মাংস খাওয়ার পর চা পান করা ঠিক নাকি ভুল, জানুন

অনেকেরই অভ্যাস আছে ভারি বা চর্বিযুক্ত মাংসের খাবার খাওয়ার পর এক কাপ গরম চা পান করা। এতে মুখের ‘এনেক’ বা চবিযুক্ত ভাব কমে এবং স্বাদও বাড়ে বলে মনে করা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই অভ্যাসটি কি আসলেই সঠিক? আপনার শখের এই অভ্যাসটি আপনার শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, তা নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের প্রতিবেদন। পুষ্টি শোষণে বড় বাধা মাংস প্রোটিন এবং আয়রনের একটি চমৎকার উৎস, যা রক্তে লোহিত কণিকা তৈরি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং শারীরিক শক্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু মাংস খাওয়ার পরপরই চা পান করলে চায়ের ভেতরে থাকা ট্যানিন এবং পলিফেনল নামক উপাদানগুলো মাংসের আয়রনকে শরীরের সাথে মিশতে বাধা দেয়। এই উপাদানগুলো আয়রনকে অনেকটা ‘আটকে’ ফেলে, ফলে শরীর মাংস থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিটুকু গ্রহণ করতে পারে না এবং আয়রন অপচয় হয়। বাড়তে পারে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরে মাংস খাওয়ার পরপরই চা পানের অভ্যাস বজায় রাখলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এর ফলে শরীর প্রয়োজনীয় হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না, যাকে আমরা অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা বলি। শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ

মাংস খাওয়ার পর চা পান করা ঠিক নাকি ভুল, জানুন

অনেকেরই অভ্যাস আছে ভারি বা চর্বিযুক্ত মাংসের খাবার খাওয়ার পর এক কাপ গরম চা পান করা। এতে মুখের ‘এনেক’ বা চবিযুক্ত ভাব কমে এবং স্বাদও বাড়ে বলে মনে করা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই অভ্যাসটি কি আসলেই সঠিক? আপনার শখের এই অভ্যাসটি আপনার শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, তা নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের প্রতিবেদন।

পুষ্টি শোষণে বড় বাধা মাংস

প্রোটিন এবং আয়রনের একটি চমৎকার উৎস, যা রক্তে লোহিত কণিকা তৈরি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং শারীরিক শক্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু মাংস খাওয়ার পরপরই চা পান করলে চায়ের ভেতরে থাকা ট্যানিন এবং পলিফেনল নামক উপাদানগুলো মাংসের আয়রনকে শরীরের সাথে মিশতে বাধা দেয়। এই উপাদানগুলো আয়রনকে অনেকটা ‘আটকে’ ফেলে, ফলে শরীর মাংস থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিটুকু গ্রহণ করতে পারে না এবং আয়রন অপচয় হয়।

বাড়তে পারে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি

দীর্ঘদিন ধরে মাংস খাওয়ার পরপরই চা পানের অভ্যাস বজায় রাখলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এর ফলে শরীর প্রয়োজনীয় হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না, যাকে আমরা অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা বলি। শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ না হওয়ায় আপনি খুব সহজেই ক্লান্ত, অবসাদগ্রস্ত এবং দুর্বল অনুভব করতে পারেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস

শরীরে আয়রনের অভাব দেখা দিলে সরাসরি তার প্রভাব পড়ে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর। যারা নিয়মিত খাওয়ার পরপরই চা পান করেন, তারা খুব সহজেই ইনফেকশন, সর্দি-কাশি বা জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন। এমনকি শরীরের কোনো ক্ষত শুকাতেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।

শুধু আয়রন নয়, বাধা পায় অন্যান্য খনিজও

চায়ের ক্ষতিকর প্রভাব কেবল আয়রনেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আরও তিনটি খনিজ— জিংক, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের শোষণেও বাধা সৃষ্টি করে। ফলে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরেও আপনার শরীর সঠিক পুষ্টি থেকে বঞ্চিত থেকে যায়।

শিশুদের জন্য সতর্কবার্তা

এই অভ্যাসটি বড়দের পাশাপাশি শিশুদের জন্যও ক্ষতিকর। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি তাদের স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধিতে বাধা দেয়, মনোযোগ কমিয়ে দেয় এবং বারবার অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা তৈরি করে ।

তবে কি চা একদমই ছাড়তে হবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাংসের সাথে সাথে বা ঠিক পরেই চা পান করা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। আপনি যদি চা পান করতে চান, তবে মাংস খাওয়ার অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টা বিরতি দিন। এই সময়ের মধ্যে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষিত হয়ে যায়। আর খাওয়ার তৃষ্ণা মেটাতে পানির কোনো বিকল্প নেই। পানি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং পুষ্টি শোষণে কোনো ব্যাঘাত ঘটায় না।

তথ্যসূত্র: অ্যালোডক্টর ডট কম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow