মাছ-মাংসের দাম অপরিবর্তিত, বেড়েছে সবজির

11 hours ago 5

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৯ দিনের ছুটি শেষ। আগামীকাল রোববার থেকে খুলছে অফিস-আদালত। রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা। ঈদের ছুটির আমেজ কাটতে শুরু করেছে। তবে এখনো নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিশেষ করে কাঁচাবাজারের পণ্য ও মাছ-মাংসের সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি।

ফলে রাজধানীর কাঁচাবাজারে কিছু পণ্যের দাম এখনো বেশি। অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ-মাংসের দাম। অন্যদিকে, ঈদের আগের সরববারহ করা সবজি বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে।

মাছ-মাংসের দাম অপরিবর্তিত, বেড়েছে সবজির

শনিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির সরবরাহ কম, অধিকাংশ সবজি টাটকা নয়, দুই-এক দিন আগের। সরবরাহ কম থাকায় এসব সবজির দামও তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ, শসা, পেঁপে, টমেটো, বেগুন, পটল, কাকরোল, করলার দাম বেড়েছে। ঈদের আগে প্রতি কেজি টমেটো ২৫ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও আজ তা ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। প্রতি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। কেজিতে ৩০টা বেড়ে প্রতিকেজি কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, পটলে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা।

এছাড়া দাম বেড়েছে বেগুন, লাউসহ সব ধরনের শাকের।

কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে এক কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি শসার কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। তবে ঈদের আগে দাম বাড়লেও প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে লেবুর দাম। ঈদের পর চাহিদা কমায় এখন লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।

মাছ-মাংসের দাম অপরিবর্তিত, বেড়েছে সবজির

সবজির বাড়তি দাম নিয়ে মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা হাসান জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে বাজারে সবজির সরবরাহ কম। এ কারণে আড়তে বাড়তি দাম, যার প্রভাব পড়েছে খুচরায়। তবে বিক্রেতার সঙ্গে একমত নন ক্রেতা উপেন হালদার। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বাজারে কোনো সবজির ঘাটতি নেই, ক্রেতাও কম। এরপরও দাম কমছে না। এর কারণ খুঁজে বের করা উচিত।

বাজারে সবজির দাম কিছুটা বাড়লেও মুরগি, গরুর মাংসে ও মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায়, লেয়ার (লাল) বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা, লেয়ার (সাদা) ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে চাহিদা বাড়ায় গরুর মাংসের দাম বেড়ে ৮০০ টাকায় উঠে যায়। ঈদের পরেও এখন তা ৮০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা, বকরি ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

মাছ-মাংসের দাম অপরিবর্তিত, বেড়েছে সবজির

মগবাজার বনলতা বাজার সংলগ্ন মাংস বিক্রেতা হাসান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা আগে ৭৫০ টাকায় মাংস বিক্রি করেছি, চাঁদ রাতে ৮০০ টাকায় উঠে আসে। ঈদের পরে দাম কমার কথা থাকলেও মাংসের সরবরাহ নেই, বিশেষ করে পশু আসছে না। চলতি সপ্তাহে এমন বাজার থামতে পারে। পরে হয়তো কমে আসবে।

আগের মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন জাতের মাছ। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, শিং মাছ ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, কই ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায়, রুই, কাতল আকার ভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, চিংড়ি ৬৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়, কোরাল ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়, ট্যাংরা ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকায় এবং শোল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

খিলগাঁও বাজারের বিক্রেতা বোরহান জাগো নিউজকে বলেন, কাঁচামালের সব কিছু নির্ভর করে সরবরাহের ওপরে। এখন বাজারের আড়তগুলোয় বেশিরভাগ দোকান বন্ধ হয়ে আছে। মাল আসে না তেমন, এসব কারণে দাম বেশি। সরবরাহ ঠিক হলে দামও কমে আসবে।

ইএআর/এসএনআর/এমএস

Read Entire Article