জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার ২৪তম সাক্ষী দিয়েছেন শহীদ আবদুর রাজ্জাক রুবেলের মা হোসনে আরা বেগম।
তিনি বলেন, হাসিনা লোক দিয়ে আমার ছেলেকে মেরেছে। আওয়ামী লীগ নেতা সালাহউদ্দিন তাকে দুটো গুলি করেছে। অন্যরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। কত কষ্ট দিয়ে আমার একমাত্র ছেলেটাকে মেরে ফেলেছে। ওর পাঁচ বছরের একটা মেয়ে আছে। নাতনিটা সারাক্ষণ বাবার জন্য কাঁদে। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমাদের নেই।’
সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর ডায়াসে দাঁড়িয়ে এভাবেই ছেলে হত্যার বর্ণনা তুলে ধরে হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে যখন শহীদ হয়, তখন তার স্ত্রী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলো। বর্তমানে আমার নাতির বয়স ১১ মাস চলছে।’
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে জবানবন্দি ও জেরার বিষয়ে শুনানি হয়।
ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জবানবন্দিতে হোসনে আরা বলেন, ‘আমার চার মেয়ে। রুবেলই একমাত্র ছেলে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকাল ১০টায় নাস্তা খেয়ে আন্দোলনে যোগ দিতে বাসা থেকে বের হয় রুবেল। দুপুর দেড়টার দিকে দেবিদ্বার থানাধীন বানিয়াপাড়া আজগর আলী স্কুলের কাছে রুবেল আহত হয়েছে বলে খবর পাই। এরপর সেখানে গিয়ে দেখি দুজন নারী কাঁদছেন। রাস্তায় প্রচুর রক্ত দেখতে পাই। সেখান থেকে আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগে থেকেই হোসনে আরার ছেলের বউ ও চার মেয়ে ছিলেন। তবে তিনি যেতেই ছেলের মৃত্যুর খবর দেন উপস্থিত লোকজন। ছেলের লাশ একনজর দেখেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান হোসনে আরা। পরে ছেলের বউসহ মেয়েরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যান।
জবানবন্দিতে রুবেলের মা বলেন, ‘ওই দিন রাত ৯টায় আমাকে থানায় ডেকে নেন এসআই নয়ন। ময়নাতদন্তের জন্য একটি কাগজে সই নেন তিনি। থানায় আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমানও ছিলেন। তিনি আমাকে বলেন- ‘নগদ সাত লাখ টাকা দিচ্ছি। দুটো দোকান দিচ্ছি। ছেলের বউ নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবেন। মামলা করার দরকার নেই’। তবে আমি তার প্রস্তাবে রাজি হইনি।
তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে রুবেলের লাশ বাড়িতে আনা হয়। পরে জানাজা শেষে বেলা ২টায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তবে আমার ছেলে যখন শহীদ হয়, তখন তার স্ত্রী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। বর্তমানে আমার নাতির বয়স ১১ মাস।
হোসনে আরা বলেন, আমার ছেলে ছিল বাসচালক। তার উপার্জনে আমাদের সংসার চলতো। কিন্তু ছেলে এখন আর নেই। আমরা এখন কীভাবে চলি তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।
এসময় ছেলেকে হত্যার দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসি চেয়েছেন তিনি।
এফএইচ/এনএইচআর/জেআইএম