‘মা-বাবার সঙ্গে ঈদ কাটাতে পারি না, খুব মন খারাপ হয়’
‘আমার বাবা খোঁজ নেয় না, মা অন্যের বাসায় কাজ করে। এজন্য এখানে দিয়েছে। মা বাবার সঙ্গে ঈদ কাটাতে পারি না, এজন্য খুব মন খারাপ হয়।’ ঈদ কেমন কেটেছে জানতে চাইলে এভাবেই মনের কষ্টের কথা জানায় পিরোজপুর সরকারি শিশু পরিবারে বসবাস করা শিশু ফাতিমা। শুধু শিশু ফাতেমার মনে এমন কষ্ট নয় এখানে বসবাস করা সবার মনেই রয়েছে একই ধরনের কষ্ট। শিশু পরিবারে বসবাস করা একাদশ শ্রেণির ছাত্রী তাসলিমা আক্তার বলেন, বাবা মারা যাওয়ায় অনেক ছোট সময় এখানে এসেছি। প্রায় ১০ বছর এখানে আছি। প্রতি বছর ঈদে এখানে ভালো খাবার, নতুন জামা দেওয়া হয়। ছোট বেলায় মা-বাবাকে ছেড়ে থাকতে খুব খারাপ লাগতো। এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। কারিমা নামের এক শিশু বলেন, বাবা স্ট্রোক করে মারা গেছে। তাই এখানে এসেছি, যখন অন্যরা তাদের মা-বাবার সঙ্গে ঘুরতে যায় তখন খুব খারাপ লাগে। আমার মায়ের কথা পড়ার সময় মনে পড়ে, বসে থাকলে মনে পড়ে। মন খারাপ হলে খেলাধুলা করি। সুরাইয়া আক্তার নামে আরেক ছাত্রী বলেন, এখানে প্রায় ১১ বছর ধরে আছি। বাবা মারা যাওয়ার পর এখানে এসেছি। আমরা তিন বোন, বড়ো বোনের বিবাহ হয়েছে, আর ছোট বোন মায়ের কাছে থাকে। পরিবারে অনেক কষ্ট এজন্য আমাকে এখানে দিয়েছে। এখানে অন
‘আমার বাবা খোঁজ নেয় না, মা অন্যের বাসায় কাজ করে। এজন্য এখানে দিয়েছে। মা বাবার সঙ্গে ঈদ কাটাতে পারি না, এজন্য খুব মন খারাপ হয়।’ ঈদ কেমন কেটেছে জানতে চাইলে এভাবেই মনের কষ্টের কথা জানায় পিরোজপুর সরকারি শিশু পরিবারে বসবাস করা শিশু ফাতিমা।
শুধু শিশু ফাতেমার মনে এমন কষ্ট নয় এখানে বসবাস করা সবার মনেই রয়েছে একই ধরনের কষ্ট।
শিশু পরিবারে বসবাস করা একাদশ শ্রেণির ছাত্রী তাসলিমা আক্তার বলেন, বাবা মারা যাওয়ায় অনেক ছোট সময় এখানে এসেছি। প্রায় ১০ বছর এখানে আছি। প্রতি বছর ঈদে এখানে ভালো খাবার, নতুন জামা দেওয়া হয়। ছোট বেলায় মা-বাবাকে ছেড়ে থাকতে খুব খারাপ লাগতো। এখন অভ্যাস হয়ে গেছে।
কারিমা নামের এক শিশু বলেন, বাবা স্ট্রোক করে মারা গেছে। তাই এখানে এসেছি, যখন অন্যরা তাদের মা-বাবার সঙ্গে ঘুরতে যায় তখন খুব খারাপ লাগে। আমার মায়ের কথা পড়ার সময় মনে পড়ে, বসে থাকলে মনে পড়ে। মন খারাপ হলে খেলাধুলা করি।
সুরাইয়া আক্তার নামে আরেক ছাত্রী বলেন, এখানে প্রায় ১১ বছর ধরে আছি। বাবা মারা যাওয়ার পর এখানে এসেছি। আমরা তিন বোন, বড়ো বোনের বিবাহ হয়েছে, আর ছোট বোন মায়ের কাছে থাকে। পরিবারে অনেক কষ্ট এজন্য আমাকে এখানে দিয়েছে। এখানে অনেক মেয়েরা আছে এজন্য কিছুটা ভালো লাগে। এখন তো ঈদ কিন্তু সবার কথা মনে পড়ে। কি করার আল্লাহ কপালে তো এটাই লিখেছেন।
পিরোজপুর সরকারি শিশু পরিবার এখানে আশ্রয় মিলেছে মা-বাবা না থাকা এরকম ৪৫ অসহায় শিশুর। জন্মের পর থেকেই কেউ হারিয়েছে বাবা-মাকে, কেউবা পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন। এ প্রতিষ্ঠানই এখন তাদের থাকা, পড়াশোনা আর বেড়ে ওঠার একমাত্র ঠিকানা। নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যেই কাটে প্রতিদিনের জীবন।
ঈদ উপলক্ষে ভালো খাবার ও নতুন পোশাক পেলেও নেই পরিবার ঘিরে আনন্দ কিংবা ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ। তবুও ছোট ছোট স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে আছে এসব শিশু।
বছরের অন্য দিনের মতো ঈদের সময়ও তাদের জীবন কাটে নিয়মের গণ্ডিতেই। বাইরে যখন পরিবার নিয়ে ঈদের আনন্দে মেতে ওঠে সবাই, তখন এতিমখানার শিশুরা নীরবে তাকিয়ে থাকে চারদেয়ালের বাইরে। তাদের ঈদ যেন আনন্দের চেয়ে অপেক্ষা আর শূন্যতার গল্পই বেশি।
পিরোজপুর সরকারি শিশু পরিবারের ডেপুটি সুপারভাইজার শাবানা খানম বলেন, যে সব শিশু এখানে থাকে তাদের বেশিরভাগ এতিম এবং দুস্থ। আসলে বাবা মায়ের জায়গাটা তো কারো পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি ওদেরকে ভালো রাখতে।
তরিকুল ইসলাম/এএইচ/এমএস
What's Your Reaction?