালিক সমিতির নেতারা জানান, ২০২৫ সালের ৬ মে অনুষ্ঠিত বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভায় ইলিশা থেকে পরানগঞ্জ পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়কে সিএনজি চলাচল বন্ধ রাখার এবং নিবন্ধিত সিএনজিগুলোকে নিজ নিজ উপজেলার সংযোগ (ফিডার) সড়কে চালকসহ চারজন যাত্রী নিয়ে চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তাদের অভিযোগ, ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই থেকে সিএনজিগুলো আবারও মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে চলাচল শুরু করেছে।
তাদের ভাষ্য, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সিএনজি মালিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। প্রশাসনের অবহেলার কারণেই সড়ক আইন লঙ্ঘন করে মহাসড়কে সিএনজি চলাচল অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
নেতারা আরও বলেন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিআরটিএর যৌথ উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার নির্দেশনা দেওয়া হলেও অধিকাংশ চালক তা মানছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে বাস মালিক সমিতি মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানায়। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেন, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন সংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম খান, সহ-সভাপতি হাসান মাকসুদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বাচ্চু মোল্লা, যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবির সেলিমসহ সমিতির অন্য নেতরা।