মাঝরাতে সন্তানদের চিৎকারে ঘরে মিলল গার্মেন্টস শ্রমিকের রক্তাক্ত দেহ

গাজীপুরের শ্রীপুরে মাঝরাতে দুই সন্তানের চিৎকারে প্রতিবেশীরা বসতঘর থেকে এক নারী গার্মেন্টস শ্রমিককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। ওই নারীর গায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে স্বজনরা ওই শ্রমিককে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। রোববার (১২ জুলাই) রাত ২টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার মজনু মিয়ার বাড়িতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত নাছিমা স্বামী সন্তানসহ ওই বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় ওয়ানটেক্স লিমিটেড নামের কারখানায় চাকরি করত। নাছিমা নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার কৈলশাপুর বনপাড়া গ্রামের আ. রাজ্জাকের মেয়ে। ১২ বছর আগে ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানার গিদাপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাইদুর রহমানের (৪২) সাথে নাছিমার বিয়ে হয়। এক মাস ধরে সাইদুর স্ত্রী-সন্তানের সাথে ওই বাড়িতে থেকে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। পাশাপাশি কক্ষে ভাড়া থাকেন নিহতের স্বজন নার্গিস আক্তার। তিনি জানান, পারিবারিক কলহ প্রায়ই তাদের মধ্যে লেগে থাকতো। সামান্য বিরোধে স্বামী সাইদুর স্ত্রী নাছিমাকে নির্যাত

মাঝরাতে সন্তানদের চিৎকারে ঘরে মিলল গার্মেন্টস শ্রমিকের রক্তাক্ত দেহ

গাজীপুরের শ্রীপুরে মাঝরাতে দুই সন্তানের চিৎকারে প্রতিবেশীরা বসতঘর থেকে এক নারী গার্মেন্টস শ্রমিককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। ওই নারীর গায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে স্বজনরা ওই শ্রমিককে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

রোববার (১২ জুলাই) রাত ২টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার মজনু মিয়ার বাড়িতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহত নাছিমা স্বামী সন্তানসহ ওই বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় ওয়ানটেক্স লিমিটেড নামের কারখানায় চাকরি করত। নাছিমা নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার কৈলশাপুর বনপাড়া গ্রামের আ. রাজ্জাকের মেয়ে। ১২ বছর আগে ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানার গিদাপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাইদুর রহমানের (৪২) সাথে নাছিমার বিয়ে হয়। এক মাস ধরে সাইদুর স্ত্রী-সন্তানের সাথে ওই বাড়িতে থেকে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন।

পাশাপাশি কক্ষে ভাড়া থাকেন নিহতের স্বজন নার্গিস আক্তার। তিনি জানান, পারিবারিক কলহ প্রায়ই তাদের মধ্যে লেগে থাকতো। সামান্য বিরোধে স্বামী সাইদুর স্ত্রী নাছিমাকে নির্যাতন করত। নির্যাতন সইতে না পেরে কয়েক মাস আগে নাছিমা দুই সন্তানসহ শ্রীপুরে চলে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে পাশাপাশি ওয়ানটেক্স নামের একটি কারখানায় চাকরি নেয়। কয়েকদিন আগে সাইদুরও ওই ভাড়া বাড়িতে চলে আসে, স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে বসবাস শুরু করে। 

তিনি আরও জানান, রোববার রাতের খাবার খেয়ে নাছিমা, স্বামী সাইদুর ও সন্তানদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে ২টায় তাদের দুই সন্তানের চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় নাছিমাকে ঘরের মেঝে পড়ে থাকতে দেখেন। পাশেই তাদের দুই সন্তান কাঁদছিল। নাছিমাকে অচেতন রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর পর থেকেই নাছিমার স্বামী পলাতক। 

শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহীনূর আলম জানান, নাছিমার শিশুসন্তানরা জানিয়েছে বাবা সাইদুরই তাদের মায়ে হত্যা করেছে। সাইদুরকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার কারণসহ বিস্তারিত জানা যাবে। এরই মধ্যে পুলিশের একাধিক দল সাইদুর গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow