মধ্যপ্রাচ্যে বহুদিনব্যাপী মহড়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বহুদিনব্যাপী সামরিক মহড়া চালানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর মোতায়েন করেছে।  বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অধীনস্থ এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল জানায়, তারা ‘বহুদিনব্যাপী প্রস্তুতি মহড়া’ পরিচালনা করবে। এই মহড়ার মাধ্যমে সেন্টকমের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধবিমান দ্রুত মোতায়েন, ছড়িয়ে দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালনার সক্ষমতা প্রদর্শন করা হবে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই মহড়ার লক্ষ্য হলো সামরিক সম্পদ ও জনবল ছড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে নমনীয় সামরিক প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহড়ার নির্দিষ্ট তারিখ, স্থান কিংবা অংশগ্রহণকারী মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।  এর আগে সোমবার সেন্টকম জানিয়েছে, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্

মধ্যপ্রাচ্যে বহুদিনব্যাপী মহড়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বহুদিনব্যাপী সামরিক মহড়া চালানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর মোতায়েন করেছে। 

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অধীনস্থ এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল জানায়, তারা ‘বহুদিনব্যাপী প্রস্তুতি মহড়া’ পরিচালনা করবে। এই মহড়ার মাধ্যমে সেন্টকমের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধবিমান দ্রুত মোতায়েন, ছড়িয়ে দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালনার সক্ষমতা প্রদর্শন করা হবে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই মহড়ার লক্ষ্য হলো সামরিক সম্পদ ও জনবল ছড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে নমনীয় সামরিক প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহড়ার নির্দিষ্ট তারিখ, স্থান কিংবা অংশগ্রহণকারী মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। 

এর আগে সোমবার সেন্টকম জানিয়েছে, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এই রণতরীতে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও প্রায় ৫ হাজার নাবিক রয়েছে। বহরের সঙ্গে রয়েছে একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যা বিমানবাহী রণতরীর প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করে।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রনও পাঠিয়েছে। এই ইউনিটটি এর আগেও ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইরানে চালানো হামলায় অংশ নিয়েছিল। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যও ‘প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে’ টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছে।

এদিকে অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের পাশে ভেনেজুয়েলার চেয়েও বড় আমাদের একটি বিশাল নৌবহর রয়েছে। তবে তিনি আলোচনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তার ভাষায়, ইরান চুক্তি করতে চায়। তারা একাধিকবার যোগাযোগ করেছে।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, এই মহড়াগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হবে। বাহরাইনের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষামূলক মহড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে ড্রোন প্রতিহত করার সক্ষমতা অনুশীলন করা হবে।

তবে এই সামরিক মোতায়েন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মিত্র দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় নিজেদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না এবং নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখবে।

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, সব কার্যক্রম স্বাগতিক দেশের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং বেসামরিক ও সামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এতে নিরাপত্তা, নির্ভুলতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করা হবে।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow