মস্তিষ্ক ভালো রাখতে ফাইবার
ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারের কথা উঠলেই আমরা সাধারণত হজমের কথা ভাবি। কিন্তু শুধু পেট ভালো রাখাই নয়, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতেও ফাইবারের ভূমিকা অনেক বড়। নিয়মিত ফাইবার খেলে শরীর ভালো থাকে, দীর্ঘদিন কর্মক্ষম থাকা যায় এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকিও অনেকটাই কমে। দুঃখজনক হলেও সত্য, দৈনন্দিন খাবারে আমরা অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম ফাইবার খাই। অথচ শাকসবজি, ফল, ডাল, বাদাম, বীজ ও পূর্ণ শস্যের মতো খাবারেই রয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ফাইবার শরীরে কীভাবে কাজ করে ফাইবার এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট, যা শরীর সহজে হজম করতে পারে না। এটি অন্ত্র দিয়ে প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় বের হয়ে যায়। এতে মলের পরিমাণ বাড়ে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং পেট দীর্ঘ সময় ভরা থাকে। ফাইবার ধীরে হজম হয় বলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়ে না। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং পেটের মেদ জমার ঝুঁকিও কমে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খান, তাদের হৃদরোগ, স্ট্রোক, টাইপ টু ডায়াবেটিস ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। অন্ত্রের সঙ্গে মস্তিষ্কের সম্পর্ক আমাদের অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবাণুগুলোর জন্য ফাইবার হলো প্রধান খ
ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারের কথা উঠলেই আমরা সাধারণত হজমের কথা ভাবি। কিন্তু শুধু পেট ভালো রাখাই নয়, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতেও ফাইবারের ভূমিকা অনেক বড়। নিয়মিত ফাইবার খেলে শরীর ভালো থাকে, দীর্ঘদিন কর্মক্ষম থাকা যায় এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকিও অনেকটাই কমে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, দৈনন্দিন খাবারে আমরা অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম ফাইবার খাই। অথচ শাকসবজি, ফল, ডাল, বাদাম, বীজ ও পূর্ণ শস্যের মতো খাবারেই রয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
ফাইবার শরীরে কীভাবে কাজ করে
ফাইবার এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট, যা শরীর সহজে হজম করতে পারে না। এটি অন্ত্র দিয়ে প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় বের হয়ে যায়। এতে মলের পরিমাণ বাড়ে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং পেট দীর্ঘ সময় ভরা থাকে।
ফাইবার ধীরে হজম হয় বলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়ে না। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং পেটের মেদ জমার ঝুঁকিও কমে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খান, তাদের হৃদরোগ, স্ট্রোক, টাইপ টু ডায়াবেটিস ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
অন্ত্রের সঙ্গে মস্তিষ্কের সম্পর্ক
আমাদের অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবাণুগুলোর জন্য ফাইবার হলো প্রধান খাদ্য। এই জীবাণুগুলো ফাইবার ভেঙে এমন কিছু উপাদান তৈরি করে, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং কোষকে শক্তি জোগায়।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ তৈরি হয়। বিজ্ঞানীরা একে বলেন গাট ব্রেইন কানেকশন। এই সংযোগ ভালো থাকলে চিন্তাশক্তি, মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে।
ফাইবার কীভাবে মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয়
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি ফাইবার খান, তাদের ডিমেনশিয়া ও স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কম। ফাইবার অন্ত্রের আবরণকে শক্ত রাখে, ফলে ক্ষতিকর উপাদান রক্তে ঢুকে মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে না।
বয়স্কদের ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, ফাইবারসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণকারীদের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি তুলনামূলক ভালো থাকে। কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট ধরনের ফাইবার বা প্রিবায়োটিক কয়েক মাস খাওয়ার পর মনোযোগ ও স্মৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্ক আছে
ফাইবার থেকে তৈরি উপকারী উপাদান বিষণ্নতা কমাতে, ঘুমের মান উন্নত করতে এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। আলঝেইমারের রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তাদের অন্ত্রে উপকারী জীবাণুর সংখ্যা কম এবং প্রদাহ বেশি থাকে। এটি অন্ত্র ও মস্তিষ্কের সম্পর্ককে আরও স্পষ্ট করে।
কীভাবে খাবারে ফাইবার বাড়াবেন
খাদ্যতালিকায় ফাইবার বাড়ানো খুব কঠিন নয়। প্রতিদিনের রান্নায় ডাল, মসুর, ছোলা, মটরশুঁটি রাখুন। সাদা চালের বদলে লাল চাল বা আটার রুটি খাওয়ার চেষ্টা করুন। শাকসবজি বেশি খান এবং ফল পুরোটা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
নাশতায় আপেল, পেয়ারা, বাদাম, বীজ বা ঘরে তৈরি পপকর্ন ভালো বিকল্প হতে পারে। যাদের চিবাতে সমস্যা হয়, তারা প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ফাইবার সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন।
ফাইবার শুধু হজমের জন্য নয়, মস্তিষ্কের সুরক্ষা, স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা এবং মানসিক সুস্থতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাবারে সামান্য কিছু পরিবর্তন যেমন বেশি শাকসবজি, ডাল ও পূর্ণ শস্য যোগ করলেই দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মস্তিষ্ক দুটোই থাকবে সুস্থ। সুস্থ বার্ধক্যের পথে ফাইবার হতে পারে আপনার নীরব সহায়ক।
সূত্র : BBC
What's Your Reaction?