মাথা-ঘাড়ে নীরবে ক্যানসার হচ্ছে না তো? ৩ লক্ষণ জানালেন বিশেষজ্ঞ

ক্যানসার নামটির সাথেই মিশে আছে এক অজানা আতঙ্ক। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি আমাদের জানাচ্ছে যে, অধিকাংশ ক্যানসারই প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে তা নিরাময় সম্ভব। বিশেষ করে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রে শুরুতেই কিছু দৃশ্যমান লক্ষণ দেখা দেয়, যা আমরা অনেক সময় অবহেলা করি। সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমস-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে প্রখ্যাত সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. মনদীপ সিং মালহোত্রা মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের এমন কিছু প্রাথমিক সতর্কবার্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন যা আমাদের জীবন বাঁচাতে পারে। তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে এই ক্যানসারের লক্ষণগুলো এতই মৃদু হয় যে সাধারণ মানুষ সেগুলোকে গুরুত্বহীন মনে করে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। অথচ শুরুতেই রোগ নির্ণয় করা গেলে এই ধরনের ক্যানসার সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব। নিচে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী সেই ৩টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো: ১. দীর্ঘস্থায়ী মুখের ঘা মুখের ঘা বা আলসার খুব সাধারণ একটি সমস্যা। পুষ্টির অভাব, অ্যাসিডিটি বা দাঁতের সমস্যার কারণে এটি হতে পারে এবং সাধারণত সঠিক চিকিৎসায় সেরে যায়। তবে ডা. মালহোত্রার মতে, যদি কোনো ঘা উপযুক্ত চিকিৎসার পরও

মাথা-ঘাড়ে নীরবে ক্যানসার হচ্ছে না তো? ৩ লক্ষণ জানালেন বিশেষজ্ঞ

ক্যানসার নামটির সাথেই মিশে আছে এক অজানা আতঙ্ক। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি আমাদের জানাচ্ছে যে, অধিকাংশ ক্যানসারই প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে তা নিরাময় সম্ভব। বিশেষ করে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রে শুরুতেই কিছু দৃশ্যমান লক্ষণ দেখা দেয়, যা আমরা অনেক সময় অবহেলা করি।

সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমস-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে প্রখ্যাত সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. মনদীপ সিং মালহোত্রা মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের এমন কিছু প্রাথমিক সতর্কবার্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন যা আমাদের জীবন বাঁচাতে পারে।

তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে এই ক্যানসারের লক্ষণগুলো এতই মৃদু হয় যে সাধারণ মানুষ সেগুলোকে গুরুত্বহীন মনে করে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। অথচ শুরুতেই রোগ নির্ণয় করা গেলে এই ধরনের ক্যানসার সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব। নিচে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী সেই ৩টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

১. দীর্ঘস্থায়ী মুখের ঘা

মুখের ঘা বা আলসার খুব সাধারণ একটি সমস্যা। পুষ্টির অভাব, অ্যাসিডিটি বা দাঁতের সমস্যার কারণে এটি হতে পারে এবং সাধারণত সঠিক চিকিৎসায় সেরে যায়। তবে ডা. মালহোত্রার মতে, যদি কোনো ঘা উপযুক্ত চিকিৎসার পরও ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে না সারে, তবে তা চিন্তার বিষয়। এই ধরনের স্থায়ী আলসার ক্যানসার-পূর্ব অবস্থা বা প্রাথমিক পর্যায়ের ওরাল ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে, তাই দ্রুত টিস্যু বায়োপসি করানো প্রয়োজন।

২. গলার স্বরের পরিবর্তন বা খসখসে ভাব

ঠাণ্ডা লাগলে বা সংক্রমণের কারণে সাময়িকভাবে গলার স্বর বদলে যেতে পারে। কিন্তু যদি গলার স্বরের এই কর্কশ বা খসখসে ভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে যারা ধূমপান বা তামাক সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। ল্যারিঙ্গোস্কোপিক পরীক্ষার মাধ্যমে কণ্ঠনালি বা গলার ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসার ফলাফল খুব ভালো হয়।

৩. ঘাড়ের কাছে ফোলা ভাব বা চাকা

ঘাড়ে কোনো পিণ্ড বা চাকা অনুভব করা এই ক্যানসারের অন্যতম বড় লক্ষণ। তবে ডা. মালহোত্রা সতর্ক করেছেন যে, ঘাড়ে চাকা হওয়া সাধারণত ক্যানসারের প্রাথমিক নয়, বরং কিছুটা পরের দিকের লক্ষণ। অনেক ক্ষেত্রে এটি নির্দেশ করে যে ক্যানসার ইতোমধ্যে লিম্ফ নোড বা লসিকা গ্রন্থিতে ছড়িয়ে পড়েছে, যা সাধারণত রোগের তৃতীয় পর্যায় (Stage 3) বা তার পরবর্তী অবস্থা। তাই কেবল ঘাড়ে ফোলা ভাব হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে ওপরের অন্য লক্ষণগুলো দেখা দিলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

আধুনিক চিকিৎসা ও আশার আলো

বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতির ফলে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। ডা. মালহোত্রা জানান, রোবোটিক এবং লেজার-অ্যাসিস্টড সার্জারির মতো উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে এখন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে টিউমার অপসারণ করা সম্ভব। এতে রোগীর কথা বলা বা খাবার গিলে ফেলার মতো জরুরি শারীরিক কাজগুলো ব্যাহত হয় না এবং সুস্থ হওয়ার হারও অনেক বেশি।

বিশেষজ্ঞের শেষ কথা: ঘাড়ের পিণ্ড বা চাকা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। মুখের দীর্ঘস্থায়ী ঘা বা কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনই হতে পারে আপনার জন্য প্রথম সতর্কবার্তা। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে জীবন বাঁচানো অনেক সহজ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow