মা আপনার জান্নাতের দরজা

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষকে ভালোবাসার ফজিলত এবং এ সম্পর্কিত হাদিসগুলো যখন আমরা বলি, দুর্ভাগ্যবশত আমরা অনেক সময় এই ভালোবাসাকে সরাসরি ঘরের বাইরের মানুষদের দিকে প্রসারিত করে ফেলি, কিন্তু ঘরের ভেতরের মানুষদের কথা ভুলে যাই। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসার কথা শুনে সবার আগে যার কথা আপনার মনে আসা উচিত, তিনি হলেন আপনার মা। নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কার প্রতি সবচেয়ে বেশি সম্মান ও সদাচার দেখাব? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার মা। সে বলল, তারপর কে? নবী (সা.) বললেন, তোমার মা। সে আবার জিজ্ঞেস করল, তারপর কে? নবী (সা.) বললেন, তোমার মা। সে আবারও জিজ্ঞেস করল, তারপর কে? তখন নবী (সা.) বললেন, তোমার বাবা। আল্লাহ মাকে এক বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক সাহাবিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘জান্নাত তোমার মায়ের পায়ের নিচে।’ আল্লাহ কোরআনে পিতামাতার আনুগত্যকে তাঁর নিজের আনুগত্যের সাথে একই আয়াতে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমার রব ফয়সালা করেছেন যে তোমরা তাঁকে ছাড়া আর কারো ইবাদ

মা আপনার জান্নাতের দরজা

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষকে ভালোবাসার ফজিলত এবং এ সম্পর্কিত হাদিসগুলো যখন আমরা বলি, দুর্ভাগ্যবশত আমরা অনেক সময় এই ভালোবাসাকে সরাসরি ঘরের বাইরের মানুষদের দিকে প্রসারিত করে ফেলি, কিন্তু ঘরের ভেতরের মানুষদের কথা ভুলে যাই। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসার কথা শুনে সবার আগে যার কথা আপনার মনে আসা উচিত, তিনি হলেন আপনার মা।

নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কার প্রতি সবচেয়ে বেশি সম্মান ও সদাচার দেখাব? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার মা। সে বলল, তারপর কে? নবী (সা.) বললেন, তোমার মা। সে আবার জিজ্ঞেস করল, তারপর কে? নবী (সা.) বললেন, তোমার মা। সে আবারও জিজ্ঞেস করল, তারপর কে? তখন নবী (সা.) বললেন, তোমার বাবা।

আল্লাহ মাকে এক বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক সাহাবিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘জান্নাত তোমার মায়ের পায়ের নিচে।’ আল্লাহ কোরআনে পিতামাতার আনুগত্যকে তাঁর নিজের আনুগত্যের সাথে একই আয়াতে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমার রব ফয়সালা করেছেন যে তোমরা তাঁকে ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না এবং পিতামাতার সাথে উত্তম আচরণ করবে। অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদত এবং পিতামাতার প্রতি ইহসান—দুটোকে তিনি একসাথে রেখেছেন।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে নেওয়া দরকার। এই মর্যাদার অর্থ এই নয় যে, তাদের জুলুম, নিপীড়ন বা ক্ষতি সহ্য করে যেতে হবে। এগুলো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি এবং আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু সাধারণ অবস্থায় মায়ের মর্যাদা এবং মায়ের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করা যায়।

এই বিষয়ে দুটি বর্ণনা শেয়ার করতে চাই। একটি সরাসরি নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছ থেকে, অন্যটি নবীর (সা.) চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের (রা.) কাছ থেকে বর্ণিত।

প্রথম ঘটনা। এক ব্যক্তি নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে এসে বলল, আমি একটি বড় গুনাহ করে ফেলেছি। আমার কি তওবার কোনো সুযোগ আছে? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার মা কি জীবিত আছেন? লোকটি বলল, না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরের প্রশ্নটি করলেন, তোমার মায়ের বোন কি আছেন? তোমার খালা কি জীবিত? লোকটি বলল, হ্যাঁ। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তার সাথে ভালো ব্যবহার করো, তাকে ভালোবাসো, তার প্রতি ইহসান করো এবং আল্লাহর রহমতের আশা রাখো।

লক্ষ করুন, মায়ের কথা জিজ্ঞাসা করার পর নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনেক দূরে চলে যাননি, বরং জিজ্ঞেস করলেন খালা আছেন কিনা। কারণ সেই সমাজে এবং আজকের অনেক সমাজেও খালা একজন মানুষের জীবনে মায়ের মতো ভূমিকা পালন করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘খালা মায়ের মত’। সম্মান ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে মায়ের পরেই তার স্থান।

দ্বিতীয় ঘটনাটি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের (রা.)। এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে স্বীকার করল যে, ঈর্ষার বশে সে কাউকে হত্যা করে ফেলেছে। সে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নয়, বরং তার আখেরাত নিয়ে চিন্তিত ছিল। সে জানতে চেয়েছিল, আল্লাহর কাছে কি তার ক্ষমার কোনো সুযোগ আছে? ইবনে আব্বাস (রা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা কি জীবিত? লোকটি বলল, না। তখন ইবনে আব্বাস বললেন, তাহলে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং তাঁর রহমতের আশা রাখো।

পরে ইবনে আব্বাসের (সা.) ছাত্ররা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি মায়ের কথা জিজ্ঞেস করলেন কেন? মা তো এই বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নন। সে হত্যা করেছে, সে জানতে চাইছে আল্লাহর ক্ষমা পাবে কিনা আর আপনি তাকে মায়ের কথা জিজ্ঞেস করলেন?

ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, আল্লাহর কসম, আমি মায়ের সেবা করার চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় কোনো আমল জানি না। মায়ের প্রতি সদাচার ও আনুগত্য দেখানোর চেয়ে বেশি ভালোবাসার কোনো কাজ আল্লাহর কাছে আছে বলে আমি মনে করি না। সুবহানাল্লাহ।

এই বিষয়টি আমাদের কাছে কত সহজলভ্য, কত সহজেই পাওয়ার মধ্যে আছে। আপনার মা যদি এখনো জীবিত থাকেন, তাহলে এই সুযোগটি কাজে লাগান। আর যদি মা না থাকেন, তাহলে যেমন বলেছেন যাইনুল আবেদিন (রহ.), এক দরজা বন্ধ হলে অন্য দরজায় যান। বাবার কাছে যান, তাঁকে ভালোবাসুন, তাঁর প্রতি আনুগত্য দেখান।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, বাবার সন্তুষ্টি আল্লাহর সন্তুষ্টি। আমাদের বাবা-মা সত্যিকার অর্থেই জান্নাতের একটি দরজা। তাদের সেবা করা, তাদের ভালোবাসা, বিশেষত বৃদ্ধ বয়সে ধৈর্যের সঙ্গে তাদের দেখাশোনা করা, এগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম।

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আপনি যাদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতে পারেন, তারা হলেন আপনার বাবা-মা। আল্লাহ আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, আমাদের বাবা-মাকে আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট করুন এবং আমাদের বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন, খালা-চাচা সবাইকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ স্তরে একত্রিত করুন।

লেখক ও সূত্র: ওমর সুলেইমান একজন মার্কিন মুসলিম পণ্ডিত, নাগরিক অধিকার নেতা, লেখক ও বক্তা। তিনি ইয়াক্বীন ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং সাউদার্ন মেথোডিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের অ্যাডজেক্ট প্রফেসর। ইউটিউবে ইসলাম বিষয়ক আলোচনার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। এই লেখাটি ইয়াক্বীন ইনস্টিটিউটের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত তার "Allah Loves Your Mother" শীর্ষক বক্তব্য অবলম্বনে রচিত।

ওএফএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow