মালয়েশিয়ায় নির্যাতিত প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি

মালয়েশিয়ায় নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফেরত আসা শত শত বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি আবেদন জানানো হয়েছে। মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক (এমডব্লিউএন)-এর পক্ষ থেকে সোমবার ২৭ এপ্রিল সকালে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর কাছে এই আবেদন করা হয়। আবেদনে বলা হয়, বৈধ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গমন করা বহু শ্রমিক সেখানে গিয়ে চরম শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হন। তাদের অনেকেই জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার), আধুনিক দাসত্ব, বেতন বকেয়া, পাসপোর্ট জব্দ, অবৈধভাবে চলাচল সীমাবদ্ধকরণসহ অমানবিক জীবনযাপনে বাধ্য হন। বিশেষ করে মেডিসেরাম এসডিএন বিএইচডি এবং কাওয়াগুচি ম্যানুফ্যাকচারিং এসডিএন বিএইচডি কোম্পানিতে কর্মরত শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে এসব নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো হয়। সংগঠনটির অভিযোগ, মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এসব শ্রমিকদের সুরক্ষা, আইনি সহায়তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা

মালয়েশিয়ায় নির্যাতিত প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি

মালয়েশিয়ায় নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফেরত আসা শত শত বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি আবেদন জানানো হয়েছে।

মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক (এমডব্লিউএন)-এর পক্ষ থেকে সোমবার ২৭ এপ্রিল সকালে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর কাছে এই আবেদন করা হয়।

আবেদনে বলা হয়, বৈধ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গমন করা বহু শ্রমিক সেখানে গিয়ে চরম শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হন। তাদের অনেকেই জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার), আধুনিক দাসত্ব, বেতন বকেয়া, পাসপোর্ট জব্দ, অবৈধভাবে চলাচল সীমাবদ্ধকরণসহ অমানবিক জীবনযাপনে বাধ্য হন।

বিশেষ করে মেডিসেরাম এসডিএন বিএইচডি এবং কাওয়াগুচি ম্যানুফ্যাকচারিং এসডিএন বিএইচডি কোম্পানিতে কর্মরত শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে এসব নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

সংগঠনটির অভিযোগ, মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এসব শ্রমিকদের সুরক্ষা, আইনি সহায়তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশে ফেরার পর এসব শ্রমিক চরম আর্থিক সংকট, ঋণের বোঝা, মানসিক ট্রমা ও সামাজিক অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। যদিও আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএম-এর কিছু সীমিত সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তা মোট ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে উল্লেখ করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে এম-ডব্লিউ-এন সরকারের কাছে ১০ দফা জরুরি দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ভুক্তভোগী শ্রমিকের বকেয়া বেতন অবিলম্বে পরিশোধ, জোরপূর্বক শ্রম ও নির্যাতনের জন্য আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান, জব্দ করা পাসপোর্ট দ্রুত ফেরত, কালো তালিকা বাতিল করে পুনরায় বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য কার্যকর পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ।

এছাড়া ভবিষ্যতে শূন্য খরচে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও রিক্রুটমেন্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ, অভিযোগ ব্যবস্থার সংস্কার, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং অভিবাসন নীতি প্রণয়নে শ্রমিক সংগঠন ও ভুক্তভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রবাসী শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। অথচ বিদেশে তারাই চরম অবহেলা, নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর একই বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow