মানুষের হক নষ্টের পরিণতি
প্রত্যেক মনুষের ওপর অন্য মানুষের হক রয়েছে। এসব হক ও অধিকার রক্ষায় যেমন অফুরন্ত সওয়াব, তেমনি এসব নষ্ট করলে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। মানুষের অধিকাংশ পাপের শাস্তি হবে পরকালে। তবে কিছু পাপের শাস্তি দুনিয়ায়ও ভোগ করতে হয়। আল্লাহর হক নষ্ট করলে এর শাস্তি পরকালে অবশ্যই ভোগ করতে হবে। কিন্তু মানুষের হক আদায়ের শাস্তি পরকালে যেমন হবে, দুনিয়ায়ও ভোগ করতে হবে। দুনিয়ায় শাস্তি এলে কেবল পাপীর ওপর আসে না; অনেক সময় তা পুরো সমাজ বা রাষ্ট্রের ওপর চলে আসে সেই শাস্তি। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কোনো জাতির মধ্যে আত্মসাৎ বৃদ্ধি পেলে সে জাতির লোকদের অন্তরে ভয়ের সঞ্চার করা হয়। কোনো জাতির মধ্যে ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়লে সেখানে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়। কোনো সম্প্রদায়ের লোকেরা পরিমাপ ও ওজনে কম দিলে তাদের রিজিক সংকুচিত করা হয়। কোনো জাতির লোকেরা অন্যায়ভাবে বিচার-ফয়সালা করলে তাদের মধ্যে রক্তপাত বিস্তৃতি লাভ করে। কোনো জাতি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে আল্লাহ তাদের ওপর শত্রুদল চাপিয়ে দেন।’ (মুয়াত্তা মালেক : ১৩২৩)। হাদিস থেকে বুঝে আসে, এসব বিষয়ের শাস্তির অংশ মানুষ পার্থিব জীবনেও ভোগ করবে। আর
প্রত্যেক মনুষের ওপর অন্য মানুষের হক রয়েছে। এসব হক ও অধিকার রক্ষায় যেমন অফুরন্ত সওয়াব, তেমনি এসব নষ্ট করলে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। মানুষের অধিকাংশ পাপের শাস্তি হবে পরকালে। তবে কিছু পাপের শাস্তি দুনিয়ায়ও ভোগ করতে হয়। আল্লাহর হক নষ্ট করলে এর শাস্তি পরকালে অবশ্যই ভোগ করতে হবে। কিন্তু মানুষের হক আদায়ের শাস্তি পরকালে যেমন হবে, দুনিয়ায়ও ভোগ করতে হবে। দুনিয়ায় শাস্তি এলে কেবল পাপীর ওপর আসে না; অনেক সময় তা পুরো সমাজ বা রাষ্ট্রের ওপর চলে আসে সেই শাস্তি। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কোনো জাতির মধ্যে আত্মসাৎ বৃদ্ধি পেলে সে জাতির লোকদের অন্তরে ভয়ের সঞ্চার করা হয়। কোনো জাতির মধ্যে ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়লে সেখানে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়। কোনো সম্প্রদায়ের লোকেরা পরিমাপ ও ওজনে কম দিলে তাদের রিজিক সংকুচিত করা হয়। কোনো জাতির লোকেরা অন্যায়ভাবে বিচার-ফয়সালা করলে তাদের মধ্যে রক্তপাত বিস্তৃতি লাভ করে। কোনো জাতি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে আল্লাহ তাদের ওপর শত্রুদল চাপিয়ে দেন।’ (মুয়াত্তা মালেক : ১৩২৩)। হাদিস থেকে বুঝে আসে, এসব বিষয়ের শাস্তির অংশ মানুষ পার্থিব জীবনেও ভোগ করবে। আর শাস্তির ধরন নানা রকম হয়ে থাকে। কারও অসুস্থতার মাধ্যমে, কাউকে অসহায়ত্বের মাধ্যমে, কারও আবার ঈমান হরণের মাধ্যমে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়।
ব্যভিচারের শাস্তি: ব্যভিচারের শাস্তি ভয়াবহ। হাদিসে এসেছে, ‘কোনো মানুষ যখন ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন তার ভেতর থেকে ঈমান বেরিয়ে যায় এবং এটি তার মাথার ওপর মেঘখণ্ডের মতো ভাসতে থাকে। অতঃপর সে যখন তাওবা করে, তখন ঈমান আবার তার কাছে ফিরে আসে।’ (আবু দাউদ: ৪৬৯০)। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তীও হয়ো না। কারণ তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ।’ (সুরা বনি ইসরাঈল: ৩২)।
ওজনে কম দেওয়া শাস্তি: পরিমাপে ও ওজনে কম দেওয়া নিষেধ। এটি জঘন্যতম খেয়ানত ও কবিরা গোনাহ। এর ফলে আল্লাহ মানুষের ক্ষেতখামারে ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দেন ও দুর্ভিক্ষ অবতীর্ণ করেন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা মাপে কম দেয়, যারা মানুষের কাছ থেকে ওজন করে নেওয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে, আর যখন মানুষকে মেপে কিংবা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।’ (সুরা মুতাফফিফিন : ১-৩)।
মা-বাবার অবাধ্যতার শাস্তি: সন্তানের জন্য দুনিয়ায় জান্নাত এবং জাহান্নাম হচ্ছেন মা-বাবা। যে ব্যক্তি মা-বাবার হক আদায় করতে পারবে, সে দুনিয়াতেই পাবে জান্নাতের সুঘ্রাণ। আর যে ব্যক্তি মা-বাবার সঙ্গে খারাপ আচরণ করবে, দুনিয়ায়ই তার জন্য জাহান্নাম। মৃত্যুর আগে অবশ্যই সে ব্যক্তি মা-বাবার অবাধ্যতার শাস্তি ভোগ করবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা. ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক! ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক! ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক! জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন ব্যক্তি ইয়া রাসুলুল্লাহ? উত্তরে নবীজি বললেন, যে তার বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে পেল অথবা তাদের একজনকে পেল; কিন্তু তাদের খেদমত করে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।’ (মুসলিম : ২/৩১৪)।
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শাস্তি: কারও সঙ্গে প্রতিশ্রুতি করলে তা পূরণ করা আবশ্যক। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা নিষেধ ও কবিরা গোনাহ। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা অঙ্গীকার পূরণ করো। কেননা, প্রতিশ্রুতি পূরণের বিষয়ে তোমাদের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হবে।’ (সুরা বনি ইসরাঈল: ৩৪)। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার মধ্যে ঈমান নেই। অনুরূপ যে ব্যক্তি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না, তার মধ্যে দ্বীন নেই।’ (মেশকাত: ১৫)।
জুলুম করার শাস্তি: কারও প্রতি অন্যায় ও জুলুম এমন অপরাধ, পরকালে তো এর জন্য আজাব রয়েছেই, দুনিয়াতেও রয়েছে কঠিন পরিণাম। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তুমি মজলুমের ফরিয়াদকে ভয় করো। কেননা, তার ফরিয়াদের মাঝে এবং আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।’ (বোখারি : ২২৮৬)। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমান ভাইয়ের প্রতি মানসম্মান বা অন্য কোনো বিষয়ে জুলুম করে, তবে সে যেন তার কাছ থেকে সেদিন আসার আগে আজই মাফ করিয়ে নেয়, যেদিন তার কাছে দেরহাম ও দিনার কিছুই থাকবে না। সেদিন তার কাছে যদি কোনো আমল থাকে, তবে তার জুলুম পরিমাণ নেকি নিয়ে নেওয়া হবে। আর তার কাছে নেকিও না থাকলে মজলুম ব্যক্তির গোনাহগুলো তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।’ (মেশকাত : ৪৮৯৯)। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘আমি আদ ও সামুদকে ধ্বংস করে দিয়েছি। তাদের বাড়িঘরই তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট প্রমাণ। শয়তান তাদের কাজকে তাদের সামনে আকর্ষণীয় করে রেখেছিল। অথচ তারা নিদারুণ বিচক্ষণ ছিল। কারুন, ফেরাউন এবং হামানকেও (ধ্বংস করেছি)।’ (সূরা আনকাবুত: ৩৮-৩৯)।
লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক
What's Your Reaction?