মানিলন্ডারিং অনুসন্ধানে সিআইডির তলব, কার্যকর হয়নি মাঠপর্যায়ে

আইনের কঠোর নজরদারিতে আর্থিক অপরাধ দমনে যখন আরও দৃশ্যমান হওয়ার কথা, ঠিক তখনই মানিলন্ডারিং অনুসন্ধানে প্রশাসনিক শৈথিল্যের গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুরু হওয়া একটি সংবেদনশীল অনুসন্ধানে তলবপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট মেহেরপুর সদর থানা।  বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নোটিশ কার্যকর না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে তদন্তের স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং আইন প্রয়োগের বাস্তবতা নিয়ে। বিষয়টি এখন কেবল একটি তলব অমান্যের ঘটনা নয়, বরং তা রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। কালবেলার হাতে আসা সিআইডি তলবের চিঠি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত একটি অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে গতবছর ৯ ডিসেম্বর জারি করা বিএফআইইউ’র স্মারক নম্বর বিএফআইইউ (অ্যানালাইসিস)/ইন্টেল/২০২৫/০১১১ অন

মানিলন্ডারিং অনুসন্ধানে সিআইডির তলব, কার্যকর হয়নি মাঠপর্যায়ে

আইনের কঠোর নজরদারিতে আর্থিক অপরাধ দমনে যখন আরও দৃশ্যমান হওয়ার কথা, ঠিক তখনই মানিলন্ডারিং অনুসন্ধানে প্রশাসনিক শৈথিল্যের গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুরু হওয়া একটি সংবেদনশীল অনুসন্ধানে তলবপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট মেহেরপুর সদর থানা। 

বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নোটিশ কার্যকর না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে তদন্তের স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং আইন প্রয়োগের বাস্তবতা নিয়ে। বিষয়টি এখন কেবল একটি তলব অমান্যের ঘটনা নয়, বরং তা রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।

কালবেলার হাতে আসা সিআইডি তলবের চিঠি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত একটি অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে গতবছর ৯ ডিসেম্বর জারি করা বিএফআইইউ’র স্মারক নম্বর বিএফআইইউ (অ্যানালাইসিস)/ইন্টেল/২০২৫/০১১১ অনুযায়ী তদন্তে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকার অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি সিআইডি থেকে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নিকট ফ্যাক্সে বার্তার মাধ্যমে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তদন্তের স্বার্থে মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নের বাসিন্দা ইমরান খান ওরফে তুষারকে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকার মালিবাগে অবস্থিত সিআইডি সদর দপ্তরের সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস ইউনিটে হাজির করাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ঢাকা সিআইডির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে তলব কার্যকর করার কোনো লিখিত প্রমাণ বা নোটিশ জারির স্বীকৃতি তাদের দপ্তরে পৌঁছেনি। ফলে তদন্ত কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জানতে তলবপ্রাপ্ত ব্যক্তির মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ স্থাপন সম্ভব হয়নি। 

অন্যদিকে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, চিঠি জারি করা হয়েছিল। তবে নোটিশ জারির অফিস কপি বা লিখিত রেকর্ড দেখাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তিনি বলেন, নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ইউনিট থেকে আসা চিঠির মধ্যে নির্দিষ্ট একটি নোটিশের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া কঠিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাইবার অপরাধ তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার ইউনিটের অধীন সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) থেকেও ইমরান খান ওরফে তুষারকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬০ ধারায় হাজির হতে বলা হয়। সেখানে অনুপস্থিত থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন শাখার একাধিক সূত্র জানায়, তলব সংক্রান্ত কোনো একনলেজমেন্ট না পাওয়ায় বিষয়টি তদন্তের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। তদন্তাধীন থাকার কারণে তারা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিলুর রহমান খান বলেন, তলব বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় দিনমজুর ও রংমিস্ত্রির কাজ করা ইমরান খান ওরফে তুষার অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক হন। অভিযোগ রয়েছে, এলাকায় একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে তিনি আত্মগোপনে যান এবং পরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি একটি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের (টিম ক্যাশ) ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত এবং নিজ এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও খুলেছেন।

এ ছাড়া সম্প্রতি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের করা একটি সাইবার অপরাধ মামলাতেও তিনি এজাহারভুক্ত আসামি।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow